Article By – সুনন্দা সেন

ডিসেম্বরের শুরুতেই ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা বা FPI বড় অঙ্কের অর্থ তুলে নিচ্ছেন, যার ফলে বাজারে চাপ ও অস্থিরতা বেড়েছে। ধারাবাহিক বিক্রির জেরে সেনসেক্স ও নিফটি সূচকে ওঠানামা বেড়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের মনোভাব কিছুটা সতর্ক হয়ে পড়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আউটফ্লোর পেছনে একাধিক বৈশ্বিক কারণ কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে সুদের হার দীর্ঘদিন উচ্চ থাকার আশঙ্কা, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং উন্নত অর্থনীতির বাজারে তুলনামূলক নিরাপদ রিটার্নের সম্ভাবনা। এই সব কারণেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে উদীয়মান বাজার থেকে অর্থ সরাচ্ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা।
FPI- এর বিক্রির সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেয়ার, ব্যাংকিং, IT ও ধাতু খাতে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে যেসব শেয়ারে সাম্প্রতিক মাসে শক্তিশালী উত্থান হয়েছে। পাশাপাশি FPI আউটফ্লোর প্রভাব পড়ছে রুপির উপরও, কারণ ডলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রার উপর চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে বাজারের জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী (DII) এবং খুচরো বিনিয়োগকারীরা এই সময়েও বাজারে সক্রিয়তা। মিউচ্যুয়াল ফান্ডে নিয়মিত SIP প্রবাহ এবং বীমা সংস্থাগুলির বিনিয়োগ বাজারকে বড় ধসের হাত থেকে রক্ষা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় বিনিয়োগকারীদের এই ধারাবাহিক সমর্থন না থাকলে বাজারে চাপ আরও বেশি হতে পারত।
দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষকদের মতামত তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক। ভারতের অর্থনৈতিক ভিত্তি এখনও শক্তিশালী; উচ্চ GDP বৃদ্ধির সম্ভাবনা, সরকারি ক্যাপেক্স ব্যয়, উৎপাদন ও পরিকাঠামো খাতে বিনিয়োগ, এবং কর্পোরেট আয়ের উন্নতি বাজারের জন্য সহায়ক। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে এফপিআই বিনিয়োগকারীরা আবার ভারতের বাজারে ফিরতে পারেন। অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদে FPI ইক্যুইটি আউটফ্লো বাজারে চাপ তৈরি করলেও, দেশীয় বিনিয়োগের শক্ত ভিত ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ভারতীয় শেয়ারবাজারের জন্য আশা ধরে রাখছে। বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, অস্থিরতার সময় আতঙ্কিত না হয়ে মৌলিকভাবে শক্তিশালী সংস্থার উপর নজর রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বজায় রাখা।




