Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের প্রাথমিক পাবলিক বাজার বা IPO খাত ২০২৬ সালের জন্য এক ঐতিহাসিক বছর হতে চলেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। এই সম্ভাব্য রেকর্ড বছরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মুকেশ আম্বানি (Mukesh Ambani)- এর সংস্থা Reliance Jio Platforms-এর বহুল প্রতীক্ষিত শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তি। জিওর IPO শুধু ভারতের নয়, এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ লিস্টিং হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে ভারতের IPO বাজার ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে একের পর এক বড় লিস্টিংয়ের সাফল্যের পর ২০২৬ সালে মোট আইপিও তহবিল সংগ্রহ নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে।
এই রেকর্ড যাত্রার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে উঠে আসছে রিলায়েন্স জিওর IPO, যা বাজারে বিপুল বিনিয়োগকারীর আগ্রহ তৈরি করতে সক্ষম। বাজার সূত্রে খবর, রিলায়েন্স জিও তাদের মোট শেয়ারের একটি ছোট অংশ প্রায় ২% থেকে ৩% প্রাথমিক পাবলিক অফারের মাধ্যমে বাজারে আনতে পারে। তাতেই কয়েক বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্রোকারেজ সংস্থার মতে, জিওর সম্ভাব্য ভ্যালুয়েশন ১৭০ থেকে ১৮০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। এই হিসেবে জিওর IPO ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় IPO-গুলোর তালিকায় শীর্ষে জায়গা করে নিতে পারে।
মুকেশ আম্বানি আগেই জানিয়েছেন, রিলায়েন্স গ্রুপের ডিজিটাল ও টেলিকম ব্যবসা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে আলাদা করে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া যুক্তিযুক্ত। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ২০২৬ সালেই জিওর লিস্টিং হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। আর এই IPO বুমের পেছনে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা। রিটেল ইনভেস্টর, মিউচুয়াল ফান্ড এবং বিমা সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যেখানে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও উচ্চ ভ্যালুয়েশন নিয়ে কিছুটা সতর্ক, সেখানে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ভারতীয় বাজারকে স্থিতিশীল রাখছে।




