Article By – সুনন্দা সেন

ভারতীয় শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে টানা বিক্রির চাপ দেখা গেলেও এক ব্যাতিক্রমী প্রবণতা সামনে এসেছে। বড় ও ছোট শেয়ারে বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বা FII যেখানে শেয়ারের হোডিং হার কমাচ্ছেন, সেখানে মিড-ক্যাপ স্টকগুলিতে তাদের অংশীদারিত্ব বাড়ছে। সাম্প্রতিক শেয়অরহোল্ডিং ডেটা অনুযায়ী, নিফটি মিডক্যাপ ১৫০ সূচকে FII হোল্ডিং টানা তৃতীয় ত্রৈমাসিকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬.৪%-এ। যা বিনিয়োগকারীদের কৌশলগত অবস্থান বদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই তথ্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই সময়ে সামগ্রিক বাজারে এফআইআইরা নিট বিক্রেতা হিসেবেই থেকেছেন।
এর বিপরীতে, বড় ক্যাপ বা লার্জ-ক্যাপ শেয়ারগুলিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্ব কমেছে। নিফটি ৫০ কোম্পানিগুলিতে FII হোল্ডিং নেমে এসেছে সাম্প্রতিক কয়েক ত্রৈমাসিকের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে। স্মল-ক্যাপ সেগমেন্টেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ধীরে ধীরে কমছে। অর্থাৎ FII- দের বিনিয়োগ এখন আর বাজারজুড়ে ছড়ানো নয়, বরং অত্যন্ত নির্বাচিত ও কৌশলগত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে।
প্রথমত, বহু লার্জ-ক্যাপ শেয়ারের মূল্যায়ন দীর্ঘদিন ধরে বেশ চড়া অবস্থায় রয়েছে, ফলে সেখানে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। দ্বিতীয়ত, অনেক মিড-ক্যাপ কোম্পানির ব্যবসায়িক ভিত মজবুত, অর্ডার বুক শক্তিশালী এবং আগামী কয়েক বছরে আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বেশি। ফলে বাজার সংশোধনের সময় এফআইআইরা এই ধরনের স্টককে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা। বাজার পড়ার সময় DII লার্জ, মিড এবং স্মল—সব ধরনের শেয়ারেই সক্রিয়ভাবে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন।
এর ফলে FII-দের বিক্রির চাপ অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং বাজারে অতিরিক্ত আতঙ্ক ছড়ানো রোধ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক স্তরে মার্কিন সুদের হার, ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে FIIs এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবুও মিড-ক্যাপ শেয়ারে বিনিয়োগ বাড়ানোর অর্থ হল, তারা ভারতীয় অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির গল্পে আস্থা হারাননি।




