মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সহজতম উপায় হল SIP। ব্যাংকে স্ট্যান্ডিং ইনস্ট্রাকশন দেওয়া থাকলে একটি নির্দিষ্ট অ্যামাউন্ট নিজে থেকেই প্রতি মাসে সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে ডেবিট হয়ে যাবে। ফলে আপনাকে প্রতি মাসে মনে করে টাকা জমা করার ঝঞ্ঝাট পোহাতে হবে না। SIP ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের কাছে অধিক জনপ্রিয়তা পেয়েছে কারণ এটি ইনভেস্টমেন্ট খরচকে অ্যাভারেজ করে এবং নিয়মিত বিনিয়োগে উৎসাহ দেয়।
গত বছরের ডিসেম্বরে SIP-র monthly contribution প্রথমবার ২৬ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক পেরিয়েছে, যা প্রমাণ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদের বিনিয়োগের জন্য মিউচ্যুয়াল ফান্ডের প্রতি ভরসা বাড়িয়েছে। এই তথ্য প্রকল্প করেছে Association of Mutual Funds in India বা AMFI। নভেম্বর ২০২৪ সালে SIP কন্ট্রিবিউশন ছিল ২৫,৩২০ টাকা যা ডিসেম্বরে বেড়ে হয়েছে ২৬,৪৫৯ টাকা। এছাড়াও মিউচ্যুয়াল ফান্ড পোর্টফোলিও সংখ্যা নভেম্বরের ২২.০২ কোটির তুলনায় বেড়ে ডিসেম্বরে হয়েছে ২২.৫০ কোটি। এমনকি সারা বিশ্ব জুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা চললেও গত একবছরের তুলনায় ২০২৪ সালে month-wise SIP কন্ট্রিবিউশন 50% বেড়েছে।
আজকে আমরা আলোচনা করব এবং ক্যালকুলেট করে দেখব প্রতি মাসে কী পরিমাণ অর্থ SIP-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে ১ কোটির অ্যামাউন্টে পৌঁছানো সম্ভব।
প্রথমেই আমরা ধরে নেব অ্যাভারেজ রেট অফ রিটার্ন 12% এবং প্রতিবছর একজন ব্যক্তি 10% করে SIP অ্যামাউন্ট বাড়াবেন। আসুন দেখে নেওয়া যাক কত অ্যামাউন্ট বিনিয়োগ করলে কত দিনে ১ কোটির লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো যাবে।
প্রতি মাসে ১০০০ টাকা বিনিয়োগ
যদি আপনি প্রতিমাসে ১০০০ টাকা করে বিনিয়োগ করেন এবং 10% করে প্রতি বছর step up করেন এবং রিটার্ন গড়ে 12% ধরা হয়, তাহলে ৩১ বছর এইভাবেই টানা বিনিয়োগ করলে আপনার মোট corpus ১.০২ কোটির মতো হবে, যার মধ্যে আপনার বিনিয়োগ হবে ২১.৮৩ লাখ টাকা এবং বাকি অঙ্ক অর্থাৎ ৭৯.৯৫ লাখ টাকা আপনি পাবেন রিটার্ন হিসেবে।
প্রতি মাসে ২০০০ টাকা বিনিয়োগ
এবার যদি আপনি ১০০০ টাকার বদলে প্রতিমাসে ২০০০ টাকা করে বিনিয়োগ করেন তাহলে দেখা যাক ১ কোটি টাকা কত বছরে পৌঁছানো সম্ভব। 12% অ্যানুয়াল ইন্টারেস্ট, 10% step up করলে ২৭ বছরে আপনার মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ১.১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে আপনার বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ২৯.০৬ লাখ টাকা এবং বাকি ৮৫.৬৯ লাখ টাকা রিটার্ন পাবেন।
প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা বিনিয়োগ
বার্ষিক 10% step up বিকল্প বেছে যদি আপনি প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে জমা করেন তাহলে ২৪ বছরে আপনি ১.১০ কোটি টাকার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবেন। এই ২৪ বছরে আপনার বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ৩১.৮৬ লাখ টাকা এবং রিটার্ন পাবেন ৭৮.৬১ লাখ টাকা।
প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা বিনিয়োগ
বছরে 10% step up করা হলে এবং প্রতি মাসে যদি ৫০০০ টাকা বিনিয়োগ করা হয় তাহলে ২১ বছরে আপনি পৌঁছতে পারবেন ১.১৬ কোটি টাকার লক্ষ্যে। এই ২১ বছরে আপনার বিনিয়োগ হল ৩৮.৪০ লাখ টাকা এবং রিটার্ন পাবেন ৭৭.৯৬ লাখ টাকা।
প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা বিনিয়োগ
SIP অ্যামাউন্ট যদি প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা করা হয় এবং 12% রিটার্ন আশা করা যায় তাহলে মাত্র ১৬ বছরে আপনি ১.০৩ কোটি টাকা জমাতে পারবেন। প্রতিবছর step up করতে হবে 10%। এর মধ্যে আপনাকে বিনিয়োগ করতে হবে ৪৩.১৪ লাখ টাকা এবং ৬০.০৬ লাখ টাকা।
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে আপনি যদি SIP-র পরিমাণ বাড়াতে পারেন এবং প্রতি বছর step up করেন তাহলে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে আপনার অনেক কম সময় লাগবে। এখানে 12% রিটার্ন ধরা হচ্ছে যা ইক্যুইটি ফান্ডের ক্ষেত্রে ১০-১৫ বছরের মেয়াদে খুবই স্বাভাবিক ও সাধারণ একটি রিটার্ন। বাজার যদি ইতিবাচক থাকে তাহলে রিটার্ন এর থেকেও বেশি হতে পারে। সুতরাং বয়স কম থাকতে থাকতেই বিনিয়োগ করা শুরু করুন যাতে বিনিয়োগের অঙ্ক কম হলেও হাতে যথেষ্ট সময় থাকে লক্ষ্যে পৌঁছানোও ক্ষেত্রে।





