যেসব অ্যাসেট এবং লায়াবিলিটির দাম কিছুসময় পরপর পরিবর্তন হয় তাদের সঠিক যথাযথ দাম নির্ধারণের জন্য ব্যবহার করা হয় mark to market পদ্ধতি। Mark to market-এর উদ্দেশ্য হল কোনো ব্যবসার বা একক কোনো ব্যক্তির সম্পদ ও দায়ের সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত বা হ্রাসপ্রাপ্ত মূল্য খুঁজে বের করা। চলুন এবার বিশদে জানা যাক বিষয়টি সম্পর্কে।
যখন আমরা কোনো অ্যাসেট বা লায়াবিলিটির দামে সামঞ্জস্য এনে সেগুলির বর্তমান মার্কেট ভ্যালু জানতে চাই, তখন সেই পদ্ধতিকে বলে MTM বা Mark to Market। যেমন ধরুন কোনো এক ব্যক্তি ১০০ টাকার একটি শেয়ার কিনেছেন এবার দিনের শেষে দেখা গেল শেয়ারের দাম কমে ৯০ টাকা হল। এবার যেহেতু দাম কমে ১০০ টাকা থেকে ৯০ টাকা হয়ে গেল তাই ওই ব্যক্তির নিজস্ব খাতে শেয়ারটির বর্তমান দাম লেখা থাকবে ৯০ টাকা এবং ওই ব্যক্তির ১০ টাকা ক্ষতি হয়েছে ধরা হবে। অর্থাৎ ওই ব্যক্তি মার্কেট অনুযায়ী নিজের সম্পদের দামে সামঞ্জস্য আনলেন। এ তো গেল কোনো ব্যক্তিবিশেষের কথা।
এবার অন্য একটি উদাহরণ দেখা যাক কোম্পানির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। ধরুন কোনো কোম্পানির কাছে একটি অ্যাসেট আছে যার মূল্য ১০ লাখ টাকা। তবে বাজারে মন্দার কারণে সেই অ্যাসেটের বর্তমান বাজারমূল্য কমে হয়েছে ৯ লাখ টাকা। সেই কারণে কোম্পানির বইতে ওই অ্যাসেটের ভ্যালু ১০ লাখ থেকে ১ লাখ টাকা কমিয়ে ৯ লাখ টাকা দেখাতে হবে। এবার জেনে নেওয়া যাক mark to market-এর গুরুত্ব কী।
Mark to market-এর গুরুত্ব:
- রিয়াল টাইম ভ্যালুয়েশন: যেকোনো অ্যাসেট যা লায়াবিলিটির আসল ভ্যালুয়েশন দেখাতে সাহায্য করে mark to market। সম্পদ বা দায়ের আসল ভ্যালুয়েশন না জানলে কোনো কোম্পানি বা কোনো একক ব্যক্তি নিজেদের net worth জানতে পারবে না। ফলে অ্যাসেট ও লায়াবিলিটির আসল মূল্য জানা যায় mark to market থেকে।
- ফলাফলের পরিমাপক: কোনো কোম্পানি হোক বা কোনো ব্যক্তি অ্যাসেট এবং লায়াবিলিটির ফলাফল কেমন তা বুঝতে mark to market সাহায্য করে।
- নিয়ন্ত্রণগত বাধ্যতা: অনেকসময় বাজার নিয়ন্ত্রকরা MTM ব্যবহার করে যাতে যেসব বিনিয়োগকারীরা position নিচ্ছেন তাঁরা যেন পর্যাপ্ত ক্যাপিটাল বজায় রাখেন যাতে মার্জিনের প্রয়োজনীয় শর্ত মেনে চলা যায়।
- ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ: বিনিয়োগকারীরা অ্যাসেট ও লায়াবিলিটির সঠিক মূল্য জানলে তাঁদের ঝুঁকি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। যেমন, ধরুন, কোনো বিনিয়োগকারী একটি শেয়ার কিনেছেন। এবার তিনি স্টকটির বর্তমান দাম দেখার পাশাপাশি stop loss সেট করতে পারেন। বর্তমানের দামে চোখ রাখার অর্থই হল mark to market ব্যবহার করা। এবার যদি স্টকটির দাম কমতে থাকে তাহলে প্রথমত stop loss সেট করা এবং দ্বিতীয়ত স্টকের বর্তমান দামে নজর রাখার ফলে ওই বিনিয়োগকারীর লস বা ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
- স্বচ্ছতা: যখন কোনো কোম্পানি নিজেদের সকল সম্পদ ও দায়গুলির দাম বর্তমান বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনে, তখন কোম্পানিটি সম্পর্কে সকল শেয়ারহোল্ডারদের স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হয়।
- পোর্টফোলিওতে নজর রাখা: যতক্ষণ না আপনি নিজের অ্যাসেট ও লায়াবিলিটির বর্তমান বাজার মূল্য জানছেন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিজের পোর্টফোলিওর লাভ বা ক্ষতি সম্পর্কে জানতে পারবেন না।
ভারতীয় বাজারে mark to market ব্যবহার হয় কীভাবে?
ভারতীয় শেয়ার বাজারে প্রতিদিন পজিশন নেওয়া প্রতিটি ট্রেডারের প্রত্যেকদিনের লাভ বা ক্ষতি জানতে ব্যবহার হয় এই মেকানিজম। এইজন্যই একজন ট্রেডারের অ্যাকাউন্টে প্রতিদিন মার্জিন পরিবর্তিত হয়। একটি উদাহরণসহ বোঝা যাক।
ধরা যাক, একজন ট্রেডার Y স্টকের ফিউচার কন্ট্র্যাক্ট কিনলেন সোমবার, যেটি সেইসময় ১০০০ টাকায় ট্রেড করছিল। ধরা যাক প্রতিটি ফিউচার কন্ট্র্যাক্টে ১০০টি Y শেয়ার ছিল। আমরা ধরে নিচ্ছি ওই বিনিয়োগকারীর ফিউচার কন্ট্র্যাক্টের জন্য বর্তমানে ৭০,০০০ টাকার মার্জিন আছে এবং ন্যূনতম মার্জিনের শর্ত হল ৬৫,০০০ টাকা।
এবার দেখা গেল ফিউচার কন্ট্র্যাক্টের ভ্যালু মঙ্গলবার হল ১২০০ টাকা। বুধবার হল ৯৫০ টাকা, বৃহস্পতিবার হল ৯০০ টাকা।
দিন | ফিউচার প্রাইস | Profit / loss per share | লট সাইজ | মোট P/L | প্রাথমিক মার্জিন | শেষে মার্জিন |
| সোমবার | ১০০০/- | – | ১০০ | – | ৭০০০০ টাকা | ৭০০০০ টাকা |
| মঙ্গলবার | ১২০০/- | ২০০ | ১০০ | ২০,০০০ | ৭০০০০ টাকা | ৯০০০০ টাকা |
| বুধবার | ৯৫০/- | – ২৫০ | ১০০ | ২৫০০০ | ৯০০০০ টাকা | ৬৫০০০ টাকা |
| বৃহস্পতিবার | ৯০০/- | – ৫০ | ১০০ | – ৫০০০ | ৬৫০০০ টাকা | ৬০,০০০ টাকা |
বৃহস্পতিবার দিনের শেষে margin হয়ে গেল ৬০,০০০ টাকা যেটি মার্জিনের ন্যূনতম শর্ত (৬৫,০০০ টাকা) থেকে কম। সেইজন্য ব্রোকার বৃহস্পতিবার দিনের শেষে মার্জিন কল ইস্যু করবে। এর ফলে ওই ট্রেডারকে হয় নতুন করে ফান্ড ডিপোজিট করতে হবে অথবা Position থেকে exit নিতে হবে।




