ভারতীয় শেয়ার বাজারে গত কয়েকমাস ধরে চলছে প্রবল ভোলাটিলিটি। সেই আবহে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে রয়েছেন দুশ্চিন্তার মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে আলাদা আলাদা শেয়ারের তুলনায় মিউচ্যুয়াল ফান্ড বেশি সুরক্ষিত। তবে এইরকম অস্থির পরিস্থিতিতে মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকেও মিলছে নেগেটিভ রিটার্ন। ফলে ভবিষ্যতের ভোলাটিলিটির কথা ভেবে স্মল ক্যাপ ফান্ডে বিনিয়োগ ঠিক কতটা নিরাপদ? সেই নিয়েই করব আজকের আলোচনা।
মিউচ্যুয়াল ফান্ড স্কিমগুলি সম্পর্কে SEBI-র নির্দেশ অনুযায়ী, স্মল ক্যাপ মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোকে তাদের মোট অ্যাসেটের 65% স্মল ক্যাপ স্টকে বিনিয়োগ করতে হয়। ফলে এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে অ্যাসেটের 65% লার্জ ক্যাপ ফান্ডের তুলনায় কম লিক্যুইড। কারণ ধরে নেওয়া হয়, যেহেতু স্মল ক্যাপ স্টকের লেনদেন লার্জ ক্যাপের তুলনায় কম হয়, তাই লার্জ ক্যাপ ফান্ডের তুলনায় এগুলি কম লিক্যুইড হয়।
স্মল ক্যাপ ফান্ড তুলনায় বেশি ভোলাটাইল হলেও লার্জ ক্যাপের তুলনায় এদের রিটার্ন বেশি হয়। এর ফলে বিগত কয়েক বছরে এই ধরনের ফান্ডে রিটেল ইনভেস্টমেন্ট বেড়েছে এবং ফলস্বরূপ স্মল ক্যাপ ফান্ডের ভ্যালুয়েশনও বেড়েছে। সেই কারণে ভোলাটিলিটির বিষয়টি মাথায় রেখে স্মল ক্যাপ ফান্ডে বিনিয়োগ করতে চাইলে অবশ্যই আগে স্ট্রেস টেস্ট করা প্রয়োজন।
স্ট্রেস টেস্ট কী?
মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে স্ট্রেস টেস্ট হল একটি computer-simulated অ্যানালাইসিস যা দেখায় যে, কঠিন মার্কেট পরিস্থিতিতে কোনো ফান্ডের অ্যাসেট ও ইনভেস্টমেন্ট কৌশল কেমন পারফর্ম করে। এই টেস্টের ফলে বিনিয়োগকারীরা বুঝতে পারেন মার্কেটের ওঠানামার মুহূর্তেও কোনো ফান্ড কেমন পারফর্ম করবে এবং ফান্ডটি কতটা ঝুঁকিবহ। ক্যাপিটাল মার্কেটে একটি নিয়ম জারি হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে ২০২৪ সালের মার্চ থেকে সমস্ত স্মল ও মিড ক্যাপ ফান্ড স্কিমগুলি অবশ্যই নিজেদের স্ট্রেস টেস্টের ফলাফল জানাবে। ক্যাপিটাল মার্কেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (SEBI)-র তরফ থেকে জানানো হয়েছে প্রতিটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে নিজেদের স্ট্রেস টেস্টের ফলাফল প্রকাশ করবে। আর এই ফলাফলের ভিত্তি হবে ঠিক তার আগের মাসের ডেটা।
স্ট্রেস টেস্টের এই তথ্য Association of Mutual Funds in India (AMFI)-এর ওয়েবসাইটে প্রতি মাসে প্রকাশ করা হয়। স্মল ও মিড ক্যাপের ভ্যালুয়েশন বিগত কয়েক বছরে অত্যধিক বেড়ে যাওয়ার ফলে এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। ফলে আপনি যদি কোনো ফান্ডের সাম্প্রতিকতম অর্থাৎ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের স্ট্রেস টেস্টের ডেটা দেখতে চান তাহলে জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখের তথ্য দেখতে হবে।
| Small Cap Funds | 50% portfolio | 25% portfolio |
| Nippon India Small Cap Fund | 33 | 17 |
| Quant Small Cap Fund | 73 | 36 |
| Motilal Oswal Small Cap Fund | 8 | 4 |
| UTI Small Cap Fund | 6 | 3 |
| JM Small Cap Fund | 1 | 1 |
| HDFC Small Cap Fund | 58 | 29 |
| Axis Small Cap Fund | 25 | 12 |
| DSP Small Cap Fund | 49 | 25 |
| SBI Small Cap Fund | 62 | 31 |
(Source : AMFI, data, Dec 2014, সম্পূর্ণ ফলাফল AMFI-এর ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।)
(এই স্ট্রেস টেস্টের রেজাল্ট দেখায় যে, স্ট্রেস কন্ডিশন বা কঠিন পরিস্থিতিতে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পোর্টফোলিওর 50% এবং 25% অংশ লিক্যুইডেট হতে কত দিন সময় লাগবে)
ডেটা অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, স্মল ক্যাপ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের 25% লিক্যুইডেট হতে সর্বাধিক ৩৬ দিন সময় লাগবে। আর অন্যদিকে স্মল ক্যাপ মিউচ্যুয়াল ফান্ড পোর্টফোলিওর 50% অংশ লিক্যুইডেট হতে সর্বাধিক ৭৩ দিন সময় লাগবে।
সুতরাং একটি ফান্ড বাজারের ভোলাটাইল সময় কেমন পারফর্ম করেছে বা আগামীতে কেমন ফলাফল করতে পারে সেটি জানা যাবে স্ট্রেস টেস্ট থেকে। বিনিয়োগের আগে এই তথ্যের মূল্যায়ন করতে ভুলবেন না।





