ভারতীয় শেয়ার বাজার বর্তমানে জনপ্রিয় বিনিয়োগ মাধ্যমে পরিণত হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ খুচরো বিনিয়োগকারী নিজেদের বিনিয়োগ বাড়াতে demat account খুলছেন। তবে খুচরো বিনিয়োগকারী হোক বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী— কেউই সরাসরি শেয়ার বাজারে ট্রেড করতে পারেন না। বিনিয়োগ করতে হলে তাঁদের স্টক ব্রোকারের মাধ্যমে demat account খুলতে হবে। আর এখানেই সাব ব্রোকারের উল্লেখ বা প্রসঙ্গ আসবে। আজকের আলোচনায় আমরা জানব কীভাবে ভারতে স্টক ব্রোকিংকে পেশা হিসেবে নেওয়া যায়।
সাব ব্রোকার কে?
কীভাবে সাব ব্রোকার হওয়া যাবে জানতে হলে আগে বুঝতে হবে সাব ব্রোকারের কাজ কী। NSE-র সংজ্ঞা অনুযায়ী সাব ব্রোকার একজন ট্রেডিং মেম্বার অর্থাৎ broking firm ও একজন client অর্থাৎ বিনিয়োগকারীর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। সহজে বললে, মধ্যস্থতাকারীর কাজ করে সাব ব্রোকার। একজন স্টক ব্রোকার যেমন বিনিয়োগকারী ও স্টক মার্কেটের যোগাযোগ করিয়ে দেয়, তেমনভাবেই একজন স্টক ব্রোকার ও বিনিয়োগকারীর যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন সহজতর করে সাব ব্রোকার।
সাব ব্রোকার হতে গেলে বেশ কিছু ধাপ পেরিয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। এই পেশা নির্বাচন করতে হলে আর্থিক বাজার, মার্কেট ট্রেন্ড, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ইত্যাদি সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে।
সাব ব্রোকারের দায়িত্ব কী কী?
- সাব ব্রোকারের কাজ হল ট্রেডিং এবং ইনভেস্টমেন্টে আগ্রহী এমন সম্ভাব্য গ্রাহক খুঁজে আনা। এঁদের কাজ হল ব্রোকারেজ ফার্মটির সুবিধা সম্পর্কে গ্রাহককে জানানো, গ্রাহকের আর্থিক লক্ষ্য বোঝা এবং তাঁদেরকে অ্যাকাউন্ট খোলানোর জন্য রাজি করানো।
- গ্রাহককে ট্রেডিং শুরু করার ক্ষেত্রে সহায়তা ও উপদেশ দেওয়ার দায়িত্ব থাকে সাব ব্রোকারের ওপর।
- গ্রাহককে ট্রেডিং কল অফার করা, transaction নিয়ে যে-কোনোরকম সমস্যা সমাধান, ক্লায়েন্ট স্যাটিসফেকশন ইত্যাদি সুবিধা দিয়ে থাকে সাব ব্রোকার।
- স্টক এক্সচেঞ্জ দ্বারা নির্ধারিত নিয়মগুলি মেনে চলে সাব ব্রোকার। ফলে KYC অনুযায়ী গ্রাহকের তথ্যাদি যাচাই করা সাব ব্রোকারের কাজ।
- এছাড়াও সাব ব্রোকাররা স্বতন্ত্র রিসার্চ ও অ্যানালাইসিস করে গ্রাহকদের মূল্যবান তথ্য প্রদান করে, যাতে বিনিয়োগকারীরা সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
সাব ব্রোকার হতে গেলে কী যোগ্যতা প্রয়োজন?
আপনি যদি একজন সাব ব্রোকার হতে চান তাহলে তার জন্য নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা দরকার। যেমন,
1. SEBI-র নিয়ম অনুযায়ী উচ্চমাধ্যমিক অর্থাৎ ১০+২ পাশ করে থাকতে হবে।
2. Demat account, trading পদ্ধতি, আর্থিক লেনদেন সহ আর্থিক বাজার সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান থাকতে হবে।
3. Online trading platform-এ কাজ করার জন্য কম্পিউটার ও সফটওয়্যার সম্পর্কে প্রযুক্তিগত জ্ঞান।
4. ব্রোকারেজ প্ল্যাটফর্মের জন্য নতুন গ্রাহক আনা এবং রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্টের জন্য ভালো কমিউনিকেশন স্কিল প্রয়োজন।
কীভাবে একজন সাব ব্রোকার হওয়া যায়?
→ প্রথম ধাপ : সাব ব্রোকার ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল নির্বাচন করতে হবে প্রথমে। এর জন্য প্রথমেই আপনাকে বিভিন্ন স্টক ব্রোকিং হাউসের বিজনেস মডেল দেখতে হবে এবং তার মধ্যে থেকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে।
→ দ্বিতীয় ধাপ : এরপর সেই প্ল্যাটফর্মে সাব ব্রোকারের যোগ্যতা কী রাখা হয়েছে সেটি দেখতে হবে।
→ তৃতীয় ধাপ : এলিজিবিলিটি ক্রাইটেরিয়া আপনার যোগ্যতার সঙ্গে মিলে গেলে পরবর্তী ধাপে broking house দ্বারা নির্ধারিত দরকারি কাগজপত্র জমা করতে হবে। যেমন,
- সাব ব্রোকারের রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন পত্র।
- আপনার এবং স্টক ব্রোকিং হাউসের মধ্যে একটি স্বাক্ষরিত চুক্তি।
- ঠিকানার প্রমাণপত্র। এছাড়াও আরও কিছু নথি যেমন, রেশন কার্ড, ইলেকট্রিক বিল, টেলিফোন বিল, ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যাংক স্টেটমেন্ট ইত্যাদি।
→ চতুর্থ ধাপ : এই ধাপে আপনাকে একটি প্রসেসিং ফি দিতে হবে। সাধারণত জিএসটি নিয়ে ২০০০ টাকা হয় এই প্রসেসিং চার্জ।
→ পঞ্চম ধাপ : সমস্ত নথি ও প্রসেসিং ফি নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার অনলাইনে আপনার আবেদন এক্সচেঞ্জে জমা করবে।
→ ষষ্ঠ ধাপ : আপনার আবেদন এক্সচেঞ্জে পৌঁছানোর পর সেটি নিখুঁতভাবে দেখা হবে। যদি কোনো সমস্যা দেখা যায়, এক্সচেঞ্জ থেকে ওই আবেদনপত্র আবার আপনার কাছে পাঠানো হবে সংশোধনের জন্য এবং পরে সেটি পুনরায় জমা করতে হবে।
→ সপ্তম ধাপ : আপনার আবেদন এক্সচেঞ্জ যদি অনুমোদন করে তাহলে এই ধাপে আপনাকে একটি SEBI রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে। এই পেমেন্ট সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যাপার আপনার হয়ে সেই স্টক ব্রোকার করে দেবে।
→ অষ্টম ধাপ : SEBI রেজিস্ট্রেশন ফি পাওয়ার পর সেবির তরফ থেকে আপনাকে একটি সাব ব্রোকার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট দেওয়া হবে, যার মধ্যে একটি ইউনিক রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া থাকবে। রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার পর আপনি সাব ব্রোকার হিসেবে পেশা শুরু করতে পারেন।
সাব ব্রোকারের পেশা ফিনান্সিয়াল মার্কেটে অনেক সুবিধা প্রদান করে এবং বর্তমানে ভারতে এটি একটি লাভজনক পেশা। একজন সাব ব্রোকার বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে সাহায্য করে কমিশন পেতে পারেন। বর্তমানে অনলাইন ব্রোকারেজ প্ল্যাটফর্ম সহজ ট্রেডিং সুবিধা দিলেও অনেকেই demat account ও ইনভেস্টমেন্টের জন্য সাব ব্রোকারের সাহায্য নিয়ে থাকেন। সাব ব্রোকার অনলাইন ব্রোকার ও ক্লায়েন্টের মাঝে যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং ক্লায়েন্টের লেনদেনের ভিত্তিতে কমিশন পেয়ে থাকেন।




