Article By – সুনন্দা সেন

দেশের শেয়ারবাজারে আজও বিনিয়োগকারীদের মনোভাব নরমই রইল। টানা তৃতীয় দিনের মতো পতনের মুখ দেখল BSE Sensex এবং NSE Nifty 50, যা বাজারে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে। দিনের শেষে সেনসেক্স প্রায় ৫০৪ পয়েন্ট নেমে আসে, আর নিফটি ২৬,০৫০-এর নিচে গিয়ে লেনদেন শেষ করে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাবাহিক পতনের পেছনে মূলত দুইটি বড় কারণ কাজ করছে, প্রফিট-বুকিং এবং বিদেশি পুঁজি (FPI) প্রত্যাহার। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে যে র্যালি দেখা গিয়েছিল, তার সুযোগ নিয়ে অনেক বিনিয়োগকারী এখন লাভ তুলে নিচ্ছেন ফলে শেয়ারের দামে চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক বিক্রি।
মার্কিন বন্ড-ইয়িল্ড এবং ডলারের শক্তি বাড়ায় বিদেশি ফান্ডগুলি নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতীয় বাজারে। এই FPI আউটফ্লো রুপির ওপরেও চাপ বাড়িয়েছে, ফলে সামগ্রিক বাজার মনোভাব আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এছাড়া বৈশ্বিক বাজারেও আজ অস্থিরতা দেখা গেছে। পশ্চিমা দেশগুলিতে সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা, ক্রুড অয়েলের দামের ওঠানামা এবং কয়েকটি বড় প্রযুক্তি সংস্থায় ধীরগতির পূর্বাভাস সহ একাধিক বিষয় ভারতীয় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ব্যাংকিং, আইটি, অটো এবং মেটাল—চারটি বড় সেক্টরেই আজ ভারী বিক্রি হয়েছে। HDFC Bank, ICICI Bank, Infosys, TCS-এর মতো বড় স্টকগুলো চাপের মুখে পড়ায় সূচকে বড়সড় প্রভাব পড়েছে।
তবে বাজার পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি কোনো ‘trend reversal’ নয়; বরং সাময়িক সংশোধন। যা সুস্থ বাজারের কার্যক্রমের একটি স্বাভাবিক অংশ। তাদের মতে, বাজার বিগত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, ফলে সাময়িক এই প্রফিট-বুকিং অস্বাভাবিক নয়। এছাড়া রুপির স্থিতি উন্নত হলে এবং FPI প্রবাহ আবার স্বাভাবিক হলে বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কিছু ব্রোকারেজ হাউস বলছে, মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার সংক্রান্ত আগামী তথ্যগুলো বাজারের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। অবশ্য মিডিয়াম এবং স্মল সেক্টরের স্টকেও চাপ বাড়তে দেখা গেছে। Midcap ও Smallcap সূচকগুলোও আজ রেড জোনে বন্ধ হয়েছে, যা খুচরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আরও দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। তবে ডিফেন্স, টেলিকম ও সিলেক্টেড FMCG স্টকগুলো তুলনামূলকভাবে প্রতিরোধ দেখিয়েছে।




