Article By – সুনন্দা সেন

নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে পরিচিত সোনা (Gold)। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার পরও এবার উল্টো পথে হাঁটছে বিনিয়োগ বিকল্পরুপী গোল্ড। চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা টানা ছয় সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতনের মুখে। সাধারণত যুদ্ধ বা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিনিয়োগ বিকল্প হিসেবে সোনার দিকে অগ্রসর হোন। কিন্তু এবার সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম চলতি সপ্তাহে ১২% পর্যন্ত বেড়েছে।
এদিকে বাজারের ধারণা, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং অনুমান করা হচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে তারা এই উচ্চ স্তর ধরে রাখবে। সাথে ডিসেম্বর মাসে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। আর এটা সত্যি যে সুদের হার বাড়লে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা বেশি রিটার্ণ পাওয়ার জন্য বন্ড বা অন্যান্য সুদপ্রদানকারী সম্পদের দিকে অগ্রসর হয়ে পড়েন। এর ফলেই নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়লেও সোনার দামে চাপ সৃষ্টি করেছে।
ভারতে সম্ভাব্য আরও দাম কমার অপেক্ষায় অনেক ক্রেতাই আপাতত সোনা কেনা স্থগিত রেখেছেন। ফলে বাজারে ছাড়ও বেড়েছে। শুধু সোনাই নয় রুপো; প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও এই সপ্তাহে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। সাথে এই ঘটনা আরও দেখা যে শুধুমাত্র যুদ্ধা বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা নয়, মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশাও আন্তর্জাতিক সোনার বাজারকে বড়ভাবে প্রভাবিত করে। আগামী দিনে তেলের দাম এবং মার্কিন ফেডের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই সোনার দামে পরবর্তী দিক নির্ভর করবে।




