Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্বের শেয়ারবাজারের মানচিত্রে বড় পরিবর্তন। দক্ষিণ কোরিয়া এখন বাজার মূলধনের নিরিখে ভারতকে পিছনে ফেলে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম স্টক মার্কেটে পরিণত হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ভারত পঞ্চম স্থান থেকে নেমে এসেছে সপ্তম স্থানে। প্রথমে তাইওয়ান এবং এবার দক্ষিণ কোরিয়া ভারতের অবস্থান ছিনিয়ে নিল। এই উত্থানের মূল কারণ AI-কে ঘিরে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগের জোয়ার। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট কোম্পানিগুলি, বিশেষ করে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স এবং SK Hynix, AI মেমোরি চিপের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে বিপুল মুনাফা করেছে। এর জেরে ২০২৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারমূল্য প্রায় ৮৬% বেড়ে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের গণ্ডি ছুঁয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, AI অবকাঠামো তৈরির জন্য বিশ্বজুড়ে যে বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে, তার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা সংস্থাগুলি। শুধু সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানিই নয়, দেশটির সামগ্রিক রপ্তানিও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। মে মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি ৫৩%-এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রধান চালিকাশক্তি AI-সম্পর্কিত চিপ বিক্রি। অন্যদিকে ভারতের শেয়ারবাজারে চাপ বেড়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ প্রত্যাহার, দুর্বল রুপি এবং কর্পোরেট আয়ের ধীরগতির কারণে। এছাড়া AI হার্ডওয়্যার ও চিপ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারতের উপস্থিতি এখনও সীমিত, ফলে AI-চালিত বৈশ্বিক বিনিয়োগের বড় অংশ ভারত আকর্ষণ করতে পারেনি।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শেয়ারবাজারের আকার এবং অর্থনীতির আকার এক বিষয় নয়। দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজার এখন বড় হলেও ভারতের অর্থনীতি এখনও অনেক বড়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা IMF-এর হিসাব অনুযায়ী ভারতের অর্থনীতির আকার প্রায় ৪.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি প্রায় ১.৯৩ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে AI-চিপ উন্মাদনা দক্ষিণ কোরিয়াকে শেয়ারবাজারে এগিয়ে দিয়েছে, কিন্তু অর্থনৈতিক শক্তির প্রেক্ষাপটের দিক থেকে ভারত এখনও অনেক বড় খেলোয়াড় বা অর্থনৈতিক দেশ। আগামী কয়েক বছরে AI, সেমিকন্ডাক্টর এবং প্রযুক্তি খাতে ভারতের অগ্রগতি এই ব্যবধান কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।




