ভারতীয় শেয়ার বাজারের প্রধান দুই সূচক সেনসেক্স এবং নিফটি 50 আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালের সেশনে ঊর্ধ্বমুখে ট্রেড করেছে। এই বলিষ্ঠ ট্রেডিং আমেরিকার শেয়ার বাজারের বর্তমান ট্রেন্ডকে প্রতিফলিত করে। আমেরিকায় স্টক মার্কেটে এই ধরনের গতির কারণ মূলত প্রত্যাশা অনুযায়ী US Federal Reserve অর্থাৎ আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপরিবর্তিত সুদের হার।
আজ সেনসেক্স ৫০০ পয়েন্ট বেড়েছে এবং Nifty50 পৌঁছেছে ২৩,০৫০ পয়েন্টে। আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার হ্রাস না করলেও এবং বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস সংশোধন করলেও আমেরিকার বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যার ফল ভারতীয় বাজারেও লক্ষ করা গেছে।
S&P 500 এবং Nasdaq যথাক্রমে 1.08% এবং 1.41% বেড়েছে। মনে করা হচ্ছে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভের বেঞ্চমার্ক সুদের হার একই অর্থাৎ 4.25%-4.50%-এর মধ্যে রাখার জন্য এই বৃদ্ধি দেখা গেছে।
ভারতীয় শেয়ার বাজার বৃদ্ধিপ্রাপ্ত কেন হল?
ভারতীয় শেয়ার বাজারের এই বৃদ্ধি আমেরিকার বাজারের অনুরূপ হলেও মনে করা হচ্ছে US Fed Policy-র সিদ্ধান্তের থেকেও ডোমেস্টিক অর্থাৎ স্থানীয় বেশ কিছু কারণে ভারতীয় বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। টানা ৫ মাসের ক্ষতির পর এই প্রথম মার্চ মাসে Nifty 50 3%-এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
আসুন দেখে নেওয়া যাক এই বৃদ্ধির পেছনে সম্ভাব্য ৫টি কারণ:
→ ভ্যালুয়েশন:
শেয়ার বাজারের শীর্ষ স্থান থেকে ক্রমাগত কারেকশনের কারণে এই পর্যায়ে পৌঁছে ভারতীয় শেয়ার বাজার সঠিক ভ্যালুয়েশনে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা ভালো মানের স্টক সঠিক দামে কেনার জন্য আগ্রহী হচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় সবকটি সূচক গড় P/E (Price to Earning Ratio)-র তুলনায় কম দামে ট্রেড করছে, এমনকি স্মল ও মিড ক্যাপের ক্ষেত্রেও বিষয়টি সত্য।
→ বলিষ্ঠ অর্থনীতি:
সাম্প্রতিক ম্যাক্সোইকোনমিকসের তথ্যাদি অর্থনৈতিক বৃদ্ধি বা মার্কেট সেন্টিমেন্ট-সংক্রান্ত বেশ কিছু উদ্বেগ কমিয়েছে।
তিনটি ত্রৈমাসিকের ফলাফলের পর ভারতীয় অর্থনীতিতে পুনরুন্নয়ন দেখা যাচ্ছে। বর্তমান অর্থবর্ষ (FY ২০২৫)-এর তৃতীয় ত্রৈমাসিক অর্থাৎ ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে ভারতের GDP বেড়ে হয়েছে 6.2%। CPI(Consumer Price Index)-এর ভিত্তিতে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি যা জানুয়ারি মাসে ছিল 4.26%, কমে ফেব্রুয়ারি মাসে হয়েছে 3.61%। ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশনের সূচক ডিসেম্বরের তুলনায় (3.2%) জানুয়ারিতে বেড়ে হয়েছে 5%।
→ US Fed-এর সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা:
যদিও বর্তমান সময়ে আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং সংস্থা মার্চের পলিসি মিটিং-এ সুদের হার অপরির্তিতই রেখেছে, তা সত্ত্বেও জানা যাচ্ছে এই বছর আরও ২টি রেট কাট (rate cut)-এর সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মুদ্রাস্ফীতি একটি স্থিতিশীল জায়গায় থাকলে এপ্রিল মাসে RBI (Reserve Bank of India) সুদের হার কমাতে পারে।
→ আয় বৃদ্ধির প্রত্যাশা:
ভারতীয় আর্থিক বাজার আশা করছে ২০২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে আয় বাড়বে যা স্থানীয় বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেবে। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ভারতের আয় বৃদ্ধি 12%–14% হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই আয় ২০২৭ সাল নাগাদ আরও গতি পাবে, যার প্রতিফলন মোটামুটি আসন্ন ত্রৈমাসিক থেকেই দেখতে পাওয়া যাবে।
→ বৈদেশিক মূলধনের বহির্গমন হ্রাস:
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি যে ভারতীয় বাজার থেকে ক্রমাগত বৈদেশিক মূলধন Outflow অর্থাৎ বেরিয়ে গেছে, তা সত্ত্বেও এর প্রবণতা অনেকটাই কমবে, যা স্থানীয় বাজারের জন্য ইতিবাচক একটি ইঙ্গিত। আশা করা যাচ্ছে ২০২৫ সালের বর্তমান মাস অর্থাৎ মার্চের শেষে ভারতীয় বাজারের এই ক্রমাগত নিম্নগতি থামবে এবং ২০২৬ অর্থবর্ষে উন্নত মানের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ক্যাপযুক্ত স্টকগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে লাভের মুখ দেখবে।





