Article By – সুনন্দা সেন

২০২৫ সাল গোল্ড ETF বিনিয়োগকারীদের জন্য ছিল এক ঐতিহাসিক বছর। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির ধারাবাহিক সোনা কেনা এবং সুদের হার সংক্রান্ত উদ্বেগের জেরে অনেক গোল্ড ETF-এ ৭০% থেকে ৭২% পর্যন্ত রিটার্ণ মিলেছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে ২০২৬ সালে কি এই রকম রিটার্ণ আবার পাওয়া সম্ভব? উত্তরে বাজার বিশেষজ্ঞরা নিজের মতামত প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, ২০২৫ সালের মতো এত বড় উন্নয়ন ২০২৬ সালে পুনরাবৃত্তি হওয়া কঠিন। কারণ ওই র্যালির বড় অংশ এসেছিল অস্বাভাবিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও ‘সেফ হ্যাভেন’ চাহিদা থেকে।
২০২৬ সালে সোনার বাজারে প্রবৃদ্ধি থাকলেও তা হতে পারে আরও ধীর ও স্থিতিশীল। বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের ধারণা, ২০২৬ সালে সোনার দাম উর্ধ্বমুখী থাকলেও রিটার্ণ এক অঙ্ক বা মাঝারি দ্বি-অঙ্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। সুদের হার কমার সম্ভাবনা, ডলার সূচকের ওঠানামা এবং বিশ্ব অর্থনীতির গতি; এই সবকিছুই সোনার দামের গতি ও নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি আগের মতো সোনা কেনা চালিয়ে যায়, তাহলে গোল্ড ETF-এ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ একই ভাবে বজায় থাকবে। সাথে ২০২৬ সালে গোল্ড ETF-কে দ্রুত লাভের মাধ্যম নয়, বরং পোর্টফোলিও ভারসাম্যের হাতিয়ার হিসেবে দেখা উচিত।
কারণ ঝুঁকির দিকটিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। যদি বিশ্ব অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়, শেয়ারবাজারে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে। যারপর সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে গোল্ড ETF-এ স্বল্পমেয়াদি চাপ দেখা যেতে পারে। ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল টাকার বিনিময় হার। ডলারের বিপরীতে টাকার দুর্বলতা থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম স্থিতিশীল থাকলেও দেশীয় গোল্ড ETF ভালো রিটার্ণ দিতে পারে। যার ফলে ২০২৬ সালের রিটার্ণ অনেকটাই নির্ভর করবে বৈশ্বিক ও দেশীয় দুই অর্থনৈতিক বাস্তবতার উপর। তাই ২০২৫ সালের মতো ৭০%-এর বেশি রিটার্ণ আশা না করে ঝুঁকি কমানো ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য সীমিত অংশ গোল্ড ETF-এ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মত বিশ্লেষকদের।




