রিলায়েন্সের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি সম্প্রতি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের জন্য 1:1 রেশিও-তে বোনাস ইস্যুর কথা ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি ১টি শেয়ারের জন্য নতুন ১টি বোনাস শেয়ার ইস্যু হবে। চলুন দেখা যাক বোনাস শেয়ার কী।
বোনাস শেয়ার কী?
কোম্পানি যখন তার শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বিনামূল্যে অতিরিক্ত নতুন শেয়ার ইস্যু করে, তাকে বোনাস শেয়ার বলে। কেন ইস্যু করা হয় বোনাস শেয়ার? মূলত বিনিয়োগকারীদের পুরস্কৃত করতে ইস্যু করা হয় বোনাস শেয়ার। এবং শেয়ারহোল্ডাররা যাতে কোম্পানির আর্থিক সচ্ছলতা সম্পর্কে জানতে পারে তাই কোম্পানির রিজার্ভ বা মুনাফা অতিরিক্ত শেয়ারে রূপান্তর করা হয়।
জানেন কারা বোনাস শেয়ার পাওয়ার উপযোগী?
বোনাস শেয়ার আর কিছুই না বরং কোম্পানির পক্ষ থেকে শেয়ারহোল্ডারদের cash dividend-এর বদলে stock dividend, অর্থাৎ এটি একপ্রকারের dividend। ফলত, ডিভিডেন্ড পেতে হলে যেমন আপনাকে ex-date ও record date-এর আগে শেয়ার কিনতে হয়, তেমনই বোনাস পাওয়ার জন্যও আপনাকে এই দুটি বিশেষ দিন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হয়। সাধারণত ex-date-এর দুদিন পর রাখা হয় record date। আপনাকে ex-date-এর অন্তত একদিন আগে শেয়ার কিনতে হবে যদি আপনি বোনাস ইস্যুর সুযোগ নিতে চান। Ex-date-এর দিন বা তার পরে শেয়ার কিনলে বোনাসের সুবিধা পাবেন না।
বোনাস শেয়ার কয় ধরনের হয়?
বোনাস শেয়ারের দুরকম প্রকার রয়েছে –
(i) Fully Paid Bonus Shares: Fully paid bonus share বিনিয়োগকারীদের holding-এর অনুপাতে ইস্যু করা হয়। এইজন্য আলাদা করে কোনো টাকা ইনভেস্টারদের দিতে হয় না।
(ii) Partly Paid Bonus Shares: Partly paid bonus share-এর ক্ষেত্রে এগুলির জন্য আংশিক অর্থ প্রদান করা হয়। বিনিয়োগকারীরা এই প্রকার bonus share কেনার সময় মোট ইস্যু প্রাইসের আংশিক অর্থ প্রথমে প্রদান করেন। বাকি অর্থের জন্য কোম্পানি কল ইস্যু করলে সেই অর্থ ইনস্টলমেন্টে প্রদান করা যেতে পারে। এবং বাকি পুরো অর্থ প্রদানের পরই এইপ্রকার বোনাসের পূর্ণ অধিকার পাওয়া যায়।
বোনাস শেয়ার বিনিয়োগকারীদের কী সুবিধা দেয়?
Holding বাড়ে: অতিরিক্ত অর্থ খরচ না করেই বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত শেয়ার পান, ফলে শেয়ারের দাম বাড়লে ভবিষ্যতে লাভের সম্ভাবনা বাড়ে।
সম্ভাব্য বৃদ্ধি: যেহেতু outstanding শেয়ারের সংখ্যা বাড়ে, তাই এটি ভবিষ্যতে ভালো লাভজনক হতে পারে।
কোম্পানির প্রতি ভরসা বাড়ে: কোম্পানির ভাবমূর্তি উন্নত হয় এবং নতুন বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির প্রতি আকৃষ্ট হন।
তবে সুবিধার পাশাপাশি কিছু অসুবিধাও আছে বোনাস শেয়ারের। যেমন –
→ নগদ ডিভিডেন্ডের পরিবর্তে বোনাস শেয়ার ইস্যু করা হলে সেটা দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির আর্থিক উন্নতিতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
→ বোনাস শেয়ার সাময়িকভাবে EPS বা earning per share-এর মান কমিয়ে দেয় যেটা কোম্পানির জন্য ভালো লক্ষণ নয়।





