Article By – সুনন্দা সেন

শুক্রবার (৮আগস্ট) ভারতের মূল শেয়ার বাজারের সূচকগুলি প্রায় ১% হ্রাস পাওয়ার সাথে টানা ষষ্ঠ সপ্তাহে পতনের হার রেকর্ড করেছে। যা শেষ পাঁচবছরের মধ্যে দীর্ঘতম। মার্কিন প্রসেডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ফলে বাজারগুলি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন না যে মন্দার দিক থেকে দ্রুত মুক্তি পাবে বাজার। বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে প্রযুক্তি খাতে দ্রুত বিক্রি পাওয়ার সাথে পতন আরও বাড়বে। অ্যাক্সিস সিকিউরিটিজের টেকনিক্যাল এবং ডেরিভেটিভস রিসার্চের প্রধান রাজেশ পালভিয়া বলেন, বর্তমান সময়ের দুর্বল মনোভাবের কারণে বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আর বিক্রয়ের প্রান্তে দাঁড়িয়ে ভারত তথা বিশ্বের শেয়ার বাজার।
শুক্রবার NSE নিফটি ২৩২.৮৫ পয়েন্ট বা ০.৯৫% কমে ২৪,৩৬৩.৩- এ বন্ধ হয়েছে। BSE সেনসেক্স ৭৬৫.৪৭ পয়েন্ট বা ০.৯৫% কমে ৭৯,৮৫৭.৭৯- এ লেনদেন শেষ করেছে। টানা ষষ্ঠ সপ্তাহে প্রধান সূচকের ০.৮% থেকে ০.৯% সাপ্তাহিক পতন ২০২০ সালের এপ্রিলের পর থেকে দীর্ঘতম। ৯মে থকে প্রথমবারের মতো সেনসেক্স ৮০,০০০-এর নীচে বন্ধ হয়েছে। ২৭ জুন থেকে শেয়ার বাজারে পতন লক্ষ্য করা যায়। তারপর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত উভয় সূচক প্রায় ৫% কমেছে। এই কারণে BSE-এর মার্কেট ক্যাপ ১৬.৩ লক্ষ কোটি টাকা হারিয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা মাত্র ১,৯৩৩ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে। যার ফলে আগস্ট মাসে তাদের বিক্রির পরিমান প্রায় ১১,৩০০ কোটি টাকায় পৌছেছে। যেখানে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলি ৭,৭২৪ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আর এক সপ্তাহে এমন পতনের প্রবণতার অব্যাহত থাকলে বাজার অতিরিক্ত বিক্রির দিকে চলে যেতে পারে। কারণ কেবল ভারতের শেয়ার বাজার নয়, এশিয়ান শেয়ার বাজারের অবস্থান এক। কেবল মাত্র জাপান ১.৯% বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্টোদিকে চীন ০.১% হ্রাস পেয়েছে, হংকং ০.৯% হ্রাস পেয়েছে। সাউথ কোরিয়া ০.৫% হ্রাস পেয়েছে এবং তাইওয়ান ফ্ল্যাট রয়েছে। অবশ্য প্যান-ইউরোপ ইনডেক্স স্টক্স ৬০০, ০.১৯% বৃদ্ধি পেয়েছে। নিফটি VIX শুক্রবার ৩% বেড়ে ১২.০৩ স্তরে পৌঁছেছে। যা ইঙ্গিত দেয় যে বাজারে উদ্বেগ রয়েছে। অর্থাৎ শেয়ার বাজারের গতি ফেরার বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। উল্টে আরও পতন লক্ষ্য করা যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।




