শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে হলে Nifty 50-এর নাম প্রায়ই শোনা যায়। Nifty 50 আজ কত পয়েন্ট বাড়ল বা কমল সেই নিয়ে চর্চার শেষ নেই। তবে এই nifty 50 বিষয়টি ঠিক কী তা নিয়ে সকলের মধ্যে স্বচ্ছ ধারণার অভাব রয়েছে। আজকে আমরা আলোচনা করব শেয়ার বাজারের এই সূচক nifty সম্পর্কে এবং জেনে নেব কীভাবে বিনিয়োগ করবেন nifty 50-তে।
শেয়ার বাজারে nifty 50 কী?
ভারতের শেয়ার বাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক বা ইনডেক্স হল nifty 50। Nifty 50-এর গতিবিধি বুঝে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজারের মনোভাব সম্পর্কে ধারণা করতে পারেন এবং আন্দাজ করতে পারেন অর্থনীতি কোন দিকে যেতে চলেছে। ভারতের ৫০টি সবচেয়ে বড় লার্জ ক্যাপ স্টক নিয়ে তৈরি হয় Nifty 50। এই স্টকগুলি দেশের অন্যতম বড় বড় কোম্পানির অন্তর্গত, যারা বেশ কয়েক বছর ধরে নিজের নিজের সেক্টর বা ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে রয়েছে। সেই কারণেই এই ৫০টি স্টকে বিনিয়োগকারীরা অন্যান্য স্টকের তুলনায় বেশি আত্মবিশ্বাসী।
এবার চলুন nifty 50-এর ইতিহাস সম্পর্কে জানা যাক।
Nifty 50-এর ইতিহাস ও বিবর্তন:
১৯৯৫ সালের ৩ নভেম্বর nifty 50-এর যাত্রা শুরু। সেইসময় NSE অর্থাৎ National Stock Exchange-এ সক্রিয়ভাবে ট্রেড হওয়া স্টকগুলির মোট মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনের 33.7% নিয়ে nifty 50 গঠিত ছিল। ২০২১- এ পৌঁছে সেই শতাংশ বেড়ে 53.2% হয়েছে। এত বছর ধরে চলার পর এই ইনডেক্সটির সেক্টরের ভিত্তিতে গঠনেও পার্থক্য এসেছে। যেমন, যখন ১৯৯৫ সালে ইনডেক্সটি তৈরি হয়েছিল সেইসময় nifty 50-এর মধ্যে কোনো IT বা তথ্যপ্রযুক্তির স্টক ছিল না। কিন্তু এখন nifty 50-তে অনেক IT স্টক অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
নিফটি ফিফটিতে ৫০টি স্টক রয়েছে। তবে ৫০টি স্টক সবসময় একই থাকে না। স্টকের ফলাফল অনুযায়ী তাদের ওয়েটেজের পরিবর্তন হয়। ফলে যে স্টক বর্তমানে nifty 50-তে রয়েছে সেটি পরবর্তী কোনো সময়ে নাও থাকতে পারে।
সেক্টরের ভিত্তিতে nifty 50-র weightage
| Financial Services | 34.53% |
| Information Technology | 13.76% |
| Oil, gas and Consumable fuels | 10.45% |
| FMCG | 8% |
| Automobile and auto components | 7.44% |
| Construction | 4.05% |
| Telecommunication | 4.03% |
| Healthcare | 3.87% |
| Metals and mining | 3.38% |
| Power | 2.97% |
| Consumer durables | 2.28% |
| Construction materials | 2.08% |
| Consumer Services | 1.39% |
| Capital goods | 1.02% |
| Services | 0.81% |
কীভাবে বিনিয়োগ করবেন nifty 50-তে?
বেশ কয়েকটি উপায় রয়েছে যার সাহায্যে আপনি nifty 50-তে বিনিয়োগ করতে পারেন –
প্রথমত, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে: আপনি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইনডেক্স ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে পারেন। Nifty 50-র অধীনে থাকা স্টকগুলি সেই একই weightage-এ বিনিয়োগ করে যে মিউচ্যুয়াল ফান্ড তাকে nifty 50 index fund বলে। এই ফান্ডগুলি প্যাসিভ ফান্ড কারণ এখানে ম্যানেজারকে ফান্ড নির্বাচন সক্রিয়ভাবে করতে হচ্ছে না। বরং nifty 50-এর অধীনে যে স্টক যে অনুপাতে বা weightage-এ রয়েছে সেই একই ওয়েটেজ এই ফান্ডগুলি সেই স্টকগুলিতে বিনিয়োগ করে।
দ্বিতীয়ত, ETF-এর মাধ্যমে: মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মতো nifty 50 ETF-এও আপনি যদি বিনিয়োগ করেন তাহলে এই ইনডেক্সে বিনিয়োগ করা হবে। এই ফান্ডগুলিও nifty 50-র অন্তর্গত স্টকগুলিতে বিনিয়োগ করে। এখানে স্টকের মতোই ট্রেডিং ডে-তে আপনি ইউনিট কেনাবেচা করতে পারবেন।
তৃতীয়ত, সরাসরি nifty 50-এর স্টকে বিনিয়োগ: উপরোক্ত দুটি উপায় ছাড়া আপনি সরাসরিও nifty 50-এর স্টকে বিনিয়োগ করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে NSE-র ওয়েবসাইটে গিয়ে nifty 50-র অধীনে স্টকগুলির weightage জানতে হবে। এরপর আপনি সেই একই weightage-এ অর্থাৎ একই পারসেন্টেজে ওই স্টকগুলিতে বিনিয়োগ করতে পারেন। তবে এটি অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ আগের দুটির তুলনায় এবং প্রচুর অভিজ্ঞতা প্রয়োজন এইভাবে বিনিয়োগে।
বিনিয়োগের আগে কোন বিষয়গুলি বিবেচনা করতে হবে?
→ Nifty 50-র ভ্যালু বাজারের মনোভাব অনুযায়ী দ্রুত ওঠানামা করতে পারে। অর্থাৎ দেখা গেল nifty 50-র অধীনে কোম্পানিগুলি ভালো ফল করছে তবে গোটা market sentiment যদি নেতিবাচক হয় তাহলে nifty 50-র স্টকগুলিতেও ভ্যালু কমবে। এছাড়াও বড় কোম্পানিও অনেকসময়ে আশানুরূপ ফলাফল করতে পারে না।
→ Nifty 50-এর স্টকে সরাসরি বিনিয়োগ করতে গেলে আপনাকে brokerage fee দিতে হবে। আর আপনি যদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড বা ETF-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ করেন সেক্ষেত্রে expense ratio কাটা হবে।
শুরুর পর থেকে nifty 50 প্রায় 12% – 13% রিটার্ন দিয়ে এসেছে এবং বিনিয়োগ হিসেবে নিঃসন্দেহে ভালো একটি বিকল্প এটি। আপনার যদি যথেষ্ট অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে আপনি নিজেই nifty 50-র স্টক বেছে পোর্টফোলিও তৈরি করতে পারেন। তবে যদি আপনি নিজে পোর্টফোলিও না তৈরি করতে চান তাহলে মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং nifty 50 ETF-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে পারেন এই ইনডেক্সে।







