Article By – সুনন্দা সেন

ভারতীয় মুদ্রা বাজারে ক্রমশ বাড়ছে চাপ। মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপি ৯১-এর গুরুত্বপূর্ণ গন্ডি পেরিয়ে আরও দুর্বল স্তরে নেমে এসেছে। অর্থনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের এই পর্যন্ত বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা বা FPI ভারতীয় বাজার থেকে প্রায় ২৯,৩০০ কোটি টাকা তুলে নেওয়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ। বাজার সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক আর্থিক অনিশ্চয়তা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ স্তরে থাকার সম্ভাবনা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের প্রতি বাড়তি আগ্রহ হয়ে উঠেছে বিনিয়োগকারীদের উদীয়মান বাজার থেকে মূলধন সরিয়ে নেওয়ার মূল কারণ।
অনুমান করা যাচ্ছে যে এই সবের সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের মুদ্রা ও শেয়ার বাজারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলার সূচক শক্তিশালী হওয়া, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আমদানি বিল বেড়ে যাওয়ায় রুপির ওপর দ্বিমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি চলতি বছরের হিসাবে ঘাটতি বাড়তে পারার আশঙ্কা বাজারের মনোভাবকে দুর্বল করছে। আর FPI বিক্রির প্রভাব শুধু মুদ্রা বাজারেই সীমাবদ্ধ নেই। শেয়ার বাজারেও একাধিক সেশনে অস্থিরতা দেখা গেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক বিক্রির কারণে সূচকগুলিতে চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কিছুটা সমর্থন দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, রুপির এই দুর্বলতা স্বল্পমেয়াদে রপ্তানিকারকদের জন্য কিছুটা সুবিধাজনক হলেও, আমদানিনির্ভর শিল্প এবং জ্বালানি খাতে খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে তেল ও গ্যাস আমদানির খরচ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা RBI বাজারের উপর কড়া নজর রাখছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত অস্থিরতা ঠেকাতে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ করা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে RBI এখনই কোনও বড় নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়নি।




