নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল। তবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল আসলে কী? সহজে বললে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল স্টার্টআপগুলিকে অর্থ সাহায্য দিয়ে থাকে যাতে তারা নিজেদের চিন্তাভাবনাগুলিকে বাস্তবে পরিণত করতে পারে এবং গ্রো করে। নতুন উদ্যোগপতিদের প্রয়োজনে ফান্ডিং পেতে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সম্পর্কে জানতে হবে। তবে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল যে শুধুমাত্র অর্থ সরবরাহ করে তা নয়। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ছোটো ছোটো ব্যবসা বা নতুন গড়ে ওঠা ব্যবসায় equity funding করে। ফান্ডিং-এর পাশাপাশি অভিজ্ঞতাও প্রদান করে যাতে ব্যবসা বৃদ্ধি পায়। ইক্যুইটির পরিবর্তে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড এবং অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
আজকে আমরা জেনে নেব ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ব্যাপারে— এটি কী, এর গুরুত্ব কী, কীভাবে এটি কাজ করে ইত্যাদি বিষয়ে।
ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কী?
ভেঞ্চার ক্যাপিটাল হল সেই ফান্ড বা অর্থ যেটি কোনো বিনিয়োগকারী সেইসব নতুন বা ছোটো ব্যবসায় প্রদান করে যাদের বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধরনের বিনিয়োগ সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ হয় তবে যদি সেই ব্যবসার উন্নতি হয় তাহলে বেশ লাভজনক হয়। সাধারণ ঋণের থেকে বেশ কিছুটা পার্থক্য রয়েছে ভেঞ্চার ক্যাপিটালে। এখানে সাধারণত ব্যবসায় ইক্যুইটি বা মালিকানার পরিবর্তে মূলধন প্রদান করা হয়। অর্থাৎ ব্যবসাটিকে প্রভাবিত করে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল।
অর্থাৎ সংক্ষেপে বলা যেতে পারে, নতুন উদ্যোগপতি যাঁরা নতুন কোনো পণ্য বা পরিষেবা তৈরি করতে ইচ্ছুক এবং একইসাথে বিনিয়োগকারীদের নিজেদের অর্থের পরিবর্তে ভালো রিটার্নের সুযোগ তৈরি করতে চান তাঁদেরকে সহায়তা করে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল।
যেসমস্ত বিনিয়োগকারী নতুন কোম্পানি বা স্টার্টআপকে ভেঞ্চার ক্যাপিটালের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করে তাঁদেরকে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট বলে। ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট একক কোনো ব্যক্তি হতে পারে, কোনো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম হতে পারে বা কোনো কর্পোরেট সংস্থা হতে পারে।
ভেঞ্চার ক্যাপিটালের গুরুত্ব:
→ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: যেসব বিনিয়োগকারী ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করেন তাঁদের কাছে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর ফলে নতুন ব্যবসাগুলি নিজের ভুল এড়িয়ে চলতে পারে এবং নিজেদের ব্যবসায়িক কৌশল উন্নত করতে পারে।
→ যোগাযোগের সুযোগ তৈরি : ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টরা অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে স্টার্টআপের যোগাযোগ তৈরির সুযোগ করে দেয়, যার কারণে অনেক নতুন সুযোগ সামনে আসে।
→ বিশ্বাসযোগ্যতা: নিজের স্টার্টআপের জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটালের সহায়তা পাওয়া অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। ফলে অন্যান্য গ্রাহক, বিনিয়োগকারীদের কাছে স্টার্টআপের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।
→ ঝুঁকি কমানো: নতুন উদ্যোগপতিরা আর্থিক ঝুঁকি একা নিজেরা বহন না করে, কিছু ইক্যুইটি প্রদানের পরিবর্তে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও সেই ঝুঁকি ভাগ করে দেয়। যার কারণে বিনিয়োগকারীরা ব্যবসার উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় ঝুঁকি গ্রহণ করেন।
কীভাবে কাজ করে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল?
(১) বিনিয়োগকারীদের সামনে বর্ণনা প্রদান: নতুন ব্যবসাগুলি নিজেদের পরিকল্পনা, বৃদ্ধির সম্ভাবনা, নিজেদের লক্ষ্য ইত্যাদি ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টদের কাছে উপস্থাপন করেন।
(২) ব্যবসার মূল্যায়ন: বিনিয়োগের আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ব্যবসার ধরন, মার্কেটের সম্ভাবনা, আর্থিক পরিস্থিতি, ঝুঁকি ইত্যাদি মূল্যায়ন করেন।
(৩) বিনিয়োগের চুক্তি: যদি ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট আগ্রহী হন তাহলে বিনিয়োগের অর্থ এবং ইক্যুইটির পরিমাণ সম্পর্কে দুই পক্ষই সম্মত হয়।
(৪) সক্রিয় অংশগ্রহণ: একবার চুক্তি হয়ে গেলে, বিনিয়োগকারী অর্থাৎ যিনি স্টার্টআপে অর্থপ্রদান করেছেন ব্যবসায় সক্রিয় অংশ নেন।
(৫) ব্যবসা থেকে বেরিয়ে আসা: স্টার্টআপ কোম্পানিটি যখন কিছু বছর পর একটি পরিণত ব্যবসা হয়ে ওঠে সেইসময় ক্যাপিটালিস্ট নিজের বিনিয়োগ থেকে বেরিয়ে আসেন।
কখন ভেঞ্চার ক্যাপিটালের প্রয়োজন হয়?
→ যখন কোনো ব্যবসা দ্রুত ভালোরকম বৃদ্ধি করতে শুরু করে তবে নতুন ফান্ডের অভাব দেখা যায়, সেইসময় ব্যবসার সম্প্রসারণে, নতুন পণ্য বা পরিষেবার উন্নতিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটালের প্রয়োজন পড়ে।
→ আর্থিক সহায়তা বাদেও যখন ব্যবসায় মূল্যবান পরামর্শের প্রয়োজন পড়ে এবং মেন্টরের প্রয়োজন হয় তখন VC বা ভেঞ্চার ক্যাপিটালের দরকার হয়।
→ যদি আপনি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে থাকেন এবং নিজেকে উন্নত জায়গায় রাখতে চান তাহলে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সেক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারে, যাতে আপনি আপনার অন্যান্য প্রতিযোগীদের তুলনায় এগিয়ে থাকেন।
তবে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টের বেশ কিছু সুবিধা অসুবিধা আছে। যেমন–
সুবিধা:
→ ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টদের থেকে উল্লেখযোগ্য ফান্ড পাওয়া যায়, যার ফলে স্টার্টআপগুলির বৃদ্ধিতে সাহায্য হয়।
→ ঋণ বা লোনের ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধের বিষয় থাকে কিন্তু ভেঞ্চার ক্যাপিটালে আপনি ইক্যুটির বিনিময়ে অর্থ পান তাই অর্থ পরিশোধ করতে হয় না।
অসুবিধা:
→ ব্যবসার মালিকানার কিছু অংশ প্রদানের ফলে ব্যবসার কিছু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন ব্যবসার প্রতিষ্ঠাতা। কারণ তখন ব্যবসা পরিচালনায় বিনিয়োগকারীদেরও ভূমিকা থাকে।
→ ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট অধিক রিটার্ন আশা করেন। এটি নতুন উদ্যোগপতিদের উপর বেশ চাপ সৃষ্টি করে।
→ ফান্ডিং যত বাড়তে থাকে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠাতার মালিকানা বা লগ্নি কমে আসে। ফলে ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণও কমে যায় প্রতিষ্ঠাতার।





