শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে হলে মার্কেট ভোলাটিলিটি অর্থাৎ অস্থিরতা সম্পর্কে বোঝা প্রয়োজন। আপনি একজন ট্রেডার হোন বা একজন ইনভেস্টর, আপনাকে জানতে হবে শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন অর্থনীতি, রাজনীতি, বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ইত্যাদি একাধিক বিষয়ের জন্য ঘটতে পারে। শেয়ারের দামের পরিবর্তনের কারণে মার্কেটের ভোলাটিলিটি দেখা যায়। এটি খুব স্বাভাবিক একটি বিষয়। আজকে আমরা দেখে নেব মার্কেট ভোলাটিলিটি কী এবং কোন উপায়গুলি অবলম্বন করে মার্কেট ভোলাটিলিটি মোকাবিলা করা যায়।
শেয়ার বাজারের ভোলাটিলিটি কী?
বেশ কিছুটা সময় ধরে স্টকের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া বা হঠাৎ কমে আসাকে শেয়ার বাজারের ভোলাটিলিটি বলে। মার্কেট ভোলাটিলিটির মাধ্যমে বোঝা যায় প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে শেয়ারের দাম কতটা পরিবর্তিত হল বা মার্কেটের কী ধরনের পরিবর্তন হল। অর্থাৎ সহজে বললে দামের ওঠানামার পরিমাণ দেখায় মার্কেট ভোলাটিলিটি।
মার্কেট ভোলাটিলিটি মোকাবিলার কয়েকটি উপায়:
মার্কেট ভোলাটিলিটি সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সাধারণত এটি স্বল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয়। এবং মনে রাখা প্রয়োজন সাধারণত মার্কেট ভোলাটিলিটি মার্কেটের ভালো স্বাস্থ্যের ইঙ্গিত করে। এছাড়াও বিনিয়োগকারীরাও কম মূল্যে ভালো বিনিয়োগের সুযোগ পান। তবে একথাও সত্য যে মার্কেট ভোলাটিলিটি অর্থের প্রভূত ক্ষতি করে। দেখে নেওয়া যাক মার্কেট ভোলাটিলিটি মোকাবিলা করার কয়েকটি উপায় –
1. অ্যাসেট অ্যালোকেশন: ঝুঁকি ও রিটার্নের মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে সাহায্য করে অ্যাসেট অ্যালোকেশন। বিনিয়োগকারীরা নিজেদের লক্ষ্য ও ঝুঁকির প্রবণতা অনুযায়ী অ্যাসেট অ্যালোকেট করতে পারেন। অ্যাসেট অ্যালোকেশনের সাহায্যে পোর্টফোলিওর প্রতিটি অ্যাসেটে বিনিয়োগের অনুপাত নির্ধারণ করা হয় এবং এটি নির্ভর করে প্রত্যেক বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি গ্রহণ প্রবণতা, লক্ষ্য, বিনিয়োগের সময়কাল ইত্যাদি বিষয়ের ওপর।
2. রিব্যালেন্সিং: যে-কোনো পোর্টফোলিওতে সঠিক asset mix থাকা প্রয়োজন। Asset mix বলতে বোঝায় বেশি ঝুঁকির অ্যাসেটের পাশাপাশি কম ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের উপস্থিতি। এবং বাজার পরিস্থিতি পরিবর্তনের সাথে সাথে asset mix-এর rebalancing প্রয়োজন। এর ফলে বাজার খুব বেশি ভোলাটাইল হলে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট থেকে অ্যালোকেশন সরিয়ে liquid বা debt fund-এর মতো কম ঝুঁকির অ্যাসেটে rebalance করলে ঝুঁকির পরিমাণ কমে। সুতরাং মার্কেট ভোলাটিলিটির কথা মাথায় রেখে পোর্টফোলিওর রিব্যালেন্সিং প্রয়োজন।
3. ডাইভারসিটি: বাজার অস্থিরতার অর্থই হল অধিক ঝুঁকি। ফলে বাজার অস্থিরতা আয়ত্তে রাখতে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখার আরও একটি উপায় হল ডাইভারসিফিকেশন। আপনার বিনিয়োগ করা অর্থ ঝুঁকি অনুযায়ী আলাদা আলাদা অ্যাসেটে ডাইভারসিফাই আছে কিনা জানা প্রয়োজন। প্রচলিত একটি প্রবাদ অনুযায়ী যদি আপনি আপনার সমস্ত অর্থ একটিই অ্যাসেটে রাখেন তাহলে মার্কেটের ভোলাটিলিটি বা downturn-এর সময়ে অর্থের প্রচুর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই কারণে আলাদা আলাদা অ্যাসেটে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন যাতে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
4. Stop loss: মার্কেটের ভোলাটিলিটির সময়ে স্টপলস ফিচারটি ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। যখন বাজার খুব বেশি ভোলাটাইল থাকে এবং শেয়ারের দাম অত্যধিক ওঠানামা করে তখন ঝুঁকি কম রাখতে স্টপলস সেট করা একান্ত দরকার। স্টপলস ফিচারটিতে নির্দিষ্ট একটি দামে শেয়ারের দাম পৌঁছলে নিজে থেকেই শেয়ার বিক্রি হয়ে গিয়ে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখে।
5. Rupee-Cost average: সবশেষে মনে রাখা দরকার শেয়ার বাজারে নিয়মিত এবং দীর্ঘসময়ের জন্য বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। ফলে মার্কেট ভোলাটাইল হলে বিনিয়োগ করব না, এই ভাবনা দূরে রেখে নিয়মিত মার্কেটে বিনিয়োগ করে যেতে হয় যাতে rupee-cost average-এর সুবিধা পাওয়া যায়।
মার্কেট সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থেকে লক্ষ্য অনুযায়ী বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। মার্কেটের ওঠানামা বুঝে বিনিয়োগ করলে সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় এবং শেয়ারের বাজারের ঝুঁকি কম করা যায়।





