Article By – সুনন্দা সেন

আগামী বছরে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা ও সুদের হারের সম্ভাব্য কাটতির জেরে ২০২৬ সালে সোনার দামে বড় রকমের উত্থান দেখা যেতে পারে, এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ। ইতিমধ্যেই গোল্ডম্যান স্যাচস, ওয়েলস Fargo এবং HSBC সহ একাধিক গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট হাউস সোনার জন্য প্রকাশ করেছে একটি শক্তিশালী ‘বুলিশ’ পূর্বাভাস। ২০২৬ সালকে ঘিরে সোনার বাজারে আশাবাদী জোরালো ইঙ্গিত স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের সম্ভাব্য র্যালি ভারতের খুচরা বাজারেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৬ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ৪,৫০০ থেকে ৫,০০০ মার্কিন ডলার প্রতি আউন্স পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। গোল্ডম্যান স্যাচস সরাসরি বলেছে, ডিসেম্বর ২০২৬-এ সোনার দাম প্রায় ৪,৯০০ ডলার/আউন্স ছুঁতে পারে, আর HSBC-এর মতে চরম বুলিশ পরিস্থিতিতে দাম ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। বিশ্ব সোনাপরিষদ (World Gold Council) আরও জানিয়েছে যে যদি ভূ-রাজনৈতিক চাপ, ব্যাংকগুলির সোনা কেনা এবং ডলার দুর্বল হওয়ার প্রবণতা বজায় থাকে, তাহলে ২০২৬ সালে সোনার দাম ১৫% থেকে ৩০% পর্যন্ত বাড়তে পারে। ভারতের বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক দামের সঙ্গে রুপি-ডলার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকলে ২০২৬ সালে ভারতে ২৪ ক্যারেট প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ১.২৫ লাখ টাকা থেকে ১.৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সোনার দাম সহজেই ১.৫ লাখ টাকার সীমা অতিক্রম করতে পারে। বিশেষত যদি মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে সুদের হার কমায় এবং বিশ্বব্যাপী নিরাপদ বিনিয়োগের প্রবণতা আরও বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির রেকর্ড পরিমাণ সোনা কেনা, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ, দুর্বল ডলার এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সহ একাধিক বিষয় সোনার বাজারকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।




