Article By – সুনন্দা সেন

কমোডিটি মার্কেটে বড় ধাক্কা, মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে রূপোর দাম প্রায় ১২% হ্রাস পেয়ে প্রতি কেজির দাম ১.৬৬ লক্ষ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি সোনার দামেও বড় পতন লক্ষ্য করা হচ্ছে। ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ৯,০০০ টাকা কমেছে। এই হঠাৎ দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারী ও গয়না ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মেটাল ইন্ডাস্ট্রির উপর লক্ষ্য করা চাপের প্রভাবই ভারতীয় মেটাল মার্কেট, বিশেষ করে সোনা ও রূপোর দামে দরপতনের কারণ হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাথে রয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন দ্বারা প্রস্তাবিত বাজেট, ২০২৬-২৭।
এছাড়াও মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়া, মার্কিন বন্ডের ইয়িল্ড বৃদ্ধি এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকার আশঙ্কায় মূল্যবান ধাতু থেকে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের মুনাফা তুলে নিচ্ছেন। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সোনা ও রুপোর দামে। বিশেষ করে রুপোর ক্ষেত্রে পতন তীব্র হয়েছে। গত কয়েক মাসে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্ষেত্রের চাহিদা এবং বিনিয়োগের জেরে রুপোর দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানের প্রফিট বুকিং প্রবণতা রূপোর দামে হঠাৎ বড় সংশোধন দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তিন দিনের মধ্যে ১২% পতন রুপোর বাজারে বিরল।
সোনার দাম কমার পেছনেও একই ধরনের কারণ কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের বাজারে চাপ এবং দেশীয় বাজারে চাহিদা ক্ষেত্রে কিছুটা দুর্বল হওয়ায় দাম এক ধাক্কায় অনেকটা নেমেছে। তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে সোনা এখনও নিরাপদ বিনিয়োগ বিকল্প হিসেবেই বিবেচিত। অন্যদিকে, গয়না ব্যবসায়ীরা এই দরপতনকে স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক বলেই দেখছেন। তাঁদের মতে, দাম কমায় বিয়ের মরশুম ও উৎসবের আগে গয়নার চাহিদা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে দামের অস্থিরতা থাকায় ক্রেতারাও আপাতত সাবধানী অবস্থান নিচ্ছেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে সোনা ও রূপোর দাম নির্ভর করবে মার্কিন সুদের হার নীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ডলারের গতিবিধির উপর। স্বল্পমেয়াদে ওঠানামা থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে ধৈর্য রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।




