Article By – সুনন্দা সেন

আজ দেশের শেয়ার বাজারে বড়সড় ধ্বস দেখা গেছে। বাজার মূল্য অনুযায়ী, একদিনেই বিনিয়োগকারীদের সম্পদের প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে বাজার সূত্রের অনুমান। সেনসেক্স ও নিফটি- দুটি সূচকই তীব্র চাপের মুখে পড়ে দিনের বড় অংশের লেনদেন সময়ে রেড জোনে তাদের ট্রেডিং চালিয়েছে। এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। আর সেগুলি হলো:
- সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে গ্লোবাল অনিশ্চয়তা ও দুর্বল আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে সাম্প্রতিক অস্থিরতা, সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি কমার আশঙ্কা ভারতীয় বাজারের মনোভাবকেও নেতিবাচক করেছে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে শেয়ার বিক্রির পথে হাঁটছেন।
- দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বা FII-দের বিক্রি। সাম্প্রতিক দিনে লাগাতার বিক্রির ফলে বড় বড় স্টক, বিশেষ করে ব্যাংকিং, IT এবং ধাতু খাতের শেয়ারে চাপ বেড়েছে। এফআইআই বিক্রি বাড়লেই বাজারে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে, আর আজ সেটাই দেখা গেছে।
- তৃতীয় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে রেকর্ড উচ্চতার পর প্রফিট বুকিং। গত কয়েক সপ্তাহে বাজারে ভালো র্যালির পর অনেক বিনিয়োগকারী লাভ নিশ্চিত করতে শেয়ার বিক্রি করছেন। এই প্রফিট বুকিং বড় ক্যাপ স্টক থেকে শুরু করে মিড ও স্মল ক্যাপ শেয়ারেও চাপ তৈরি করেছে।
- এর পাশাপাশি IT ও ব্যাংকিং শেয়ারের দুর্বল পারফরম্যান্স বাজারকে আরও নীচে নামিয়ে এনেছে। মার্কিন অর্থনীতি সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে আইটি শেয়ারগুলিতে বিক্রি বেড়েছে। অন্যদিকে, সুদের হার ও ঋণ বৃদ্ধির গতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ব্যাংকিং স্টকেও চাপ দেখা যাচ্ছে।
বাজারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার সংক্রান্ত আশঙ্কা। মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলে ভবিষ্যতে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকতে পারে—এই আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলছে। এর প্রভাব পড়ছে মূলধনী পণ্য ও সুদ-সংবেদনশীল খাতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজকের এই পতন আতঙ্কের কারণ হলেও এটিকে পুরোপুরি অস্বাভাবিক বলা যায় না। বড় র্যালির পর বাজারে সংশোধন স্বাভাবিক ঘটনা। তবে স্বল্পমেয়াদে বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে বলে সতর্ক করছেন তাঁরা।




