Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং আর্থিক বাজারের ওঠানামার মধ্যে মূল্যবান ধাতু বিনিয়োগের নির্ভরযোগ্য বিকল্প হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সোনা, বহুদিন ধরেই বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত। ২০২৫ সালে রেকর্ড দামের পর, বিশেষজ্ঞদের মতে ২০২৬ সালেও সোনা সম্পদ গঠনের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারে। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন্ড, আর সেগুলি হলো;
- প্রথমত, নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা। বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে দূরে সরে নিরাপদ বিকল্প খুঁজছেন। এই পরিস্থিতিতে সোনার প্রতি চাহিদা বাড়ছে এবং ২০২৬ সালেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
- দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির ধারাবাহিক সোনা কেনা। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সোনার অংশ বাড়াচ্ছে। এই দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত চাহিদা সোনার দামে শক্ত ভিত তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতেও দামকে সহায়তা করবে।
- তৃতীয়ত, সুদের হার ও ডলারের গতিপথ। যদি মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভসহ বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলি সুদের হার কম রাখে বা বাস্তব সুদের হার নিম্নমুখী থাকে, তাহলে সোনার মতো নন-ইন্টারেস্ট বেয়ারিং সম্পদের আকর্ষণ বাড়ে। একই সঙ্গে দুর্বল ডলার সাধারণত সোনার দাম বাড়াতে সহায়ক হয়।
- চতুর্থত, ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ বা এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও বাণিজ্য উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক রাখছে। ইতিহাস বলছে, এমন সময়ে সোনা দীর্ঘমেয়াদে সম্পদের মূল্য রক্ষা করতে সাহায্য করে।
- পঞ্চমত, পোর্টফোলিও ডাইভার্সিফিকেশনে সোনার ভূমিকা। শেয়ার ও বন্ডের পাশাপাশি সোনা রাখলে ঝুঁকি কমে। ইটিএফ, ডিজিটাল গোল্ড ও বার-কয়েনের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও এখন সহজে সোনায় বিনিয়োগ করতে পারছেন, যা চাহিদাকে আরও শক্তিশালী করছে।
বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী ২০২৬ সালেও সোনা কেবল অলংকার নয়, বরং একটি কৌশলগত সম্পদ হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে। দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ গঠন ও অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য সোনা এখনও বিনিয়োগকারীদের কাছে ভরসাযোগ্য বিকল্প হয়ে থাকতে পারে।




