বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা উঠলেই সাধারণত আমরা দীর্ঘমেয়াদের বিনিয়োগের কথাই ভেবে থাকি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদের পাশাপাশি আমাদের বেশ কিছু স্বল্পমেয়াদের লক্ষ্য থাকে যেমন— স্বল্পমেয়াদি ঋণ পরিশোধ, নতুন ফোন কেনা, ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি। অর্থাৎ যা নিকট ভবিষ্যতের লক্ষ্যগুলি পূরণের জন্য প্রয়োজনীয়। ফলে স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যগুলির জন্যও আমাদের আর্থিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। আজকের আলোচনায় আমরা জানব স্বল্পমেয়াদের জন্য কীভাবে বিনিয়োগ পরিকল্পনা করবেন। আমরা দেখে নেব কোন ধরনের বিনিয়োগ স্বল্পমেয়াদের জন্য উপযুক্ত এবং কীভাবে বিনিয়োগ করবেন।
স্বল্পমেয়াদের লক্ষ্যগুলির শ্রেণিবিভাগ:
স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যকে আপনি সময় ও গুরুত্বের ভিত্তিতে ভাগ করতে পারেন। যেমন আগামী ৩ মাসের মধ্যে যে লক্ষ্যটি পূরণ করতে হবে সেটি জরুরি বা emergency লক্ষ্য হিসেবে ধরা যেতে পারে। সেই লক্ষ্যগুলি আগামী ৪ মাস থেকে শুরু করে ১ বছরের মধ্যে করার পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলিকে বলা হবে ultra short-term লক্ষ্য। এবং সবশেষে যে লক্ষ্যগুলি ১ থেকে ৩ বছরের মধ্যে করতে চান সেগুলিকে আমরা বলব শর্ট টার্ম লক্ষ্য।
এবার emergency-র মধ্যে হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা, চিকিৎসার প্রয়োজন বা বাড়ি/গাড়ি মেরামতি, অতি প্রয়োজনীয় কোনো কিছু ক্রয় ইত্যাদি থাকছে।
এরপর ultra short term লক্ষ্য যেগুলি আমরা ৪ মাস থেকে আগামী ১ বছরের মধ্যে পূরণ করতে চাই, যেমন— দামি কোনো গ্যাজেট কেনা, গাড়ি কেনা, উচ্চ সুদের ঋণ পরিশোধ ইত্যাদি। এবং short term লক্ষ্য যা আগামী ১ থেকে ৩ বছরের মধ্যে পূরণ করতে হবে সেগুলির মধ্যে ছুটি কাটানো ইত্যাদি ধরা যেতে পারে।
এবার যেহেতু আপনি লক্ষ্যগুলি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নিয়েছেন ফলে আপনি গুরুত্ব ও প্রাধান্য অনুযায়ী লক্ষ্য পূরণ করার জন্য পরিকল্পনা করতে পারবেন। যেমন— emergency fund বা স্কুলের বেতন বা লোনের EMI ইত্যাদি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আবার ছুটি কাটানো বা দামি কোনো ফোন ইত্যাদির জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করা যেতে পারে অর্থাৎ এইগুলির গুরুত্ব কম।
এখন আমরা দেখে নেব স্বল্প মেয়াদের জন্য কীভাবে নির্বাচন করবেন বিনিয়োগ বিকল্প।
→ মূলধনের সুরক্ষা: স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যের জন্য যে বিনিয়োগ করবেন তাতে প্রথমেই মনে রাখতে হবে মূলধন যেন সুরক্ষিত থাকে। প্রতিটি বিনিয়োগে কিছু ঝুঁকি থাকে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডে NAV বা Net Asset Value-র পরিবর্তন সবসময়ই হয়ে যাচ্ছে, কখনও বাড়ছে আবার কখনও কমছে। ফলে এমন বিনিয়োগ বাছতে হবে যেখানে মূলধন সুরক্ষিত থাকে।
→ লিক্যুইডিটি: এরপর দেখতে হবে বিনিয়োগটির লিক্যুইডিটি কেমন, অর্থাৎ কত সহজে আপনি বিনিয়োগ থেকে টাকা তুলতে পারবেন। সবচেয়ে সহজে টাকার অ্যাক্সেস পাওয়া যায় সেভিংস অ্যাকাউন্টে, তবে সেখানে ইন্টারেস্ট খুবই কম। ফলে লিক্যুইডিটির পাশাপাশি রিটার্নও ভালো পেতে debt fund-এর মধ্যে লিক্যুইড ফান্ডে বিনিয়োগ করা যেতে পারে short-term-এর জন্য যাতে প্রয়োজনে সঙ্গে সঙ্গে টাকা রিডিম করা যায়। এছাড়াও FD ও অন্যান্য debt fund-এও লিক্যুইডিটি আছে।
→ রিটার্ন: এরপরের ফ্যাক্টরটি হল রিটার্ন। এখানে আপনাকে দেখতে হবে কোন বিকল্পটি সাধারণ savings A/C বা FD থেকে বেশি রিটার্ন দিচ্ছে। সাধারণত liquid fund, ultra short duration fund, overnight fund ইত্যাদিতে রিটার্ন তুলনায় বেশি। এই ধরনের debt fund-এর ক্ষেত্রে রিটার্ন RBI-এর interest rate-এর উপর নির্ভর করে। Interest rate যখন বেশি থাকে তখন এই ধরনের স্বল্পমেয়াদি debt fundগুলি বেশি রিটার্ন দিয়ে থাকে।
কয়েকটি স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ বিকল্প:
→ ব্যাংক FD: ৭দিন থেকে শুরু করে ১০ বছরের মেয়াদে ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করা যায়। রিটার্ন মোটামুটি 3%-7%-এর মধ্যে।
→ কর্পোরেট FD: ব্যাংক FD-র তুলনায় সামান্য বেশি ঝুঁকির কিন্তু রিটার্নও সামান্য বেশি। কর্পোরেট FD-র ঝুঁকি কতটা বুঝতে credit rating দেখা প্রয়োজন।
→ রেকারিং ডিপোজিট: আপনি যদি ৬ মাস থেকে ১ বছরের মেয়াদে নিয়মিত SIP-র মতো টাকা জমা করতে চান তাহলে রেকারিং ডিপোজিট ভালো বিকল্প। মেয়াদ ও আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করছে এই ডিপোজিটের ইন্টারেস্ট রেট কত হবে।
→ Debt fund: Debt fund-এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হল liquid fund, যার লিক্যুইডিটি অনেক বেশি। liquid fund মূলত ট্রেজারি বিল, কমার্শিয়াল পেপার, সার্টিফিকেট অফ ডিপোজিট ইত্যাদি অতি স্বল্পমেয়াদি ইন্সট্রুমেন্টে বিনিয়োগ করে, যেখানে ভালো রিটার্নের পাশাপাশি উচ্চ লিক্যুইডিটি পাওয়া যায়।
Debt fund-এর মধ্যে এরপর ultra short duration fund-এর কথা বলব যা সেই সমস্ত debt ও money market fund-এ বিনিয়োগ করে যাদের মেয়াদ ৩ থেকে ৬ মাসের।
এবার প্রশ্ন আসতে পারে কোন ফান্ডে কীভাবে বিনিয়োগ করবেন। তাহলে বলতে হয় অতি প্রয়োজন যেমন হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা, school fee বা EMI-এর মতো emergency-র ক্ষেত্রে savings A/C, fixed deposit, overnight fund বা liquid fund-এ বিনিয়োগ করা উচিত যেগুলি সবচেয়ে নিরাপদ।
তবে সমান্য কম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যের জন্য কিছুটা বেশি মেয়াদের বিনিয়োগ যেমন ultra short term fund, money market fund বা low duration fund-এ বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এছাড়াও যে-কোনো বিনিয়োগের আগে ফান্ডটির ক্রেডিট কোয়ালিটি, sharpe ratio ইত্যাদি দেখে নেওয়া প্রয়োজন।





