Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের হাউস হোল্ড ওয়েলথ (আর্থিক সম্পদ) এবার সঞ্চয় হিসেবে ব্যাংক ডিপোজিটে জমা থাকার ধারা বদলাচ্ছে। এখানে দেখা যাচ্ছে মানুষ বাজার-সংযুক্ত বিনিয়োগ বিকল্পগুলোতে যেমন – মিউচ্যুয়াল ফান্ড, PMS ও AIFs-এ তাদের অর্থস্থানান্তর করছে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও CEO ভি. বৈদ্যনাথন বলেছেন, ভারতের পরিবারগুলি এখন আর শুধুই ব্যাংক ডিপোজিটেই সঞ্চয় রাখতে চান না। তারা বিভিন্ন ফিন্যান্সিয়াল ইনস্ট্রুমেন্টে বিনিয়োগের মাধ্যমে উচ্চ রিটার্ন আশা করছেন।
আবার ইন্ডাসস্ট্রি পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই পরিবর্তন একটি বড় অর্থনৈতিক প্রবণতা নির্দেশ করে। গত কয়েক বছরে বাজার-ভিত্তিক বিনিয়োগে মানুষের আগ্রহ নিশ্চিত ভাবেই বেড়েছে। কারণ মিউচ্যুয়াল ফান্ড, অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডস (AIFs) এবং পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস (PMS)-এর মতো বিকল্প গুলোতে আকর্ষনীয় রিটার্নের সম্ভাবনা অন্যান্য সেভিংস ইনস্ট্রুমেন্টে তুলনায় বেশি। বৈদ্যনাথ জানান, বর্তমান সময়ে দেশের হাউসহোল্ড ওয়েলথের মোট মূল্য প্রায় ১৯.৩ ট্রিলিয়ন ডলার। যার উল্লেখযোগ্য অংশ এখন ব্যাংক ডিপোজিট থেকে বের করে বিনিয়োগের বিভিন্ন বিকল্পে সরিয়ে নিচ্ছে।
তবে তিনি এটাও জানান যে ব্যাংক ডিপোজিট এখনো ডোমেস্টিক সেভিংসের বড় অংশ ধরে রেখেছে। অর্থাৎ মানুষের মধ্যে রিক্স-টলারেন্স সম্পন্ন বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহ বাড়লেও নিরাপদ ডিপোজিটের গুরুত্ব কমে যায়নি। যা নির্দেশ করে যে সাধারণ বিনিয়োগকারীর মানসিকতা পরিবর্তনের পাশাপাশি তারা ঝুঁকি ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে। ১৫০ লক্ষ কোটি টাকা সঞ্চয় এখনও শুধু ব্যাংক ডিপোজিট হিসাবে রাখা হয়েছে, যা দেখায় ব্যাংকিং সিস্টেমের ভূমিকা এখনও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। প্রথমত, গত কিছু বছর ধরেই বাজারের রিটার্ণ তুলনামূলকভাবে আকর্ষনীয় রূপ নিয়েছে, বিশেষ করে ইক্যুইটি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডে। কোভিড পরবর্তী সময়ে ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা সরল ও ডিজিটাল বিনিয়োগ অ্যাপ্লিকেশন এবং SIP-এর মতো সুবিধাগুলোর মাধ্যমে মার্কেট রিলেটেড ইনস্ট্রুমেন্টে বিনিয়োগ করা শুরু করেছে। এর ফলে নতুন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া শিক্ষা ও আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধিও মানুষকে কেবল ব্যাংকে FD বা ফিক্সড ডিপোজিটে না রেখে বিকল্প বিনিয়োগ পন্থা খুঁজতে প্রেরণা দিচ্ছে।




