Article By – সুনন্দা সেন

দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা বা FPIs ধীরে ধীরে তাদের নেতিবাচক অবস্থান বা টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতা শুরু করেছেন। সাম্প্রতিক প্রকাশিত ডেরিভেটিভ ডেটা অনুযায়ী, জানুয়ারির প্রায় রেকর্ড নিম্ন স্তর থেকে বিদেশী ফান্ড ম্যানেজাররা তাদের শর্ট পজিশন কিছুটা কমিয়েছেন। এতে বাজারে হতাশা কিছুটা কমেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল– এই পরিবর্তন এখনও শক্তিশালী bullish ট্রেন্ডে পরিণত হয়নি। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে শর্ট বা নেতিবাচক বাজি ধরে রেখেছেন।
বিশেষ করে ওয়াল স্ট্রিটে AI-নির্ভর র্যালি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিশ্ববাজারের ওঠানামা তাদের সতর্ক করে রেখেছে। ফলে তারা এখনই বড় অঙ্কে ভারতীয় বাজারে কেনাকাটা শুরু করেননি। অন্যদিকে ফেব্রুয়ারির শুরুতে কিছু ইতিবাচক প্রবণতাও দেখা গেছে। কয়েক মাসের বিক্রির পর বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আবার ভারতীয় শেয়ারে প্রায় ১৯,৬৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তি, কম মুদ্রাস্ফীতি এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক সূচক এই বিনিয়োগে সহায়তা করেছে। তবুও ২০২৫ সালের বড় আউটফ্লোর প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি, তাই বাজারে সতর্কতা বজায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক শর্ট-কভারিং মূলত টেকনিক্যাল কারণেও হতে পারে। আগে থেকে বড় bearish পজিশন থাকায় সামান্য ভালো খবর এলেই কিছু শর্ট বন্ধ করা স্বাভাবিক। কিন্তু সম্পূর্ণভাবে বুলিশ হতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরও স্পষ্ট সংকেত চাইছেন— যেমন বৈশ্বিক সুদের হার, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় শেয়ারবাজারে স্বল্পমেয়াদে রেঞ্জ-বাউন্ড ট্রেডিং চলতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পুরোপুরি ফিরে না এলে বড় র্যালি দেখা কঠিন। তবে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্ত থাকায় ধীরে ধীরে বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




