সোনা নিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনা সম্পর্কে কোনো দ্বিমত নেই। যুগ যুগ ধরে এই হলুদ ধাতুটির প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে সকল ভারতবাসীর। সোনা কেবলমাত্র তার আর্থিক মূল্যের ভিত্তিতেই ভারতীয়দের মনে জায়গা করেছে তা নয়, সোনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে ভারতীয়দের ভাবাবেগ, অনুভূতি। তবে সোনায় বিনিয়োগ করার জন্য ফিজিক্যাল গোল্ড যেমন সোনার গয়না, সোনার কয়েন ইত্যাদি একেবারেই ভালো বিকল্প নয়, কারণ এতে দাম অনেক বেড়ে যায় মেকিং চার্জের কারণে। সেইজন্য সোনায় বিনিয়োগের সবচেয়ে ভালো উপায় হল SGB বা সোভারিন গোল্ড বন্ড। কিন্তু এখানে আপনি সবসময় বিনিয়োগ করতে পারবেন না। RBI নির্দিষ্ট সময় পর পর SGB ইস্যু করে এবং আপনাকে সেইসময়ই বিনিয়োগ করতে হবে। SGB ছাড়া আরও কয়েকটি উপায়ে আপনি সোনায় বিনিয়োগ করতে পারেন। সেরকমই দুটি উপায় হল Gold mutual fund ও Gold ETF। আজকে আমরা এই দুটি বিষয় নিয়েই আলোচনা করব।
Gold fund এবং Gold ETF, দুটোই ফিজিক্যাল গোল্ডের বিকল্প কারণ এতে আক্ষরিকভাবেই কাগজে কলমে আপনি সোনায় বিনিয়োগ করবেন এবং এর দাম বর্তমান সোনার দামের কাছাকাছি থাকে। সেই কারণে ফিজিক্যাল গোল্ডের তুলনায় এদের দাম কম হয়।
Gold Mutual Fund কী?
→ আমরা যেমন বিভিন্ন mutual fund-এ বিনিয়োগ করি, ঠিক তেমনই একটি ফান্ড হল gold mutual fund।
→ Gold fund কোথায় invest করে জানেন? মূলত এরা ফিজিক্যাল গোল্ডে ইনভেস্ট করে বা সোনা প্রস্তুত বা ডিস্ট্রিবিউট করে এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে অথবা গোল্ড মাইনিং কোম্পানিগুলিতে invest করে।
→ অর্থাৎ gold fund-এ যদি আপনি বিনিয়োগ করেন তাহলে পরোক্ষভাবে আপনি ফিজিক্যাল গোল্ডেই invest করলেন কিন্তু আপনাকে নিজেকে ফিজিক্যাল গোল্ড হোল্ড করত হল না।
→ যেহেতু এই ফান্ড পরোক্ষভাবে ফিজিক্যাল গোল্ডেই বিনিয়োগ করছে তাই ফান্ডের অ্যাসেট প্রাইস বাজারের সোনার দামের উপর ভিত্তি করে বাড়ে কমে।
Gold ETF কী?
→ Gold ETF বা Exchange Traded Fund mutual fund-এর মতোই একটি ফান্ড যা সোনায় বিনিয়োগ করে।
→ Gold ETF শেয়ারের মতো শেয়ার বাজারে কেনাবেচা করা যায়।
→ Gold ETF-এর underlying asset হল সোনা এবং এটি সোনার দামকে ট্র্যাক করে।
Gold fund বা gold ETF-এ বিনিয়োগের সময়ে কী খেয়াল রাখবেন?
→ স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত : দীর্ঘমেয়াদে সোনার দাম fluctuate করতে পারে ফলে অনেকসময়ে দেখা গেছে দীর্ঘমেয়াদে সোনা থেকে রিটার্ন কমে 10%-এর কাছাকাছি হয়েছে। ফলে এই ধরনের বিনিয়োগ স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদে করা উচিত।
→ ফান্ড ম্যানেজার দেখা : Gold ETF বা fund-এর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কম expense ratio দেখলেই হবে না। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ফান্ডটি অতীতে কেমন পারফর্ম করেছে এবং ফান্ড ম্যানেজার কত ভালোভাবে ফান্ডটি ম্যানেজ করে সেটি দেখা প্রয়োজন।
→ সোনার দামে নজর রাখা : সোনার দামে নজর রাখা বিশেষ দরকার। এতে বিনিয়োগকারীরা বুঝতে পারবেন কখন কম দামে ETF বা Gold fund কিনে কখন দাম বাড়লে বিক্রি করা যাবে।
→ বিশাল রিটার্ন নয় : সোনাকে একটি hedge investment হিসাবে দেখা হয় অর্থাৎ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে সোনায় বিনিয়োগ করা যায়। তাই পোর্টফোলিওর 5%-10% সোনায় বিনিয়োগ করা যেতে পারে।





