যে-কোনো বিনিয়োগের পেছনে অনেক দায়িত্ব থাকে। আপনি আপনার কষ্টার্জিত টাকা নিশ্চয়ই এমনভাবে বিনিয়োগ করতে চান না যাতে সেই অর্থ সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধি পাওয়ার পরিবর্তে উল্টে আপনার সব অর্থের ক্ষতি করে ফেলে। শেয়ার বাজার এমন একটি বিনিয়োগের জায়গা যেখানে বিনিয়োগের আগে এইরকমই বিচক্ষণতার প্রয়োজন। তাহলে জেনে নিই চলুন নতুন যাঁরা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা শুরু করেছেন তাঁদের কী কী করণীয় আর কী কী করবেন না তাঁরা।
কী করণীয়:
- শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত যে-কোনো ধরনের উপদেশ কেবলমাত্র SEBI নির্দেশিত উপদেষ্টা থেকেই নিন। কোনোরকম অযাচিত উপদেশ মেনে বাজারে বিনিয়োগ করবেন না।
- আপনার ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা ও লক্ষ্য অনুযায়ী বিনিয়োগ করুন। প্রত্যেকের বিনিয়োগ লক্ষ্য এক নয়।
- আপনি কোথায় কোথায় বিনিয়োগ করছেন সেগুলোর যথাযথ ট্র্যাক রাখুন নিজের ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে।
- আপনি যে ব্রোকারের অধীনে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন তার ফি বা প্রতিটি চার্জ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকুন।
- সময়ে সময়ে নিজের আর্থিক লক্ষ্যগুলি নিয়ে পর্যালোচনা করুন। এবং সেই অনুযায়ী নিজের পোর্টফোলিওর বিনিয়োগগুলির উপর নজর রাখুন। লক্ষ্য পরিবর্তন করলে সেইভাবে বিনিয়োগগুলিও পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
- নিজের প্রতিটি ডিটেল স্টক ব্রোকারের কাছে জমা রাখুন। আর ব্যক্তিগত তথ্যে কোনোরকম পরিবর্তন করলে অর্থাৎ ঠিকানা, ব্যাংকের তথ্য বা ফোন নম্বর, কোনো কিছুর পরিবর্তন হলে স্টক ব্রোকারকে অবশ্যই জানান।
- আপনার প্রতিটি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নমিনি যোগ করুন। ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে একাধিক নমিনি যোগের বিকল্প আছে।
- শেয়ার বাজার একটি ভোলাটাইল জায়গা। সেখানে শেয়ারের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ে কমে। ফলে সাময়িক কোনো খবরে বিচলিত না হয়ে আপনি যদি মনে করেন আপনার ইনভেস্টেড কোম্পানিটির বুনিয়াদ মজবুত আছে, প্রতি বছর প্রফিট বাড়ছে তাহলে ইনভেস্টমেন্ট চালিয়ে যান। কারণ লং টার্মে শেয়ার বাজার সাধারণত ঊর্ধ্বমুখী হয়।
- অবশ্যই Portfolio diversify করুন।
কী করবেন না:
- SEBI registered নয় এমন কোনো ব্রোকারের কাছে অ্যাকাউন্ট খুলবেন না। স্বল্প ব্রোকিং চার্জের প্রলোভনে পড়ে এই ভুল করবেন না। অবশ্যই দেখে নেবেন যে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আপনি বিনিয়োগ করছেন সেটি SEBI-র নিয়ন্ত্রণাধীন কি না।
- কোনোরকম ঋণ নিয়ে কোনো বিনিয়োগ করবেন না।
- নিজের অনলাইন অ্যাকাউন্টের পার্সওয়ার্ড কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
- না জেনে বুঝে পেনি স্টকে অত্যধিক investment করবেন না। কারণ সাধারণত পেনি স্টকগুলি কম market cap যুক্ত কোম্পানি ইস্যু করে থাকে। ফলে কোম্পানির আর্থিক পরিস্থিতি না বুঝে শুধুমাত্র দাম কম দেখে penny stock কিনবেন না।
- Whatsapp বা Telegram-এর মতো অ্যাপের মাধ্যমে trading tip পেয়ে ভুলেও invest করবেন না। ট্রেডিং একটি দীর্ঘ লার্নিং প্রসেস। শুধুমাত্র কয়েকটি টিপসের মাধ্যমে যদি লাভবান হওয়া যেত তাহলে প্রত্যেকেই তা-ই করতেন। সুতরাং ট্রেডিং করলেও অবশ্যই শিখে বুঝে করুন।
- শেয়ার বাজারে যে-কোনো সিদ্ধান্ত ইমোশনের নিরিখে নেবেন না। কেন আপনি ইনভেস্টমেন্টটি করতে চান বা কেন করতে চান না সেই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট রিসার্চ ও বিবেচনা করে তবেই নিন।





