শেয়ার বাজার থেকে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারের দাম বৃদ্ধি থেকে লাভ করেন এবং আরও একভাবে শেয়ার বাজার থেকে আয় করা যায়, সেটি হল ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে। কোম্পানির লাভের কিছু অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হলে তাকে ডিভিডেন্ড বলে। এই ডিভিডেন্ড কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে কোম্পানির শেয়ারের দামে প্রভাব ফেলে। কীভাবে জানেন? চলুন, সহজ উদাহরণের মাধ্যমে তাহলে দেখা যাক কীভাবে ডিভিডেন্ড শেয়ারের দামকে প্রভাবিত করে।
আমরা প্রথমেই বললাম যে, ডিভিডেন্ড হল কোম্পানির লাভের একটি অংশ যা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। আর ডিভিডেন্ড মূলত নগদে বা কখনও অতিরিক্ত শেয়ার হিসাবেও দেওয়া যেতে পারে।
Ex-dividend date-এর আগে শেয়ারের দাম বাড়ে
→ Ex-dividend date-এর আগে যাঁরা শেয়ার কেনেন তাঁরা আসন্ন ডিভিডেন্ড পান।
→ যেহেতু আসন্ন ডিভিডেন্ড অনেকেই পেতে চান তাই এই বিশেষ দিন অর্থাৎ ex-dividend-এর আগে শেয়ারের চাহিদা বাড়তে থাকে।
→ ফলে চাহিদা বাড়লে স্বাভাবিকভাবে দামও বাড়ে।
সহজ একটা উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাপারটা বোঝা যাক –
ধরুন ABC নামের একটি কোম্পানি শেয়ার পিছু ৫ টাকা ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।
- কোম্পানিটির ex-dividend date ধরুন সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ তারিখ।
- ১৫ তারিখের আগে যাঁরা শেয়ার কিনবেন তাঁরা আসন্ন ডিভিডেন্ড পাওয়ার যোগ্য হবেন।
- এবার আমরা ধরে নিচ্ছি ১০ তারিখ অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বর ABC কোম্পানির শেয়ারের দাম ১০০ টাকা ছিল।
- যেহেতু ex-dividend date-এর আগে শেয়ার কিনতে হবে তবেই আসন্ন ডিভিডেন্ড পাওয়া যাবে তাই ওই সময়ে শেয়ারটির চাহিদা বাড়বে এবং দেখা গেল ex-dividend-এর আগে অর্থাৎ ১৪ তারিখ শেয়ারটি ১০৩ টাকায় ট্রেড করা শুরু করল।
এবার দেখে নিন ex-dividend-এর দিন শেয়ারের দামের কেমন পরিবর্তন হয়।
- তার আগে জানতে হবে ex-dividend-এর দিন থেকেই শেয়ারের দামের মধ্যে আর ডিভিডেন্ড ভ্যালু যুক্ত থাকে না।
- যাঁরা ex-dividend বা তারপর শেয়ার কিনবেন তাঁরা dividend পাবেন না।
- ফলে এখন চাহিদা আগের মতো না থাকায় দামও কমবে স্বাভাবিকভাবে।
- বাজারের সাধারণ প্রতিক্রিয়া হিসেবেই শেয়ারের দাম কমে যাবে কারণ এখন আর বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ডিভিডেন্ডের জন্য কিনবেন না।
ফলে, যেহেতু ডিভিডেন্ডের পরিমাণ ছিল প্রতি শেয়ারে ৫ টাকা করে তাই ex-dividend-এর দিন ওই পরিমাণেই শেয়ারের দাম কমে আসবে। অর্থাৎ ১৪ তারিখ যে শেয়ার ১০৩ টাকায় ট্রেড করছিল সেটি পরেরদিন অর্থাৎ ex-dividend date-এ (১০৩ – ৫)= ৯৮ টাকায় ট্রেড করবে। অর্থাৎ dividend-এর ভ্যালু শেয়ারের দামে আর যুক্ত থাকবে না।
এবার দেখা যাক স্টক ডিভিডেন্ডের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আসে।
- স্টক ডিভিডেন্ডকে বোনাস ইস্যুও বলা হয়।
- এখানে নগদ নয় বরং অতিরিক্ত শেয়ার ডিভিডেন্ড হিসাবে দেওয়া হয়।
- ফলে বাজারে শেয়ারের সংখ্যা বেড়ে যায়।
- এতে EPS বা Earning Per Share কমে আসে।
উদাহরণের সাহায্যে বোঝা যাক –
- ধরা যাক ABC ফার্মের ১,০০,০০০ টি outstanding শেয়ার রয়েছে, অর্থাৎ বাজারে কোম্পানিটির ১ লাখ শেয়ার কেনাবেচা চলে।
- শেয়ারের বর্তমান দাম ১০০ টাকা।
- কোম্পানিটি প্রতি ১০ টি শেয়ারের জন্য ১ টি নতুন শেয়ার বোনাস ইস্যুর কথা ঘোষণা করল।
- এর অর্থ হল মোট (১,০০,০০০ / ১০) = ১০,০০০ বোনাস শেয়ার ইস্যু করা হবে।
- ফলে outstanding শেয়ারের সংখ্যা বেড়ে হল (১,০০,০০০ + ১০,০০০) =১,১০,০০০ টি।
এবার দেখা যাক শেয়ারের দামে কী প্রভাব পড়বে।
- আমরা জানি EPS-এর ফরমুলা হল Net income ÷ no. of outstanding shares।
- এবার যেহেতু net income বা earning পরিবর্তন হল না কিন্তু আউটস্ট্যান্ডিং শেয়ারের বেড়ে গেল, তাই এতে EPS-এর মান কমে যাবে।
- কারণ ওই একই পরিমাণ আয় এখন বেশি সংখ্যক শেয়ারের মধ্যে ভাগ করতে হচ্ছে।
- এর ফলস্বরূপ শেয়ারের দাম কমে আসবে। তার কারণ হল বিনিয়োগকারীরা মনে করবেন EPS কম মানে কোম্পানির প্রতি শেয়ারে আয় কম, তাই শেয়ারের চাহিদা কমলে দাম কমবে।
তবে মনে রাখতে হবে শেয়ারের এই যে দাম কমা বা বেড়ে যাওয়া এটা সম্পূর্ণটাই সাময়িক। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রভাব থাকে না।





