buzywithinfoBuzy With Info
Everything About Business
Stock

ভারতীয় শেয়ার বাজারে ক্র্যাশ? এখন কি বিনিয়োগ করবেন? জানুন পোর্টফোলিও তৈরির কৌশল

গতকাল অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় ইক্যুইটি বাজারের বেঞ্চমার্ক, সেনসেক্স ও নিফটি, বৈশ্বিক বাণিজ্য-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে 2% নিম্নমুখী হয়েছে। এমনকি BSE-তে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলির মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনে গতকাল ৮.৮ লাখ কোটির মতো এত বড় অঙ্কের পতন দেখা গেছে। অন্যদিকে নিফটির পতন ছিল গত নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন, এই মুহূর্তেই বিনিয়োগ করবেন নাকি কিছুদিন অপেক্ষা করবেন কারণ এই সময় ভারতীয় বাজারে চলছে ক্রমাগত কারেকশন। ফলত স্টক বাছাই, SIP নির্বাচন নাকি লাম্পসাম বিনিয়োগ, debt নাকি equity ফান্ড–– ইত্যাদি একাধিক বিষয় নিয়ে ভাবান্বিত বিনিয়োগকারীরা। আর মার্কেটের এই টালমাটাল পরিস্থিতির জন্য সম্ভবত ট্রাম্পনীতি দায়ী, যার কারণে সারা বিশ্বের ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। বাণিজ্যের প্রবল অনিশ্চয়তার মাঝে বছর শুরুর পর থেকেই শেয়ার বাজারের নিম্নমুখিতা বজায় রয়েছে।

6 2

এইরকম মার্কেট কারেকশনের কারণে পোর্টফোলিওতে যদি অধিক ভোলাটিলিটির স্টকের অতিরিক্ত এক্সপোজার হয়ে যায় তাহলে পোর্টফোলিও ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। সেইজন্য প্রয়োজন পোর্টফোলিওর হোল্ডিং-এর রিভিউ করা, যাতে ঝুঁকি ও আর্থিক লক্ষ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে।

আর্থিক লক্ষ্য ও বিনিয়োগকাল:

যদি আপনার আর্থিক পোর্টফোলিওতে গত তিন-চার বছরে ভালো লাভ হয়ে থাকে তাহলে এই কারেকশন আপনার কাছে নতুন অভিজ্ঞতা এবং এই ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমেই পোর্টফোলিওর ঝুঁকি কমাতে হবে।

পোর্টফওলিওতে যে অ্যালোকেশন রয়েছে তা সবসময় বিনিয়োগকারীর risk-reward profile অর্থাৎ ঝুঁকি ও মুনাফার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হওয়া উচিত, এবং অবশ্যই এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মেয়াদ সম্পর্কেও খেয়াল রাখতে হবে।

যদিও অ্যাসেট অ্যালোকেশনে ঝুঁকি কম করার অর্থ এই নয় যে আপনার সমস্ত equity exposure কমিয়ে fixed income asset-এ অর্থ সরিয়ে আনা। আপনি যদি বর্তমানে বড় অঙ্কের কোনো অর্থ অর্থাৎ লাম্পসাম বিনিয়োগ করতে চান তাহলে আপনাকে প্রথমেই নিজের ঝুঁকি বিবেচনা করা উচিত। ফলত আপনি যদি ইনভেস্টমেন্ট করতে চান তাহলে বর্তমানে equity-তে বিনিয়োগে যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে কারণ বর্তমানে valuation অনেকটাই কম রয়েছে। যদিও বিনিয়োগ করার সময় কখনোই শর্টটার্ম মুভমেন্টের দিকে মনোযোগ না দিয়ে লক্ষ্য থাকা উচিত লংটার্মের এবং ঝুঁকি গ্রহণ ক্ষমতা অর্থাৎ বিনিয়োগকারী ঠিক কী পরিমাণ risk দিতে চান সেই বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

11

SIP নাকি Lump Sum:

আর্থিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই সময় গোল্ড ফান্ড, গ্লোবাল ফান্ড, লার্জ ও মিড ক্যাপে SIP করা যেতে পারে। SIP-র rupee-cost averaging-এর কারণে মার্কেটের অস্থিরতার প্রভাব কম পড়ে এবং পাশাপাশি নিয়ম মেনে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ চলতে থাকে।

অন্যদিকে আর্থিক উপদেষ্টাদের মতে যদি আপনি কয়েক লাখ টাকা একবারে বাজারে এই মুহূর্তে বিনিয়োগ করতে চান তাহলে বর্তমানে floating rate fund-এ বিনিয়োগ করে একটি STP অর্থাৎ Systematic Transfer Plan চালু করতে পারেন যেখানে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অ্যামাউন্ট ওই ফান্ড থেকে ট্রান্সফার হবে। তার কারণ হল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন আগামী ১ থেকে ১.৫ বছর এই অস্থিরতা ও দামের ওঠানামা চলতে থাকবে ফলে STP বা ট্রান্সফার প্রসেসের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা ভোলাটিলিটির মাঝেও ধীরে ধীরে অর্থ অন্য ফান্ডে সরিয়ে নিতে পারবেন।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অর্থাৎ গ্লোবাল ইক্যুইটি ও সোনা ডাইভারসিফিকেশনের সুযোগ দেয় কারণ এই দুই বিনিয়োগের ক্ষেত্রেই Nifty 50 index-এর সঙ্গে এদের বিশেষ সম্পর্ক নেই।

ফান্ড নির্বাচন:

ফান্ড নির্বাচনের সময়ে অবশ্যই সম্পূর্ণ পোর্টফোলিওতে নজর রাখা উচিত এবং মনে রাখা দরকার আপনি যদি লাম্পসাম অর্থ বিনিয়োগ করেন তাহলে সম্পূর্ণ অ্যামাউন্ট কখনোই একক কোনো অ্যাসেট বিনিয়োগ করবেন না। পোর্টফোলিওতে debt fund, gold fund, REIT এবং অবশ্যই equity-র মধ্যে যথেষ্ট diversification থাকা উচিত। পোর্টফোলিওর ঝুঁকি diversify করতে equity-তে flexi cap ও passive index fund ভালো বিকল্প। তবে যে ফান্ডই নির্বাচন করবেন তা যেন ঝুঁকি ও বিনিয়োগের সময়কালের ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়। যে-কোনো বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, কেবলমাত্র রিটার্ন বা বর্তমান মার্কেট প্রবণতা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

BWI 600 x 200

Leave a Reply

Discover more from Buzy With Info

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading