buzywithinfoBuzy With Info
Everything About Business
fpi

মাত্র ৩ দিনে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি! বিদেশী বিনিয়োগকারীদের এই অ্যাকশনের কি প্রভাব পড়ছে ভারতীয় বাজারে?

Article By – সুনন্দা সেন

Untitled design 2024 08 09T113155.925

গত তিন ট্রেডিং সেশনে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (Foreign Portfolio Investors) ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছে। এটি খুব বড় পরিমাণের বিক্রি এবং বাজারে অস্থিরতার অন্যতম প্রধান কারণ। এই ধরনের বড় আকারের সেলিং সাধারণত বাজারে চাপ তৈরি করে এবং সূচককে নিচে নামিয়ে দেয়। একই সময়ে, শেয়ারের পাশাপাশি ডেট সেক্টরেও ফ্লো কমেছে। ডেট মার্কেটের ডিসেম্বরের প্রথম তিন দিনে ইনফ্লো ছিল শুধু ৩০৩ মিলিয়ন ডলারের, যা গত মাসের তুলনায় কম। অবশ্য শুধু এই মাসে নয়, চলতি বছরের অধিকাংশ সময় FPI- দের শেয়ার বিক্রি করতে দেখা গেছে। 

July 18 New in article ads By Sir 1

২০২৫ সালের শুরু থেকে এই পর্যন্ত FPIs মোট ১৭.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ভারতীয় মার্কেট থেকে বের করেছে এবং এটি এই বছরের জন্য এটি সবচেয়ে বড় পুঁজিবহির্গমন বা আউটফ্লো। তবে কেনো বিদেশী পোর্টিফলিওর বিনিয়োগকারীরা সেলঅফের পথ বেছে নিয়েছে?– 

  • যখন মার্কিন বন্ডে রিটার্ন বাড়ে, তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে সেগুলো অনেক বেশি নিরাপদ ও লাভজনক মনে হয়। ফলে তারা শেয়ারবাজার থেকে টাকা তুলে সেখানে পার্ক করে। এই কারণে ভারতসহ উদীয়মান দেশগুলোতে FPI money বেরিয়ে যায়।
  • ডলার শক্তিশালী হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় সম্পদে কম আগ্রহ দেখায়, কারণ তাদের বিনিয়োগের লাভ ডলারে রূপান্তর করার সময় ঝুঁকি বাড়ে। তাই তারা টাকা তুলে নেয়—ফলে sell-off বেড়ে যায়।
  • যুদ্ধ পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের টানাপোড়েন, তেলের দাম বৃদ্ধি FPIs–এর মনে অস্থির সৃষ্টি করে। আর তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি খরচও বাড়ে, অর্থনীতি চাপে পড়ে, তার প্রভাব বাজারেও পড়ে।
  • ব্যাংকিং, আইটি, FMCG–র মতো ভারী ওজনের সেক্টরে যদি দুর্বল আর্নিং বা গাইডেন্স আসে, FPIs–রা দ্রুত এ সেগমেন্টে sell-off শুরু করে। কারণ লার্জ ক্যাপ সেলিং মানেই পুরো ইনডেক্সে চাপ।
  • অনেক বড় ফান্ড মানছে যে ভারতীয় বাজারে স্বাভাবিকভাবেই একটি correction আসতে পারে। এই আশঙ্কাও sell-off বাড়ায়।
  • ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক কবে রেট কাটবে তা নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলে FPIs ঝুঁকিপূর্ণ বাজারে বিনিয়োগ কমায়। রেট কাটা দেরি হলে FPI outflow বেড়ে যায়। এখনো এমটাই হচ্ছে। 

বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের (FPI) ধারাবাহিক বিক্রিতে শেয়ারবাজারে স্পষ্ট চাপ তৈরি হয়েছে। লার্জ-ক্যাপ স্টকের ওপর বেশি সেলিং হওয়ায় সূচকগুলি দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। এর ফলে বাজারের বাড়ার চেয়ে হ্রাস প্রাপ্ত স্টকের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বাজারে তারল্য (liquidity) কমে যাওয়ায় ট্রেডার ও বিনিয়োগকারীদের মনোভাবেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এদিকে, FPI-দের বড় অংকের টাকা বেরিয়ে যাওয়ায় রুপির ওপরও চাপ বেড়েছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন রুপি দুর্বল হয়, তখন বিদেশি মুদ্রা প্রবাহ আরও কমে যায়, আমদানি খরচ বাড়ে, এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও অস্থিরতার সূচনা হয়।

BWI 600 x 200

Leave a Reply

Discover more from Buzy With Info

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading