শেয়ারের দাম কখনও সমান বা এক থাকে না, উঠানামা করতে থাকে। এবং সুইং ট্রেডিং দামের এই মুভমেন্টের সুযোগ নেয়। সুইং ট্রেডিং-এ কোনো মোমেন্টামের দিকে নজর রাখা হয় এবং সেই মোমেন্টাম কোন দিকে ঘুরতে পারে তার সম্ভাব্য পয়েন্টগুলি খোঁজার চেষ্টা করা হয়।
ডে ট্রেডিং বা ইন্ট্রাডে ট্রেডিং শর্ট টার্মে চটজলদি লাভের জন্য বেশ জনপ্রিয় হলেও সুইং ট্রেডিং অনেকের কাছে ততটা জনপ্রিয় নয়। আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হল সুইং ট্রেডিং।
সুইং ট্রেডিং কী?
সুইং ট্রেডিং একটি ট্রেডিং পদ্ধতি যেখানে স্বল্পমেয়াদে, সাধারণত কয়েকদিন থেকে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত কোনো স্টক বা অন্যান্য কোনো ইনস্ট্রুমেন্টে লাভের জন্য ট্রেড করা হয়। বাজারে দামের ওঠানামা এবং মোমেন্টাম বুঝে তার সঠিক ব্যবহার করা হয় সুইং ট্রেডিং-এ। সুইং ট্রেডিং-এ টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে entry ও exit-এর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। Day trading-এ একদিনের মধ্যেই পজিশন ক্লোজ করতে হয়, long term investment-এ দীর্ঘসময়ের জন্য হোল্ড করে রাখতে হয়। কিন্তু swing trading ইন্ট্রাডের তুলনায় বেশি সময়ের জন্য হয় তবে long term-এর মতো buy and hold পদ্ধতি এখানে মানা হয় না।
সুইং ট্রেডিং কেন গুরুত্বপূর্ণ:
মূলত কোনো কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল পরিবর্তনের ফলে স্বল্পমেয়াদে স্টকের দামের যে পরিবর্তন দেখা যায়, তাতে লাভের চেষ্টা করে সুইং ট্রেডিং। সুইং ট্রেডিং-এর প্রফিটের সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে সঠিক স্টক বাছাইয়ের মধ্যে, যে স্টকগুলির অল্পদিনের মধ্যেই বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। সুইং ট্রেডাররা ছোটো ছোটো প্রফিটের মাধ্যমে প্রফিট ভলিউম বাড়িয়ে বড় উল্লেখযোগ্য প্রফিট করেন। তবে তার জন্য stop loss level 2%-3%-এর মতো রাখতে হয়।
কীভাবে কাজ করে সুইং ট্রেডিং?
1. যথাযথ স্টক নির্বাচন: সফল সুইং ট্রেডিং-এর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপই হল সঠিক স্টক বাছাই। আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে স্টকটি আপনি বাছবেন সেটি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এরপর দেখতে হবে যে স্টকটি নির্বাচন করা হচ্ছে সেটির trading volume বেশি আছে কি না এবং যথেষ্ট liquid কি না। সুইং ট্রেডিং-এর জন্য লার্জ ক্যাপ স্টক উপযুক্ত। অ্যাক্টিভ মার্কেটে এই স্টকগুলি wide range-এ অর্থাৎ বিস্তৃত পরিসরে ওঠানামা করে। সুইং ট্রেডাররা এই ওঠানামার সময়ে সুযোগ বুঝে entry নেন এবং যখনই trend বিপরীতে direction-এ যায় তার আগেই exit নেন।
2. টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস: সম্ভাবনাময় স্টক বাছাইয়ের পর, পরবর্তী পদক্ষেপ হল ভালোভাবে দামের মুভমেন্ট এবং প্যাটার্নগুলি বিশ্লেষণ করা। MACD, RSI ইত্যাদি ইন্ডিকেটরগুলি ব্যবহার করে টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস করা হয়। এছাড়াও প্রাসঙ্গিক খবরাখবরে নজর রাখা, কোম্পানি বা সেই ইন্ডাস্ট্রির নতুন কোনো ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে জানা দরকার।
3. এন্টি এবং এক্সিট: অ্যানালাইস করার পর, পরের ধাপ হল কোন পয়েন্টে এন্টি নেবেন এবং কোন পয়েন্টে এক্সিট সেটি ঠিক করতে হবে। ঝুঁকি কম রাখতে এন্টি পয়েন্টের 4%-5% নীচে stop loss set করা যেতে পারে। ঠিক একইভাবে প্রফিট maximize করতে entry point-এর 20% বেশিতে target set করা যেতে পারে। সুইং ট্রেডিং-এর উদ্দেশ্য হল শেয়ারের support level-এ শেয়ারটি কেনা এবং resistance level-এ বিক্রি করে দেওয়া।
4. মুভমেন্ট বোঝা: স্টকের support ও resistance point বোঝা সুইং ট্রেডিং-এ খুব জরুরি। এই লেভেল বুঝে কখন কোনো স্টক নিজের support level থেকে resistance level-এ পৌঁছাবে সেটি বুঝলে সুইং ট্রেডিং-এ শর্ট টার্মে কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়।
কোন কোন ইন্ডিকেটর ব্যবহার হয় সুইং ট্রেডিং-এ?
→ Moving average: মুভিং অ্যাভারেজ দামের পরিবর্তনগুলিকে সহজ করে ওভারঅল ট্রেন্ড দেখায়। স্টকের দাম যদি মুভিং অ্যাভারেজের উপর থাকে তাহলে up trend বোঝায়, নীচে হলে downtrend।
→ Bollinger Band: কোনো স্টক বেশি ক্রয় বা বিক্রয় হতে পারে কিনা বোঝা যায় এই ইন্ডিকেটরের সাহায্যে।
→ RSI (Relative Strength Index): RSI দেখায় কোনো স্টক overbrought বা oversold হয়েছে কিনা।
→ MACD: ট্রেডে কোনোরকম পরিবর্তন বা মোমেন্টামে কোনোধরনের বদল দেখায় MACD।
সুইং ট্রেডিং-এর সুবিধা-অসুবিধা:
সুবিধা :
→ শর্ট টার্মে দামের ওঠানামার সুযোগ কাজে লাগাতে সাহায্য করে সুইং ট্রেডিং।
→ সুইং ট্রেডিং-এ কয়েকদিন থেকে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত হোল্ড করা হয়। ফলে সবসময় মার্কেটে নজর রাখতে হয় না।
→ সুইং ট্রেডিং পুরোটাই প্রাইস চার্ট, প্যাটার্ন ইত্যাদির উপর নির্ভরশীল। ফলত অনেক নিয়ম মেনে, ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অসুবিধা :
→ সুইং ট্রেডাররা একসঙ্গে একাধিক ট্রেড করেন, ফলে ট্রেডিং-এর খরচ বেড়ে যায়, যা সামগ্রিক লাভের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।
→ সুইং ট্রেডিং short থেকে medium duration-এর হয়। ফলে হঠাৎ কোনো মার্কেট ভোলাটিলিটির এবং হঠাৎ আবার পরিস্থিতি আগের জায়গায় ফিরে আসা ইত্যাদি ঘটনার সম্মুখীন হতে পারেন সুইং ট্রেডাররা।
→ অপ্রত্যাশিত কোনো খবর বা কোনো ভুয়ো খবরে স্বল্পমেয়াদে দামের ব্যাপক ওঠানামা হয়, ফলে আসল ট্রেড বা প্রবণতা বোঝা অনেক সময় সম্ভব হয় না।





