সম্পদ তৈরির প্রথম ধাপই হল সঠিক আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, এবং তার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন ফান্ড নির্বাচন করা। বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই নিজেদের ইনভেস্টমেন্ট পোর্টফোলিওর জন্য সচেতনভাবে ফান্ড নির্বাচন করা উচিত এবং লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন তাঁদের বিনিয়োগ উদ্দেশ্যের সঙ্গে ফান্ডটি মানানসই কিনা।
আপনার মিউচ্যুয়াল ফান্ডের পোর্টফোলিও যদি সঠিকভাবে ডাইভারসিফায়েড থাকে, তাহলে বিনিয়োগের রিটার্ন ধারাবাহিক এবং স্টেবল থাকে; এবং এর পাশাপাশি ঝুঁকিও নিয়ন্ত্রণে থাকে। আজকে আমরা আলোচনা করব কীভাবে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পোর্টফোলিও তৈরি করা যায় এবং তৈরির কৌশল কী।
প্রথম ধাপ: প্রথমেই বুঝতে হবে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের পোর্টফোলিওতে ঠিক কী দরকার। আপনার বিনিয়োগ লক্ষ্য কী সেটি বোঝা প্রয়োজন, যেমন – আপনার লক্ষ্য কি দীর্ঘমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি নাকি স্বল্পমেয়াদি? আপনি যদি বিনিয়োগ লক্ষ্য জানেন তাহলে পোর্টফোলিওর জন্য ফান্ড বাছাই সহজ হবে। এরপর আপনার ঝুঁকি গ্রহণ ক্ষমতা কতটা তা জানা দরকার। আপনার আয় কত, বয়স কত সেই অনুযায়ী আপনার পোর্টফোলিওর জন্য মিউচ্যুয়াল ফান্ড নির্বাচন করা প্রয়োজন।
দ্বিতীয় ধাপ: এর পরবর্তী ধাপ হল নিজের লক্ষ্য ও ঝুঁকি বোঝার পর আপনাকে লক্ষ্য ও ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে পোর্টফোলিও তৈরি করতে হবে। বিভিন্ন ধরনের ফান্ড উপস্থিত। আমরা সেইরকমই কয়েকটি নিয়ে আলোচনা করছি:
→ Equity fund: বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ফান্ড। Equity fund-কে আবার লার্জ ক্যাপ, মিডক্যাপ এবং স্মল ক্যাপ ফান্ড ভাগ করা হয়।
→ Passive fund: প্যাসিভ ফান্ড ইক্যুইটি ফান্ডের তুলনায় কম ঝুঁকি-সম্পন্ন কারণ এটি কেবলমাত্র বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সকে ট্র্যাক করে। এদের খরচ কম এবং ঝুঁকিও কম। ইনডেক্স ফান্ড এবং ETF এই ক্যাটাগরিতে পড়ে।
→ Flexi cap fund: বিভিন্ন মার্কেট ক্যাপে flexible investment-এর সুবিধা দেয়।
→ Multi cap fund: এখানেও বিভিন্ন মার্কেট ক্যাপে বিনিয়োগ করা হয় তবে flexicap-এর মতো flexibility নেই।
→ Debt fund: এগুলি অনেকটা fixed income instrument-এর মতো যেখানে স্থির আয়ের সুযোগ রয়েছে। ঝুঁকি কম থাকায় রিটার্নও কম।
তৃতীয় ধাপ: আপনি ফান্ড ক্যাটাগরির মধ্যে ঠিকভাবে নির্বাচন করতে না পারেন, তাহলে সাধারণ কৌশল মেনে কম ঝুঁকিপূর্ণ ফান্ড নির্বাচন করতে পারেন। যেমন–
→ Passive fund: খরচ কম। ডাইভারসিফায়েড বিনিয়োগের সুযোগ দেয় এবং market index-কে ট্র্যাক করে।
→ Flexi cap fund: এই ফান্ডে, ফান্ড ম্যানেজার বাজার পরিস্থিতি, স্টকের growth, ইত্যাদি বুঝে বিভিন্ন মার্কেট ক্যাপের মধ্যে ফ্লেক্সিবলভাবে বিনিয়োগ করতে পারেন।
চতুর্থ ধাপ: সঠিক ফান্ড নির্বাচনের সময়ই আপনাকে দেখতে হবে ফান্ডটি ডাইরেক্ট নাকি রেগুলার প্ল্যানের অন্তর্গত। জানিয়ে রাখি, ডাইরেক্ট প্ল্যান হল সেই সব মিউচ্যুয়াল ফান্ড যা সরাসরি কোম্পানি অর্থাৎ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি থেকে কেনা হয়। ফলে এর কোনো ব্রোকারেজ ফি লাগে না এবং expense ratio-ও কম হয়। অন্যদিকে রেগুলার প্ল্যান হল সেইসব মিউচ্যুয়াল ফান্ড যেগুলি কোনো agent বা distributor-এর মাধ্যমে কেনা হয়। ফলে স্বভাবতই এর খরচ বেশি হয়। ফান্ড নির্বাচনের সময়ে অবশ্যই direct plan নির্বাচন করা উচিত।
পঞ্চম ধাপ: এরপর আপনাকে স্থির করতে হবে আপনি কী উপায়ে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করবেন।
→ Lumpsum: একেবারেই বড় অঙ্ক জমা করাকে lumpsum investment বলা হয়। মূলত যাঁরা মার্কেট পরিস্থিতি বুঝে বিনিয়োগ করতে চান, অর্থাৎ মার্কেটের পরিস্থিতির সুযোগে বেশি মুনাফা অর্জন করতে চান, তাঁদের জন্য lumpsum বিনিয়োগ উপযোগী।
→ SIP: SIP বা Systematic Investment Plan-এ নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। ফলে এখানে বাজার পরিস্থিতি দেখার প্রয়োজন পড়ে না কারণ rupee-cost average-এর সুবিধা SIP-তে পাওয়া যায়।
এছাড়াও আরও দুটি পদ্ধতি রয়েছে যার মাধ্যমে ফান্ড উইথড্র এবং ট্রান্সফার করার সুযোগ থাকে। যেমন –
→ STP: Systematic Transfer Plan-এর মাধ্যমে একই ফান্ড হাউসের দুটি ফান্ডের মধ্যে ফান্ড ট্রান্সফার করার সুযোগ আছে। এতে সম্ভাব্য বৃদ্ধি ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এই দুটি বিষয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা যায়।
→ SWP: Systematic Withdraw Plan হল একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পরপর ফান্ড থেকে টাকা withdraw করা যায় এবং এটি নিয়মিত আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করে।
উপরোক্ত ধাপগুলি মেনে চলার পর নিয়মিত পোর্টফোলিও-র ফান্ডগুলি রিভিউ করুন এবং মার্কেট পরিস্থিতি বা বিনিয়োগ লক্ষ্যে কোনোরকম পরিবর্তন হলে সেই অনুযায়ী ফান্ডে rebalancing অবশ্যই করুন।





