Article By – সুনন্দা সেন

ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিক থেকেই ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি বা IT সেক্টরে বড়সড় বিক্রির চাপ তৈরি করেছে বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FPIs)। বাজার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, FIIs বা বিদেশী ফান্ডগুলি মোট প্রায় ১০,৯৬৫ কোটি টাকার IT শেয়ার বিক্রি করেছে। এই বিক্রির ফলে IT সেক্টরে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মোট অংশীদারি চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মূল কারণ হলো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মার্কিন বাজারে IT ব্যয়ের গতি কমার আশঙ্কা।
ভারতের IT কোম্পানিগুলোর বড় অংশের আয় আসে মার্কিন ও ইউরোপের ক্লায়েন্টদের থেকে। যার ফলে বিদেশে কর্পোরেট খরচ কমার ইঙ্গিত মিললেই বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে শুরু করেন। বিশেষ করে বড় IT কোম্পানি, যেমন – ইনফোসিস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস এবং উইপ্রোর শেয়ারে বিক্রির চাপ বেশি দেখা গেছে বলে বাজার সূত্রে জানা যাচ্ছে। এই সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক চাহিদার ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতির সামান্য দুর্বল সংকেতেও শেয়ারের দামে দ্রুত প্রভাব পড়ে।
এছাড়াও মার্কিন সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিদেশি ফান্ডগুলি উদীয়মান বাজার থেকে কিছু টাকা তুলে নিরাপদ বা উচ্চ ফলনের মার্কিন সম্পদে সরিয়ে নেওয়ার এই আশঙ্কাও বিক্রির একটি বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন সুদনীতি নির্ধারণ করে ফেডারেল রিজার্ভ এবং তাদের সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে ফান্ড ফ্লোতে বড় প্রভাব ফেলে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, IT সেক্টরের ভ্যালুয়েশন গত কয়েক বছরে তুলনামূলক বেশি ছিল। এখন যখন আয়ের বৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হচ্ছে, তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা লাভ তুলে নিচ্ছেন এবং পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস করছেন।
তবে সবটাই নেতিবাচক নয়। দীর্ঘমেয়াদে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, ক্লাউড, AI ও সাইবার সিকিউরিটি পরিষেবার চাহিদা বাড়তে থাকায় ভারতীয় IT ইন্ডাস্ট্রির মৌলিক ভিত্তি এখনও শক্তিশালী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাময়িক বিক্রি থাকলেও অর্ডার বুক ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিগুলি সেক্টরকে সাপোর্ট দিতে পারে। বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে, স্বল্পমেয়াদে AI শেয়ারে ভোলাটিলিটি থাকতে পারে। তাই তাড়াহুড়ো করে বড় সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোম্পানির ফলাফল, গাইডেন্স এবং বৈশ্বিক আইটি ব্যয়ের ট্রেন্ড দেখে বিনিয়োগ করা উচিত।




