Article By – সুনন্দা সেন

গালফ অঞ্চলে একের পর এক হামলাও বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ভারতের বড় অঙ্কের বিনিয়োগের কৌশলেই পরিবর্তন আনছে। বিশেষ করে প্রাইভেট ইক্যুইটি বা PE বিনিয়োগকারীরা এখন শুধু কোনও সংস্থার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, মুনাফা কিংবা ভ্যালুয়েশন দেখেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। তারা তার সঙ্গে জিওপলিটিক্যাল রিস্ক, সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিস্থাপকতা এবং জ্বালানি মূল্যের ধাক্কার উপরও নজর রাখছে। আর মুম্বাইয়ের বিনিয়োগ বাজারে এর প্রভাব স্পষ্ট। গালফ বা পশ্চিম এশিয়ার মিশাইল স্ট্রাইকের মতো ঘটনা সাধারণত কোনও PE ডিল সরাসরি বন্ধ করে দিচ্ছে না।
কিন্তু ডিল ফাইনাল করার আগে বিনিয়োগকারীদের প্রশ্নের ধরন বদলে যাচ্ছে। সংস্থার অয়েল নির্ভরতা কতটা, আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন কতটা নিরাপদ, শিপিং রুট বিঘ্নিত হলে খরচ কত বাড়তে পারে এবং ভূ-রাজনৈতিক সংকট, দীর্ঘস্থায়ী হলে কোম্পানির ক্যাশ ফ্লো কতটা চাপের মুখে পড়বে? এসব এখন বড় বিবেচনা। আর এর অন্যতম কারণ এনার্জি এবং লজিস্টিকের ঝুঁকি সাথে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতা বাড়লে ক্রড অয়েল সরবরাহ, ট্যাঙ্কার মুভমেন্ট এবং শিপিং খরচের উপর চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় গালফ শিপিংয়েও ঝুঁকি বেড়েছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারত বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণ হারাচ্ছে। বরং বড় ছবিতে ভারত এখনও শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগের সুযোগের কারণে PF ক্যাপিটালের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। আর পরিবর্তন হচ্ছে মূলত মূলধন বরাদ্দের পদ্ধতিতে আগের মতো শুধু বেশি মূলধন বিনিয়োগ করার বদলে এখন বিনিয়োগকারীরা বেশি সিলেক্টিভ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ হচ্ছেন। অর্থাৎ গালফ ক্রাইসিস ভারতের জন্য শুধু তেলের দাম বা বাজারের অস্থিরতার সমস্যা নয়, এটি বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামোও বদলে দিচ্ছে।




