Article By – সুনন্দা সেন

আজ (৬ জানুয়ারি, ২০২৬) মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা MCX-এ রুপোর দাম প্রায় ১.৪% বেড়ে ২,৪৯,৬০০ টাকা / প্রতি কেজিতে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী ট্রেন্ড, ডলারের দুর্বলতা এবং নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ার ফলে রুপোর দামে এই উত্থান দেখা গেছে। মাত্র এক দিনের মধ্যেই এত বড় দাম বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেটাল (ধাতু) হিসেবে রুপোর চাহিদা বাড়ছে। সোলার এনার্জি, EV এবং ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রিতে রুপোর ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে রুপোর চাহিদা শক্তিশালী থাকতে পারে।
পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিরাপদ অ্যাসেট হিসেবে রুপোর প্রতি বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ছে। অবশ্য বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সতর্ক বার্তাও কম নয়। বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, বর্তমান স্তরে রুপোর দাম তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এত দ্রুত দাম বাড়লে স্বল্পমেয়াদে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে, যার ফলে হঠাৎ দরপতনের ঝুঁকি থাকছে। বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি ট্রেডারদের জন্য অস্থিরতা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। অবশ্য এখনও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য রুপো এখনও আকর্ষনীয়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন ধাপে ধাপে বিনিয়োগ বা স্ট্যাগার্ড বাইং কৌশল গ্রহণ করতে। একবারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের বদলে বৈচিত্রতার সাথে বিনিয়োগে ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি সম্পূর্ণ পোর্টফোলিওর ছোট অংশই রুপোতে রাখা বুদ্ধিমানের। সোনার তুলনার রুপোর দাম ওঠানামা বেশি হওয়ায় বিনিয়োগের আগে নিজের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতাও যাচাই করা জরুরি। সাথে বাজারের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিলেই বিনিয়োগে লাভের সম্ভাবনা বাড়ে। তাই রুপোর দামে সাম্প্রতিক এই উত্থান সুযোগ তৈরি করলেও বিবেচনা না করে দামের পেছনে দৌড়ানো ঝুঁকিপূর্ণ।




