আপনি যখন কোনো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেন তখন রিটার্নের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তবে আমরা সাধারণত শেয়ার বাজার থেকে listed কোম্পানির শেয়ার কিনে থাকি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে। কিন্তু আপনি কি জানেন শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত নয় অর্থাৎ unlisted কোম্পানির শেয়ারও আপনি কিনতে পারেন? এই ধরনের শেয়ার এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত থাকে না এবং SEBI (Securities and Exchange Board of India) দ্বারা রেজিস্টার্ডও নয়। এই ধরনের কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ বেশি প্রফিট মার্জিনের সুযোগ দেয়, এবং পাশাপাশি SEBI-র নিয়ন্ত্রণাধীন না থাকায় ঝুঁকির সম্ভাবনাও বেশি থাকে। আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হল unlisted share।
Unlisted share কী?
প্রথমেই বলতে হয় unlisted share এক্সচেঞ্জের থেকে কেনা বেচা যায় না। এগুলিকে আপনাকে OTC বা over the counter market থেকে কিনতে হবে। এই শেয়ারগুলি SEBI-র নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, সেই কারণে SEBI-র নিয়ম অনুযায়ী চলে না। এই শেয়ারগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রাইভেট প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়।
কী ধরনের unlisted আর্থিক সম্পদ রয়েছে?
- সাধারণ স্টক: কোনো কোম্পানিতে কোনো ব্যক্তির অংশীদারিত্ব বোঝায় স্টক। সুতরাং যদি কোনো কোম্পানির ২০০টি স্টক থেকে থাকে এবং আপনি ১০টি স্টক কিনে থাকেন তাহলে সেই কোম্পানিতে আপনার 10% শেয়ার আছে।
- পেনি স্টক: এই স্টকগুলির মূল্য খুব কম এবং বেশ ঝুঁকি জড়িত। Unlisted কোম্পানিগুলির থেকে পেনি স্টকও OTC-র মাধ্যমে কেনাবেচা করা যায়।
- কর্পোরেট বন্ড: কোনো কোম্পানির বন্ড কেনার অর্থ হল বন্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অবধি বিনিয়োগকারী নির্দিষ্ট সময় পর পর সুদ পেতে থাকবেন। এছাড়াও মেয়াদ শেষের পর মূল অর্থও ফেরত পাওয়া যায়। কোম্পানি কর্পোরেট বন্ড ইস্যু করে ঋণের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে।
ভারতে কীভাবে unlisted কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবেন?
বিভিন্ন উপায়ে unlisted শেয়ার কেনা যায়, তার মধ্যে পরিচিত কয়েকটি হল –
1. Pre-IPO Company: IPO লঞ্চের আগে সম্ভাবনাময় কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে লাভের সুযোগ বেশি থাকে। Pre-IPO বলতে বোঝাচ্ছে সেইসব কোম্পানিকে যারা এখনও তালিকাভুক্ত নয় তবে শীঘ্রই স্টক এক্সচেঞ্জে লিস্ট করা হবে। এই ধরনের কোম্পানিতে যদি আপনি বিনিয়োগ করেন তাহলে শেয়ারগুলি সরাসরি ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হবে। তবে যে মধ্যস্থতাকারী বা intermediary-র মাধ্যমে আপনি বিনিয়োগ করবেন সেটি যেন বিশ্বাসযোগ্য হয়।
2. PMS বা AIF: PMS অর্থাৎ Portfolio Management Service এবং AIF অর্থাৎ Alternative Investment Fund-এ বিনিয়োগ করেও আপনি unlisted শেয়ার কিনতে পারেন। PMS-এর পরিচালনা পেশাদার এবং এখানে ম্যানেজার মার্কেটের গতিবিধি বুঝে রিটার্ন বাড়াতে পোর্টফোলিও পরিবর্তন করে। অন্যদিকে AIF হল একটি ফান্ড যেটি বিনিয়োগকারীদের থেকে অর্থ সংগ্রহ করে পরে আবার hedge fund, venture capital বা private equity-তে বিনিয়োগ করে। এদের মাধ্যমে অতালিকাভুক্ত কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা যায়।
3. স্টার্টআপ: ভারতীয় স্টার্টআপগুলির সম্ভাবনা এখন অনেক বেশি এবং স্টার্টআপে বিনিয়োগের প্রচুর উপায়ও রয়েছে। যদিও প্রাথমিকভাবে স্টার্টআপগুলি খুব বেশি আলোচনায় না থাকলেও এগুলির মধ্যে বেশ কিছু সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি রয়েছে। বেশিরভাগ স্টার্টআপে ন্যূনতম বিনিয়োগ ৫০,০০০ টাকা, বিনিয়োগের পর আপনার ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে শেয়ারগুলি ট্রান্সফার হয়।
4. প্রোমােটারদের থেকে কেনা: আপনি unlisted কোম্পানির শেয়ার সরাসরি প্রমোটারদের থেকেও কিনতে পারেন। অনেক ব্রোকার, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক বা ওয়েল্থ ম্যানেজার এই ধরনের প্রাইভেট অ্যাসেটে বিনিয়োগের সুবিধা প্রদান করে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আপনি কিনছেন সেটি যেন ভরসাযোগ্য হয়।
5. ESOP: ESOP-এর পুরো কথা হল Employee Stock Ownership Plans। এটি কোম্পানি নিজেদের কর্মচারীদের সুবিধার্থে প্রদান করে থাকে। ESOP কোম্পানির employee অর্থাৎ কর্মচারীদের সেই কোম্পানিতে ownership বা অংশীদারিত্ব প্রদান করে এবং পূর্বনির্ধারিত দামে কর্মচারীদের শেয়ারগুলি কেনাবেচার অনুমতি দেওয়া হয়। আপনি ব্রোকারের মাধ্যমে এইধরনের কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ESOP-এ বিনিয়োগ করতে পারেন।
Unlisted কোম্পানিতে বিনিয়োগের সুবিধা-অসুবিধা
সুবিধা:
→ কোম্পানির প্রাথমিক পর্যায়ে বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে, তাই রিটার্নের সম্ভাবনাও বাড়ে।
→ Diversification-এর সুযোগ দেয়।
→ তুলনায় কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ থাকে।
অসুবিধা:
→ যেহেতু এই ধরনের শেয়ারের লিক্যুইডিটি কম থাকে অর্থাৎ শেয়ার কেনার জন্য ক্রেতার সংখ্যা কম থাকে, তাই এগুলি বিক্রি করা বেশ অসুবিধাজনক।
→ Unlisted শেয়ারগুলি SEBI দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়।
→ সঠিক ও যথাযথ তথ্যের অভাব থাকায় শেয়ারের আসল ভ্যালুয়েশন অনেক সময়ই জানা মুশকিল হয়।
Unlisted কোম্পানিতে বিনিয়োগের আগে কী কী খেয়াল রাখা দরকার?
প্রথমেই, কোম্পানিটি যদি ভবিষ্যতে ভালো ভ্যালুয়েশন না দিতে পারে, তাহলে বর্তমানে কম দাম দেখে বিনিয়োগ করে ফেলবেন না। সেইজন্য কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতি দেখা প্রয়োজন।





