Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের গত কয়েক বছরে ১ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি আকারে বহু IPO বাজারে এলেও অধিকাংশই বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত রিটার্ণ দিতে পারেনি। বড় ইস্যুগুলির তালিকাভুক্তির পর দুর্বল পারফর্ম্যান্স করেছে, “ফলে বড় IPO মানেই যে ভালো রিটার্ণের সুযোগ” ধারণাটি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সেই কনটেক্সে SBI ফান্ড ম্যানেজমেন্টের ৯,৮১৩ কোটি টাকার IPO-এর দিকে সকলের নজর ছিল তবে বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানির ব্যবসা শক্তিশালী হলেও IPO-এর মূল্যায়ন ইতিমধ্যেই বেশ বেশি ছিল।
SBI ফান্ড ম্যানেজমেন্ট দেশের বৃহত্তম অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বা AMC। মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত সংস্থার পরিচালনাধীন সম্পদ বা AUM (Assets Under Management)-এর পরিমাণ ছিল প্রায় ১২.৫ ট্রিলিয়ন টাকা। আর এটি স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা SBI- এর আমুন্ডির যৌথ উদ্যোগ। এদিয়ে ২০২৫-২৬ সালের আয়ের ৩৮ গুণ P/E-এ শেয়ারটির মূল্যায়ন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। যার ফলে তালিকাভুক্তির পর খুব বেশি দামের উত্থানের সুযোগ সীমিত হতে পারে। এছাড়া ভবিষ্যতে সেবির নতুন ফি কাঠামোর প্রভাব এবং AMC ইন্ডাস্ট্রিতে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতাও নজরে রাখার বিষয়। অন্যদিকে IPO-টি দ্বিতীয় দিনেই সম্পূর্ণ সাবস্ক্রাইপ হয়েছে।
SBI ফান্ড ম্যানেজমেন্টের IPO শুধু একটি কোম্পানির শেয়ারবাজারে আসার বিষয় নয়, এটি ভারতের প্রাইমারি মার্কেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এক্সপেরিমেন্ট। যদি এই IPO ভালো তালিকাভুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি রিটার্ণ দিতে পারে সেক্ষেত্রে বড় আকারের IPO-এর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং ভবিষ্যতের বড় ইস্যুগুলির জন্য ইতিবাচক বার্তা প্রদান করা হবে। তবে উচ্চ মূল্যায়নের কারণে দীর্ঘমেয়াদি রিটার্ণ শেষ পর্যন্ত কোম্পানির আয় বৃদ্ধি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্প্রসারণের উপরই নির্ভর করবে।




