Article By – সুনন্দা সেন

ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের বিক্রির ধারা আরও তীব্র হয়েছে। টানা এগারো সপ্তাহ ধরে তারা ভারতীয় ইক্যুইটি মার্কেট থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। অবশ্য এটাই প্রথম নয় বছরের এই পর্যন্ত ভারত থেকে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূলধন অফলোড করেছে। যা FPI হোল্ডিংকে ১৫ বছরের সর্বনিম্নে নিয়ে গেছে। এছাড়া এর ফলে শেয়ার বাজারেও চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে প্রফিট বুকিং শুরু হওয়ায় বাজারের লিক্যুইডিটি এবং স্বল্পমেয়াদে শেয়ার মূল্যে প্রভাব পড়ে। সাথে ডলারের বিপরীতে ধারাবাহিকভাবে রুপী দুর্বল হচ্ছে, কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা টাকা তুলে নেওয়ায় ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মুদ্রাস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
জানা যাচ্ছে যে ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের টানা আউটফ্লোর পেছনে একাধিক বৈশ্বিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, বাজারে বর্তমানে উচ্চ মূল্যায়নের কারণে বিদেশি ফান্ডগুলোকে আরও সতর্ক করেছে। এছাড়া ভারতের বাজার কাঠামো গ্লোবাল টেক চালিত প্রবণতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, ফলে অনেক আন্তর্জাতিক ফান্ড বিকল্প বাজার খুজছে। এদিকে রুপি দুর্বল হওয়ায় মুদ্রা সংক্রান্ত খুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি করার জন্য ইন্ধন যোগ দিচ্ছে।
বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বা বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের বিক্রির প্রবণতা ও ভারতীয় বাজারের প্রতি প্রবণতা পাল্টাতে পারে। তবে তা নির্ভর করছে বেশকিছু পয়েন্টের ওপর। আর সেগুলি হল –
- মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি কমে গেলে বা গ্লোবাল সুদের হার কমলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আবার উদীয়মান বাজারে ফিরতে পারেন।
- ভারতীয় কর্পোরেট আয় বা ম্যাক্রো ডেটা প্রত্যাশার বেশি হলে FPI পুনরায় আগ্রহ দেখাতে পারে।
- সরকারি সংস্কার, নীতি সহজীকরণ ও কর্পোরেট গভর্নেন্স শক্তিশালী হলে বিদেশিদের আস্থা বাড়বে।
- রুপি স্থিতিশীল হলে এবং রপ্তানি বাড়লে মুদ্রা-ঝুঁকি কমে যাবে।




