নিয়মিত বিনিয়োগ করেন এমন বিনিয়োগকারীরা SIP-র নাম নিশ্চিতভাবে শুনে থাকবেন। নির্দিষ্ট অর্থ নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিনিয়োগকেই SIP বলে। আমরা monthly SIP, yearly SIP ইত্যাদির কথা শুনেছি এবং SIP মূলত mutual fund investment-এর বিকল্প হিসাবেই জনপ্রিয়। তবে আপনি mutual fund-এ SIP-র মাধ্যমে যেমন নিয়মিত টাকা জমা করতে পারেন সেইভাবেই স্টকেও SIP করতে পারেন। আজকে আমরা স্টক SIP নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
স্টক SIP কী?
মিউচ্যুয়াল ফান্ডে যখন আপনি বিনিয়োগ করেন সেইসময় শুধুমাত্র equity নয়, পাশাপাশি debt, এমনকি equity ও debt মিলিয়ে বিনিয়োগ করা যায়, এবং সেটা করা হয় ঝুঁকির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। আপনি SIP-র মাধ্যমে নিয়মিত প্রতি মাসে বা ৬ মাস অন্তর বা বছরে ১ বার বিনিয়োগ করেন মিউচ্যুয়াল ফান্ডে। Stock SIP-র মাধ্যমেও নির্দিষ্ট সময় পর পর বিনিয়োগ করা যাবে আপনার সুবিধা অনুযায়ী। তবে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে যেমন diversification of asset class-এর সুযোগ থাকে, stock SIP-তে সেই সুযোগ থাকে না। Stock SIP-তে আপনাকে স্টকেই নিয়মিত বিনিয়োগ করে যেতে হয়। Stock SIP-র ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সম্পদ তৈরির পাশাপাশি বাজারের ঝুঁকি ও রিটার্নের ভারসাম্য তৈরি হয়। একবারে কোনো স্টকে বিনিয়োগ না করে নিজের সুবিধামতো নিয়মিত কিস্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পছন্দমতো সময়ের ব্যবধানে বিনিয়োগ করতে পারেন।
কেন Stock SIP করবেন?
→ Stock SIP করলে আপনাকে lump sum investment করতে হয় না এবং অল্প অল্প অর্থ নিয়মিত জমা করা যায়। এতে আপনি দীর্ঘসময় ধরে ভালো রিটার্নের সুযোগ পান।
→ যেহেতু নিয়মিত বিনিয়োগ করা হয় তাই বিনিয়োগের সুন্দর শৃঙ্খল বা discipline তৈরি হয়, এবং ভবিষ্যতের আর্থিক লক্ষ্যে পৌঁছনোর পরিকল্পনা আগে থেকেই করা যায়।
→ এই ধরনের SIP-তে আলাদা আলাদা sector ও কোম্পানির স্টকে নিয়মিত একই পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে আপনি একটি stock portfolio তৈরি করতে পারেন। এর ফলে বেশ কিছুটা diversified হয় আপনার investment।
→ SIP-তে আমরা নিয়মিত ব্যবধানে বিনিয়োগ করি। ফলে কোনো মাসে শেয়ারের দাম সামান্য বেশি আবার কোনো মাসে কিছুটা কমে কিনতে পারি। এই কারণে rupee-cost average-এর সুবিধা পাওয়া যায় যেটা আমরা mutual fund-এর SIP-র ক্ষেত্রেও পেয়ে থাকি। এই জন্য প্রতিনিয়ত বাজারের ওঠানামা দেখার ঝক্কি থাকে না। Rupee-cost averaging-এর ফলে কেন বাজারের ওঠানামা দেখার দরকার পড়ে না সেটি বোঝা যাক।
SIP-র investment amount প্রতি মাসে একই থাকার ফলে যখন market high থাকে তখন শেয়ারের দাম বেশি থাকায় কম শেয়ার ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট হয়, আবার যখন market low থাকে তখন শেয়ারের দাম কম থাকায় ওই একই অর্থ দিয়ে বেশি শেয়ার কেনা যায়, যার জন্য গড় দামে কেনার সুযোগ তৈরি হয়। একটি উদাহরণ দিয়ে Stock SIP-তে rupee-cost averaging বোঝা যাক। ধরুন আপনি প্রতি মাসে একটি স্টকে ৫০০০ টাকা করে বিনিয়োগ করেন। এবার আগামী ৬ মাসের মধ্যে প্রত্যেক মাসেই যদি আপনি ৫০০০ টাকা করেই বিনিয়োগ করেন তাহলে দামের গড় কীভাবে হচ্ছে দেখুন। আমরা ধরে নিচ্ছি প্রথম মাসে শেয়ারের দাম ১০০ টাকা।
Rupee Cost averaging
| মাস | বিনিয়োগ | শেয়ারের দাম | শেয়ার সংখ্যা |
| জানুয়ারি | ৫০০০ টাকা | ১০০ টাকা | ৫০ টি |
| ফেব্রুয়ারি | ৫০০০ টাকা | ১০০ টাকা | ৫০ টি |
| মার্চ | ৫০০০ টাকা | ৯৫ টাকা | ৫২ টি |
| এপ্রিল | ৫০০০ টাকা | ১০৫ টাকা | ৪৭ টি |
| মে | ৫০০০ টাকা | ১১০ টাকা | ৪৫ টি |
| জুন | ৫০০০ টাকা | ১০০ টাকা | ৫০ টি |
সুতরাং ৬ মাসে মোট বিনিয়োগ (৫০০০*৬) = ৩০,০০০ টাকা
মোট শেয়ার সংখ্যা (৫০ + ৫০ + ৫২ + ৪৭ + ৪৫ + ৫০)
= ২৯৪ টি
অর্থাৎ শেয়ারের গড় দাম দাঁড়াল (৩০,০০০ / ২৯৪) টাকা
= ১০২.০৪ টাকা।
এখানেই বোঝা যাচ্ছে যে, কোনো কোনো মাসে ১১০ বা ১০৫ টাকায় শেয়ার কিনলেও ৬ মাসের গড় যদি দেখা হয় তাহলে দেখা যাবে আপনি ১০২.০৪ টাকা গড়ে শেয়ার কিনেছেন। Stock SIP-তে দামের গড়ের সুবিধা পাওয়া যায়।
→ Mutual fund-এর মতো কোনো exit load বা expense ratio নেই stock SIP-তে।
বিনিয়োগের আগে কী কী বিবেচনা করা দরকার?
প্রথমত, mutual fund-এর মতো diversification নেই স্টকে, যার ফলে SIP-র মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হলেও ঝুঁকি কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। কারণ শেয়ারের দাম নানা বিষয়ের উপর বাড়ে বা কমে। আর যেহেতু এখানে আপনাকে শুধুমাত্র স্টকেই বিনিয়োগ করতে হচ্ছে তাই অন্যান্য diversified বিনিয়োগ বিকল্প থেকে অনেকটাই বেশি ঝুঁকি বহন করে এই বিনিয়োগ।
দ্বিতীয়ত, Stock SIP করতে হলে স্টক বা কোম্পানি সম্পর্কে আপনার গভীর রিসার্চ করা প্রয়োজন। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মতো এখানে কোনো ম্যানেজার থাকবে না যিনি আপনার portfolio ম্যানেজ করবেন। আপনাকে নিজে থেকে শেয়ার বেছে বিনিয়োগ করতে হবে এবং পোর্টফোলিও নিজেকেই actively manage করতে হবে। ফলে কোম্পানি বা স্টক সম্পর্কে বিচক্ষণ হতে হবে। আপনি না বুঝে যদি এমন কোম্পানিতে SIP শুরু করেন যার গ্রোথ খুব কম, কোম্পানিটি কোনো মুনাফা করছে না তাহলে সেটি একটি bad investment-এ পরিণত হবে।
তৃতীয়ত, exit load না থাকলেও STT, brokerage ইত্যাদি চার্জ রয়েছে স্টক SIP-তে।
অর্থাৎ stock SIP-তে যেমন রিটার্ন বেশি হওয়ার সম্বাবনা রয়েছে ঠিক তেমন প্রচুর ঝুঁকিও বহন করে equity বা stock। এছাড়াও এই investment যেহেতু আপনাকে সক্রিয়ভাবে ম্যানেজ করতে হয় তাই কোম্পানির যাবতীয় খবরাখবর, ম্যানেজমেন্ট, রেভিনিউ, অতীতের পারফরমেন্স ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত থাকতে হয়। সেইজন্য stock SIP করতে হলে যে স্টকগুলি বাছবেন সেইগুলি সম্পর্কে আগে থেকে রিসার্চ করা অত্যন্ত জরুরি।





