Article By – সুনন্দা সেন

মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাব এখন পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং বিশ্ব শেয়ার বাজারে। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি যেমন কিছু শিল্পক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করছে, তেমনই কিছু খাতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগও তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম বাড়লে সাধারণত সবচেয়ে বেশি লাভবান হয় তেল উৎপাদন ও অনুসন্ধানকারী সংস্থাগুলি। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম বাড়লে এই সংস্থাগুলির আয় ও মুনাফা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। ভারতের ক্ষেত্রেও একই ছবি দেখা যেতে পারে।
আবার বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে নজরে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা Oil and Natural Gas Corporation এবং Oil India Limited। পাশাপাশি বড় বেসরকারি সংস্থা Reliance Industries-এর ক্ষেত্রেও তেলের দামের উত্থান ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আরেকটি খাতেও বিনিয়োগকারীদের নজর বাড়ছে, তা হলো প্রতিরক্ষা শিল্প। সাধারণত আন্তর্জাতিক সংঘাত বাড়লে বিভিন্ন দেশ তাদের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ায়। এর ফলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির অর্ডার ও আয়ের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।
ভারতের ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা Hindustan Aeronautics Limited এবং Bharat Electronics Limited-এর শেয়ারের দিকে অনেক বিনিয়োগকারী নজর রাখছেন। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ Strait of Hormuz-এ জাহাজ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই সমুদ্রপথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবহণ করা হয়। যদি এই রুটে পরিবহণে বাধা তৈরি হয়, তাহলে তেলের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম আরও বাড়তে পারে।
তবে এই পরিস্থিতি সব শিল্পক্ষেত্রের জন্য ইতিবাচক নয়। বিশেষ করে যেসব সংস্থার জ্বালানি খরচ বেশি, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়তে পারে। বিমান সংস্থা, পরিবহণ শিল্প এবং কিছু উৎপাদনশীল শিল্প তেলের দাম বাড়ার ফলে চাপে পড়তে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়বে। তবে একই সঙ্গে বাজারে কিছু নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি হতে পারে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগকারী তেল, জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ারের দিকে বিশেষ নজর রাখছেন।




