স্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করলেও সরাসরি শেয়ারে বিনিয়োগ অনেকেই করতে চান না, মূলত ঝুঁকি এবং অনভিজ্ঞতার কারণে। তবে শেয়ারের তুলনায় অনেক বেশি আকর্ষণীয় বিনিয়োগ হল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, নিজের কম ঝুঁকি এবং বেশি রিটার্ন প্রদানের কারণে। মোটামুটি ৩টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায় মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে— ইক্যুইটি, ডেট ও হাইব্রিড ফান্ড। খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য FD-র তুলনায় বেশি সুবিধাজনক হল ডেট ফান্ডে বিনিয়োগ করা কারণ FD-র তুলনায় বেশি রিটার্ন ও বেশ কিছু করের সুবিধা রয়েছে এই ফান্ডে। আজকের আলোচনায় আমরা ডেট ফান্ডের বিষয়ে জানব এবং জেনে নেব ডেট ফান্ড থেকে কখনও নেগেটিভ রিটার্নের সম্ভাবনা থাকে কিনা বা থাকলেও সেইসময় বিনিয়োগকারীদের কী করা উচিত?
Debt fund কী?
Debt fund-এর ফান্ড ম্যানেজার মূলত স্থির আয়ের সিকিউরিটি যেমন সরকারি, বেসরকারি বন্ড, ট্রেজারি বিল, কমার্শিয়াল পেপার ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করে। সেই কারণে ডেট ফান্ডকে বন্ড ফান্ড বা ইনকাম ফান্ডও বলা হয়। Equity fund-এর তুলনায় ঝুঁকি কম রয়েছে এই ফান্ডে এবং ধারাবাহিক আয়ের সুযোগ দেয় debt fund। অধিক ঝুঁকি নিতে পছন্দ করেন না এমন বিনিয়োগকারীদের জন্য আদর্শ এই ফান্ড। ডেট ফান্ডের রিটার্ন মোটামুটি 6.5% – 8% অবধি ঘোরাফেরা করে। FD-র তুলনায় বেশি রিটার্নের পাশাপাশি ঝুঁকি অনেক বেশি ডাইভারসিফাই করে ডেট ফান্ড কারণ এখানে কোনো একটি সত্ত্বায় বিনিয়োগ না করে ব্যাংক, কেন্দ্র সরকার এবং রাজ্য সরকার ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করে।
ডেট ফান্ডের দাম ওঠানামা করে কীভাবে?
ডেট ফান্ড বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভরশীল যেমন— ঋণব্যবস্থা, দেশের অর্থনীতি, সাধারণের ক্রয়ক্ষমতা এবং সরকারি নীতি। অর্থনীতি যদি ভালো ফল করে তার অর্থ দাঁড়ায় ব্যবসাগুলিও বেশি করে উৎপাদন করছে এবং বিক্রয় করছে ও তার ফলে ক্রেতারাও বেশি করে কিনতে এবং খরচ করতে পারবে। উপরোক্ত সবকটি বিষয় ঋণ ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নত হয় এবং সেই কারণে টাকার চাহিদা বাড়ে। আর যেহেতু ঋণের চাহিদা বেড়েছে, সেইজন্য সুদের হারও বেড়েছে। তবে অর্থনীতিতে যখন মন্দা চলে তখন ব্যবসা নিজেদের উৎপাদন কমিয়ে দেয়, গ্রাহকেরা খরচ কমায়, টাকার চাহিদাও কমে আসে এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়তে থাকে যাতে সুদের হার কমে যায়। সেইসব সরকারও অর্থনীতিতে সুদের হার কমিয়ে দিতে সচেষ্ট থাকে যাতে কম সুদের হারে কোনো গ্রাহক বা ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান ঋণ নিতে পারে। যেহেতু সুদের হারের গতিবিধি বন্ডের দামের বিপরীতে চলে অর্থাৎ সুদের হার বাড়লে বন্ডের দাম কমে এবং সুদের হার কমলে বন্ডের দাম বাড়ে তাই দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের ইল্ড বাড়লে বুঝতে হবে স্বল্পমেয়াদি বন্ডে কম ফান্ড বিনিয়োগ হবে এবং বর্তমান হার কমবে।
ডেট ফান্ড কখন নেগেটিভ রিটার্ন দেয়?
ডেট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম হল বন্ডের সঞ্চিত সুদ ও বন্ডের মার্ক টু মার্কেট প্রাইসের যোগফল। Mark to market price আর কিছুই না বরং কোনো অ্যাসেট বা কোম্পানির বর্তমান ভ্যালু।
যখন দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের ইল্ড বাড়ে তখন বন্ডের দাম কমে যায় এবং যদিও সঞ্চিত সুদ স্থায়ী বা স্থির থাকে, বন্ডের বর্তমান ভ্যালু বা mark to market price কমে যায় এবং NAV কমে যায়। বন্ড ফান্ডের সময়কালের উপর নির্ভর করে NAV-র হ্রাস পাওয়া। ফান্ডের সময়কাল বেশি হলে বন্ডের দাম কমার সম্ভাবনা বেশি এবং তার ফলে বর্তমান ভ্যালু কমে। ফলে স্বল্পমেয়াদি ফান্ডের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদি বন্ড ফান্ডগুলির negative return দেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। যেমনটা আগে বলা হল যে, ইল্ড বাড়লে বা বন্ডের দাম কমলে বুঝতে হবে বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন পরবর্তী সময়ের সুদের হার বেশি থাকবে ফলে বর্তমানের বন্ডগুলি থেকে বেরিয়ে আসেন তাঁরা।
বিনিয়োগকারীরা এইসময় কী করবেন?
প্রথমত, বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের মূল সময়কালে কোনো পরিবর্তন আনা উচিত না।
দ্বিতীয়ত, ধৈর্যশীল থাকা দরকার।
তৃতীয়ত, যদি বন্ডের ইল্ড বাড়তে থাকে তাহলে অন্যান্য ডেট ক্যাটাগরির ফান্ডে বিনিয়োগ সরিয়ে আনা যেতে পারে। যেমন যদি কোনো বিনিয়োগকারীর আগামী ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে ফান্ড রিডিমের প্রয়োজন পড়ে, সেক্ষেত্রে high duration fund থেকে ফান্ড রিডিম করে low duration fund-এ বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
চতুর্থত, বিনিয়োগকারীরা liquid fund বা overnight fund-এর মতো খুব কম সময়ের ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন, কারণ সেগুলি কম ভোলাটাইল।
ফলে বোঝা গেল যে ডেট ফান্ড থেকেও negative return আসতে পারে সুদের হারের ওঠানামার কারণে। এবং যে ফান্ডগুলির মেয়াদ বেশিদিনের সেগুলির ক্ষেত্রেই বেশি করে সুদের হারজনিত ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে।




