Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে জুন মাসে বিনিয়োগকারীদের আচরণে বড় পরিবর্তন দেখা গেল। জুন মাসে ইক্যুইটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডে নিট বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। আগের মাসের তুলনায় এই বিনিয়োগ বেড়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনও অটুট রয়েছে। অন্যদিকে, ডেট বা ঋণভিত্তিক মিউচ্যুয়াল ফান্ড থেকে ১ লক্ষ কোটিরও বেশি টাকা নিট প্রত্যাহার বা রিডেমসান হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন এটি মূলত একটি মৌসুমি প্রবণতা। প্রতি ত্রৈমাসিকের শেষে অনেক কর্পোরেট সংস্থা ও বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী কর পরিশোধ, নগদ অর্থের প্রয়োজন এবং আর্থিক হিসাব মেলানোর জন্য ডেট ফান্ড থেকে টাকা তুলে নেন। ফলে এই বহিঃপ্রবাহকে বাজারে আতঙ্কের লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এদিকে, ইক্যুইটি ফান্ডে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। নিয়মিত SIP বা সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানের মাধ্যমে বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে।
পাশাপাশি ভারতের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি, কর্পোরেট সংস্থাগুলির আয় বৃদ্ধির প্রত্যাশা এবং দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্নের আশায় অনেকেই ইক্যুইটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে বেছে নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে বাজারে ওঠানামা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠনের ক্ষেত্রে ইক্যুইটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড এখনও অন্যতম জনপ্রিয় বিনিয়োগের মাধ্যম। তাই বাজারের সাময়িক অস্থিরতায় বিচলিত না হয়ে লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জুন মাসের এই তথ্য দেখাচ্ছে যে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা এখনও শক্তিশালী। ইক্যুইটি ফান্ডে ধারাবাহিক অর্থপ্রবাহ পুঁজিবাজারকে আরও গভীর ও স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, ডেট ফান্ড থেকে বড় অঙ্কের অর্থ প্রত্যাহার মূলত কর্পোরেট তারল্য বা লিক্যুইডিটি ব্যবস্থাপনার অংশ, যা আর্থিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক চক্রেরই প্রতিফলন। ফলে সামগ্রিকভাবে ভারতের মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভিত্তি এখনও মজবুত রয়েছে।




