Article By – সুনন্দা সেন

বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং উত্তেজনার মাঝে স্টক মার্কেটের প্রতি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বিক্রির দিকে চালিত করে। এমন অবস্থায় সোনা হয়ে ওঠে নিরাপদ বিনিয়োগ বিকল্প, পাশাপাশি জায়গা করে নেয় এই সাদা ধাতু। চাহিদার বৃদ্ধির কারণে রুপোর দামও সোনার মতো বাড়তে থাকে এবং সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায় ধাতুটির দাম। দেশীয় রুপোর বাজারে সারা বছর তীব্র ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। আর আজ প্রাথমিক বাজারে সামান্য উত্থান বা বৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে। ২০ নভেম্বর রুপোর দাম প্রতি গ্রামে ৩ টাকা বৃদ্ধি পায় এবং প্রতি গ্রামের দাম দাঁড়ায় ১৭৩ টাকা। যেখানে ১ কেজি রুপোর জাম পৌঁছায় ১,৭৩,০০০ টাকা। তবে ১:৩০-এর পর মূল্যবান ধাতুটির দাম কিছুটা কমে প্রতি গ্রামে ১৬২.৩৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং প্রতি কেজিতে ১,৬২,৩৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বৃদ্ধি এবং পতনের মাত্রা পর্যালোচনা করার পরে সতর্ক করে জানিয়েছে যে এই প্রবণতা শীঘ্রই বিপরীতে যেতে পারে। কারণ বিয়ের মরশুম আসার সাথে জুয়েলারির চাহিদা বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে। বিশেষজ্ঞরা সেই বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, পুনরায় ক্রয় শুরু হবে এবং তার আগ্রহও ইতিমধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যার প্রভাব রুপোর দামেও পড়বে, আর দাম আরও বৃদ্ধি পাবে। আর তা ২০২৬ সাল আসার সাথে সাথে এই উর্ধ্বমুখী চক্রের সূচনা করতে পারে বলেও জানিয়েছেন। অবশ্য কেবল রুপোর জন্য নয় সোনার ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞদের মতামত একই ছিল বলে জানা যাচ্ছে। সাথে বিশেষজ্ঞ মহল উল্লেখ করেন যে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে এই দুই ধাতু নিরাপদ হিসাবে পরিচিত হওয়ায় বৃদ্ধি অনিবার্য।
বিশ্লেষকরা আরও বলেন যে, উৎসবের চাহিদার বাইরেও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যবহার রুপোর দীর্ঘমেয়াদী মূল্য পরিবর্তনকে প্রভাবিত করার আরও একটি প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় মূলত গহনা এবং ধর্মীয় জিনিসপত্রের সাথে যুক্ত এই ধাতুটি এখন আধুনিক প্রযুক্তিতে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটি মোবাইল ডিভাইস, কম্পিউটার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উৎপাদনে, পাশাপাশি দ্রুত বর্ধনশীল সৌরশক্তি খাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ত্বরান্বিত হওয়ার সাথে সাথে রুপোর উপর নির্মাতাদের নির্ভরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা একটি অপরিহার্য শিল্প ধাতু হিসাবে এর অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।




