Article By – সুনন্দা সেন

আজ বৈশ্বিক শেয়াবাজারে চাপ থাকলেও ভারতীয় শেয়ার বাজার সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটছে। সেনসেক্স ৮০০ পয়েন্টেরও বেশি লাফিয়ে বেড়েছে এবং নিফটিও শক্তিশালী উর্ধ্বগতির সাথে লেনদেন করছে। ভারতীয় শেয়ার এখন অনেকটাই দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক ভিত্তি, কর্পোরেট আয় এবং দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করছে। এছাড়াও এই উত্থানের পেছনে মূলত চারটি বড় কারণ কাজ করছে, আর সেগুলি হলো–
- রাশিয়া-সংক্রান্ত মার্কিন শুল্ক নিয়ে কমতে থাকা আশঙ্কা:- বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, সম্ভাব্য নতুন মার্কিন পদক্ষেপের প্রভাব ভারতের ওপর তাৎক্ষনিকভাবে ততটা গুরুতর নাও হতে পারে। ফলে বাজারে আতঙ্ক কিছুটা কমেছে।
- বিদেশী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জোরালো কেনাকাটা:- বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে ক্রমাগত কেনাকাটার ফলে ব্যাংকিং, ফাইন্যান্স ও IT খাত বাজারকে উপরে তুলছে। দীর্ঘমেয়াদি ভারতের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আস্থা এখনও শক্তিশালী থাকায় এই বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে।
- দেশের অর্থনীতির মজবুত মৌলিক ভিত্তি:- উচ্চ GDP প্রবৃদ্ধি, স্থিতিশীল মূল্যস্ফীতি, সরকারি অবকাঠামো ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা ভারতের বাজারকে অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি স্থিতিশীল করে রেখেছে। তাই বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও ভারতীয় বাজারে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রয়েছে।
- শক্তিশালী কর্পোরেট রেজাল্টের প্রত্যাশা:- চলতি ত্রৈমাসিকের আয় ঘোষণার মৌসুমে বড় কোম্পানিগুলির ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা রয়েছে। সেই আশাতেই বিনিয়োগকারীরা আগেভাগে শেয়ার কিনছেন।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের উত্থান মূলত আতঙ্ক কমে যাওয়া এবং শক্তিশালী দেশীয় ক্রয়চাপের ফল। তাঁদের মতে, ভারতের অর্থনীতির ভিত্তি এখনও মজবুত, কর্পোরেট আয়ের সম্ভাবনাও ইতিবাচক। তবে তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন যে বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি, রাশিয়া-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আগামী দিনে বাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তাই স্বল্পমেয়াদি উত্থান দেখে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত না নিয়ে, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও সুষম পোর্টফোলিও বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।




