শেয়ার বাজারে মুনাফা অর্জনের জন্য কেবলমাত্র ইনভেস্টমেন্ট নয়, ট্রেডিং-কেও অনেকেই বেছে নেন। যদিও একথা সত্যি যে ট্রেডিং অনেক বেশি ঝুঁকিসম্পন্ন এবং এক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। ফলে যেসব বিনিয়োগকারী বা ট্রেডাররা অধিক মুনাফার আশায় অধিক ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত তাঁরা এই ট্রেডিং সচরাচর করে থাকেন। সেইরকমই ট্রেডিং-এর একটি পদ্ধতি হল অপশন ট্রেডিং।
অপশন ট্রেডিং বেছে নেওয়ার সময়, ভারতীয় ট্রেডার ও ইনভেস্টররা একাধিক বিষয় বিবেচনা করেন যেগুলি অপশন ট্রেডিং-এর দামে প্রভাব ফেলে। ফলে NSE বা BSE উভয় এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রেই এই বিষয়গুলি সম্পর্কে ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। আজকে আমরা আলোচনা করব সেই ফ্যাক্টরগুলির বিষয়ে যা ভারতীয় বাজারে অপশন প্রাইসিং-কে প্রভাবিত করে।
অন্তর্নিহিত অ্যাসেটের দাম:
অপশনের মূল্য কত হবে তা জানার সবচেয়ে প্রধান বিষয়টি হল underlying asset price বা অন্তর্নিহিত অ্যাসেটের দাম। অ্যাসেটের দাম পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে দাম পরিবর্তিত হয়। Underlying asset-এর দাম পরিবর্তিত হলে অপশনের প্রিমিয়ামেও তার প্রভাব পড়ে। সাধারণত অ্যাসেটের দাম বাড়লে call options-এর ভ্যালু বেড়ে যায়। অন্যদিকে অ্যাসেটের দাম কমলে put options-এর দাম বাড়ে। ভারতীয় শেয়ার বাজারে শেয়ার দাম বিভিন্ন অর্থনৈতিক কারণে প্রভাবিত হয়। ফলে অপশনের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল অ্যাসেটের দাম খুব গুরুত্বপূর্ণ।
স্ট্রাইক প্রাইস:
যে কোনো অপশন চুক্তি করার সময় স্ট্রাইক প্রাইস হিসেবে একটি অর্থ প্রদান করতে হয়। কোনো অপশন কন্ট্রাক্টের আসল ভ্যালু বুঝতে এই স্ট্রাইক প্রাইসের গুরুত্ব অনেকটা। যে অপশনের স্ট্রাইক প্রাইস underlying asset-এর মার্কেট প্রাইসের কাছাকাছি তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রিমিয়াম বেশি হয়। অন্যদিকে, যে অপশনগুলির স্ট্রাইক প্রাইস আন্ডারলাইং অ্যাসেটের মার্কেট প্রাইসের কাছাকাছি থাকে না, তাদের মূল্য কম হয়। ফলে ভারতীয় ট্রেডাররা অপশন ট্রেডিং-এর সময়ে বর্তমান মার্কেট প্রাইসের সঙ্গে স্ট্রাইক প্রাইস তুলনা করে অপশন নির্বাচন করেন।
Expiry:
অপশনের দামে আরও যে বিষয়টি প্রভাব ফেলে তা হল সময়। অপশন expire হতে কতদিন বাকি আছে তার উপর নির্ভর করে অপশন নির্বাচন। যেমন সাধারণত দীর্ঘতর সময়ের ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয় আন্ডারলাইং অ্যাসেটের দাম বাড়বে ফলে অপশনের দামও বাড়বে। Expiration date নিকটে এলে অপশনের time worth অর্থাৎ সময়ের মূল্য কমে আসে। একে time decay বলে। অপশনের time value-তে মেয়াদের গুরুত্ব রয়েছে। মেয়াদ ফুরোনোর সময় কাছে এলেই time value কমে যায় এবং অপশনের সামগ্রিক প্রিমিয়াম প্রভাবিত হয়।
ভোলাটিলিটি:
মূল অ্যাসেট বা underlying asset-এর দামের পরিবর্তন বোঝা যায় ভোলাটিলিটি দেখে। অপশনের expiry হওয়ার আগে অপশন চুক্তিটির অধিক মুনাফা অর্জনের সুযোগ বেশি তৈরি হয় যদি ভোলাটিলিটি বেশি থাকে। ফলে সম্ভাব্য দামের কতটা পরিবর্তন হবে তা জানতে অতীত ও ভবিষ্যতের ভোলাটিলিটি দেখা হয়। ভারতে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কার্যকলাপ এবং ব্যবসায়িক খবরের মাধ্যমে ভোলাটিলিটি বাড়ে বা কমে, এবং এর ফলে দামের গতিবিধি পরিবর্তিত হয়। সাধারণত ভোলাটিলিটি অধিক হলে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধির কারণে প্রিমিয়ামও বেড়ে যায়।
সুদের হার:
অপশনের দামে প্রভাব ফেলে সুদের হার কারণ সুদের হার পরিবর্তন হলে underlying asset-এর হোল্ডিং-এর দামেরও পরিবর্তন হয়। ইন্টারেস্ট রেট বাড়লে, কল অপশনের দাম কিছুটা বাড়তে পারে এবং পুট অপশনের দাম কমতে পারে। সেই কারণে সুদের হার পরিবর্তনের উপর বিনিয়োগকারী ও ট্রেডারদের নজর থাকে কারণ এটি তাঁদের ট্রেডিং ও দাম নির্ধারণে সাহায্য করে।
ডিভিডেন্ড:
যে স্টকগুলি ডিভিডেন্ড দেয় সেই স্টকগুলির ক্ষেত্রে অপশনের দামে প্রভাব ফেলে ডিভিডেন্ড। যেহেতু ex-dividend-এর দিন অন্তর্নিহিত কোম্পানির স্টকের দাম কমে যায় তাই এক্ষেত্রে কল অপশনের প্রিমিয়ামও কমে যায়। আবার অন্যদিকে পুট অপশনের মূল্য কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।
লিক্যুইডিটি এবং মার্কেট সেন্টিমেন্ট: মার্কেট সেন্টিমেন্ট এবং লিক্যুইডিটি অপশন প্রাইসিং-এ প্রভাব ফেলে। মার্কেট অধিক লিক্যুইড থাকলে bid-ask gap কম থাকে। ফলে সঠিক দাম বুঝতে সাহায্য হয়। এছাড়াও দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ কী মনে করছেন বা বাজার কেমন ফলাফল করছে ইত্যাদিও অপশন প্রাইসিং-এ প্রভাব ফেলে।
উপরোক্ত ফ্যাক্টরগুলি বিবেচনা করে বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নিলে অপশন ট্রেডিং নির্বাচনে সুবিধা হবে এবং সঠিকভাবে অপশনের প্রিমিয়ামের মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।





