নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার বাজারের বিনিয়োগ প্রথম প্রথম কঠিন মনে হতে পারে। কারণ ট্রেডিং-এর জন্য কোন স্টকগুলি মার্কেটে উপস্থিত রয়েছে সেটি প্রাথমিকভাবে জানা কিছুটা অসুবিধার। ভারতে প্রধান দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ আছে— ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE) এবং বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE)। এই দুই এক্সচেঞ্জে কয়েক হাজার করে কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এই কোম্পানিগুলি বিভিন্ন আলাদা আলাদা সেক্টর বা ইন্ড্রাস্ট্রির অন্তর্গত। আজকে আমরা আলোচনা করব কীভাবে এই এক্সচেঞ্জগুলিতে লিস্টেড স্টকগুলির সম্পূর্ণ তালিকা খুঁজে পাবেন সেই বিষয়ে।
ভারতীয় শেয়ার বাজার:
স্টক লিস্টিং সম্পর্কে আলোচনার পূর্বে, চলুন জানা যাক ভারতীয় শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে। ভারতীয় আর্থিক বাজারের প্রধান দুটি এক্সচেঞ্জ হল NSE ও BSE। এই এক্সচেঞ্জগুলিতে স্টক, বন্ড এবং ডেরিডেটিভের মতো সিকিউরিটি কেনাবেচা করা হয়। NSE ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। NSE নিজের ইলেকট্রনিক ট্রেডিং সিস্টেমের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত। অন্যদিকে BSE যা কিনা এশিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন স্টক এক্সচেঞ্জ, ১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মুম্বাইয়ে BSE-র ঐতিহ্যপূর্ণ বিল্ডিং সর্বজনবিদিত।
ভারতের শেয়ার বাজারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর:
ভারতীয় শেয়ার বাজারে যে কোম্পানিগুলি রয়েছে সেগুলি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেত্রের অন্তর্গত এবং সমগ্র দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে প্রতিটি কোম্পানির অবদান রয়েছে। ভারতের শেয়ার বাজার সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর—
- তথ্য প্রযুক্তি (IT): ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রটি নিজের software পরিষেবা, আউটসোর্সিং এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত। TCS, Infosys, Wipro-র মতো কোম্পানিগুলি এই ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে রয়েছে।
- ব্যাংকিং এবং আর্থিক পরিষেবা (Banking and Financial Services): ভারতের অর্থনীতির জন্য ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা ক্ষেত্রটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকিং, বিমা, অর্থ ব্যবস্থাপনার মতো পরিষেবাগুলি প্রদান করে থাকে এই ক্ষেত্রটি। HDFC ব্যাংক, ICICI ব্যাংক, SBI ইত্যাদি প্রথম সারির কয়েকটি ব্যাংকিং পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা।
- অটোমোবাইল: অটোমোবাইলের ক্ষেত্রটিতে ভারত অন্যতম বড় উৎপাদক। গাড়ি উৎপাদন, টু-হুইলার এবং কমার্শিয়াল যানবাহন প্রস্তুতিতে সারা বিশ্বে ভারতের স্থান অনেক এগিয়ে। M & M, Tata Motors, Maruti Suzuki প্রধান কয়েকটি অটোমোবাইল সংস্থা।
- কনজিউমার প্রোডাক্ট: খাদ্য, পানীয়, স্থানীয় পণ্য, প্রসাধন সামগ্রী ইত্যাদি প্রস্তুতকারী শিল্পকে কনজিউমার গুডস ইন্ডাস্ট্রি বলা হয়। Hindustan Unilever, ITC, Nestle India-র মতো বেশ কয়েকটি FMCG সংস্থা এই শিল্পের অধীনে পড়ে।
- ফার্মা: দেশীয় ও বিদেশের বাজারে ফার্মা প্রোডাক্ট ও জেনেরিক ওষুধ প্রস্তুতকারক হিসেবে ভারত শীর্ষে রয়েছে। Cipla, Dr. Reddy’s-এর মতো সংস্থাগুলি ফার্মাসিউটিক্যাল ক্ষেত্রে প্রথম দিকে রয়েছে।
NSE ও BSE-তে তালিকাভুক্ত কোম্পানি:
Nse-র স্টকের তালিকা:
ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে অসংখ্য কোম্পানির স্টক তালিকাভুক্ত রয়েছে। NSE-র ইক্যুইটিগুলির সম্পূর্ণ তালিকা পেতে –
→ প্রথমে National Stock Exchange-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ক্লিক করতে হবে।
→ NSE-র ‘listing’ অথবা ‘equity’ সেকশনে আপনি সমস্ত ইক্যুইটির তালিকা পেয়ে যাবেন।
→ খোঁজার সুবিধার জন্য বেশ কিছু ফিল্টার ব্যবহারের সুবিধা দেয় এই Websiteটি।
→ এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট আছে যেখান থেকে আপনি NSE তে লিস্টেট সবকটি কোম্পানির তালিকার ফাইল পেয়ে যাবেন যা ডাউনলোড করে রিসার্চ বা অ্যানালাইসিসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মনে রাখবেন বাজার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে স্টকের তালিকা পরিবর্তন হতে পারে। ফলে সাম্প্রতিক তথ্যগুলি দেখা প্রয়োজন।
BSE-র স্টকের সম্পূর্ণ তালিকা: ভারতের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীনতম স্টক এক্সচেঞ্জ BSE-তে বিনিয়োগের একাধিক বিকল্প আছে। BSE-র স্টকগুলির সম্পূর্ণ তালিকা পেতে–
→ BSE-র অফিশিয়াল website-এ যেতে হবে।
→ সেখানে ‘Equity’ অথবা ‘Listings’ সেকশনে তালিকা পাওয়া যাবে।
→ এখানেও market cap, industry ইত্যাদি ফিল্টার ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি সহজে ইক্যুইটির তালিকা দেখতে পাবেন।
গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে NSE ও BSE-তে লিস্টেড কোম্পানিগুলির নাম জানা একান্ত প্রয়োজন। আপনি NSE ও BSE-র ওয়েবসাইট ছাড়াও অনলাইনে একাধিক website-এ এই তালিকাটি পেয়ে যাবেন এবং ওয়েবসাইটগুলিতে ব্যবহৃত ফিল্টারগুলির সাহায্যে স্টকের সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে পারবেন, যা আপনাকে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করবে।




