Article By – সুনন্দা সেন

গত পাঁচ মাসে ভারতীয় শেয়ার বাজারে তীব্র বিক্রিয়ের জন্য রেহাই পেলেন না ভারতের বড় বড়ো বিনিয়োগকারীরাও। দেশের কিছু সুপরিচিত ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরা ছোট কোম্পানির শেয়ারের দামের তীব্র পতনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ১ জানুয়ারি থেকে তাদের ইক্যুইটি পোর্টফোলিওর মূল্য ২৫% এবং ১ অক্টোবর থেকে প্রায় ৩০% হ্রাস পেয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে শীর্ষ ১০ জন ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীর সম্পদ মূল্য মোট প্রায় ৮১,০০০ কোটি টাকা কমেছে, যদিও কেউ কেউ ক্ষতি কমাতে সক্ষম হয়েছেন বা রিকভারি করতে পেরেছেন।
primeinfobase.com এর তথ্য অনুসারে, ১ অক্টোবর থেকে D’Mart-এর প্রতিষ্ঠাতা রাধাকিষণ দামানির সম্পদ ৬৪,০০০ কোটি টাকা বা ২৮% কমেছে। তার ইক্যুইটি সম্পদের পরিমাণ, ২.৩১ লক্ষ কোটি টাকা থেকে কমে ১.৬৭ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া দামানির প্রধান কোম্পানি অ্যাভিনিউ সুপারমার্টসের শেয়ারের দাম ২৭% কমেছে। যেখানে তার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগ, ট্রেন্টের শেয়ারের দাম ৩২% কমেছে। প্রয়াত রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার পারিবারিক পোর্টফোলিও ১ অক্টোবর থেকে ১৯% কমেছে। সম্প্রতি তালিকাভুক্ত ইনভেন্টুরাস নলেজ সলিউশন বাদে, যেখানে পরিবারের ৪৯.৫৪% শেয়ার রয়েছে যার মূল্য ১৪,৪০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এই হোল্ডিং সহ, পরিবারের মোট পোর্টফোলিও মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৯,৭০৯ কোটি টাকা। অক্টোবর থেকে আকাশ বনশালীর পোর্টফোলিও ১৬% হ্রাস পেয়েছে এবং গুজরাট ফ্লুরোকেমিক্যালস ১৩% হ্রাস পেয়েছে। যেখানে তার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগ, ওয়ান ৯৭ কমিউনিকেশনস (পেটিএমের মূল সংস্থা) এই সময়ের মধ্যে ৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাক্তন বিনিয়োগ ব্যাংকার থেকে উদ্যোক্তা হওয়া হেমেন্দ্র কোঠারির তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির সম্পদে ২৯% পতন দেখা গেছে। ১ অক্টোবর থেকে তার দুটি শীর্ষ হোল্ডিং – অ্যালকাইল আমিনস কেমিক্যালস এবং সোনাটা সফটওয়্যারের যথাক্রমে ২৮% এবং ৩৩% পতন ঘটেছে।
১ অক্টোবর থেকে নিফটি ১১% হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে নিফটি মিডক্যাপ ১৫০ এবং নিফটি স্মলক্যাপ সূচক যথাক্রমে ১৭% এবং ২২% কমেছে। বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা বা FPI ২.৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ভারতীয় ইক্যুইটি রিডিম করেছে। যার ফলে মুকুল আগরওয়াল, আশীষ কচোলিয়া এবং ইউসুফফালি কাদেরের মতো কিছু বিনিয়োগকারী ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের লোকসান একক অঙ্কে সীমাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছেন। পরম ক্যাপিটালের মুকুল আগরওয়ালের পোর্টফোলিওতে ৬% পতন দেখা গেছে।




