Article By – সুনন্দা সেন

২০২৬ সালে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারীদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ও নতুন সুযোগ—দু’টিই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সুদের হারের দিকনির্দেশনা নিয়ে ধোঁয়াশা, ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং একই সঙ্গে ভারতের তুলনামূলক শক্তিশালী অর্থনৈতিক বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ছে বিনিয়োগ কৌশলের উপর। এই পরিস্থিতিতে বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সালে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের কিছু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বাজারে অস্থিরতা বাড়ার সময় প্রথম যে ক্যাটাগরিটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়, তা হলো লার্জ ক্যাপ ফান্ড।
বড় ও প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলিতে বিনিয়োগ থাকায় এই ফান্ডগুলি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। ২০২৬ সালে মাঝেমধ্যেই বাজারে সংশোধনের আশঙ্কা থাকায়, লার্জ ক্যাপ ফান্ড অনেক বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওর ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর পাশাপাশি ফ্লেক্সি ক্যাপ ফান্ড ২০২৬ সালে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। এই ফান্ডগুলির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নমনীয়তা। বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী ফান্ড ম্যানেজার লার্জ, মিড বা স্মল ক্যাপ—যে কোনও সেগমেন্টে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে বা কমাতে পারেন। যখন অর্থনীতির বিভিন্ন সেক্টরে পর্যায়ক্রমে সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তখন এই ধরনের ফান্ড দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুবিধা দেয়।
মিড ক্যাপ ফান্ড নিয়েও ২০২৬ সালে আশাবাদী বাজার মহল। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, পরিকাঠামো খাতে বিনিয়োগ এবং উৎপাদন ক্ষেত্রের সম্প্রসারণের ফলে মাঝারি আকারের সংস্থাগুলির বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, এই ক্যাটাগরিতে ঝুঁকি বেশি থাকায় বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোনো জরুরি। বাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যে হাইব্রিড ফান্ড, বিশেষ করে ব্যালান্সড অ্যাডভান্টেজ ফান্ড, ২০২৬ সালে বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে। এই ফান্ডগুলি ইক্যুইটি ও ডেটের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে বিনিয়োগ করে এবং বাজারের ওঠানামা অনুযায়ী এক্সপোজার বদলায়। ফলে ঝুঁকি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ডেট ফান্ডের ক্ষেত্রেও বাছাই করা বিনিয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বল্পমেয়াদি ও উচ্চমানের ডেট ফান্ড, যেমন শর্ট ডিউরেশন বা কর্পোরেট বন্ড ফান্ড, ২০২৬ সালে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রিটার্ন দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যাঁরা মূলধন সুরক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাঁদের কাছে এই ক্যাটাগরি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ইনডেক্স ফান্ড ও ETF-এর জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। বাজারের সামগ্রিক বৃদ্ধিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কম এক্সপেন্স রেশিও থাকার কারণে এই ফান্ডগুলি ২০২৬ সালে বহু বিনিয়োগকারীর প্রথম পছন্দ হয়ে উঠতে পারে।




