Debt ও equity market ভিন্ন ভিন্ন দুটি উদ্দেশ্য নিয়ে চলে। Debt market-এ বন্ডের মতো সম্পদ কেনাবেচা চলে, অর্থাৎ যেগুলি ঋণ বোঝায়। আর অন্যদিকে, স্টকের মতো সম্পদের ট্রেডিং হয় ইক্যুইটি মার্কেটে, যা কোম্পানির অংশীদারিত্ব বোঝায়। রিটার্নের কথা যদি ধরা হয় তাহলে ঋণ সম্পদে বিনিয়োগে ইন্টারেস্ট বা সুদ পাওয়া যায়, আর ইক্যুইটিতে বিনিয়োগে কোম্পানির লভ্যাংশ ও মূলধন বৃদ্ধির সুযোগ পাওয়া যায়। ইক্যুইটি বলতে যেখানে কোম্পানির নিজস্ব মূলধন বোঝায়, সেখানে debt বলতে সেই মূলধন বোঝায় যা কোম্পানি ধার করেছে। Debt ও equity-র মধ্যে তাদের বৈশিষ্ট্য, ঝুঁকি, রিটার্ন ইত্যাদি অনুযায়ী প্রচুর পার্থক্য আছে।
দেখে নেওয়া যাক, debt ও equity market-এর মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে—
| বিবরণী | ইক্যুইটি মার্কেট | ডেট মার্কেট |
| সংজ্ঞা | কোম্পানির মালিকানার অংশীদারিত্ব বোঝায় ইক্যুইটি। | ডেট বলতে ঋণ নেওয়া মূলধন বোঝায়। |
| কারা ইস্যু করে | SEBI দ্বারা নিবন্ধিত কোম্পানিগুলি ইস্যু করে থাকে ইক্যুইটি। | সাধারণত, সরকার ও কর্পোরেশন ইস্যু করে থাকে ডেট। |
| ঝুঁকি | বাজারের ওঠানামার কারণে ইক্যুইটি মার্কেটের ঝুঁকি বেশি থাকে। | ডেট মার্কেট তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষত সরকারি ঋণগুলি অনেক কম ঝুঁকির, তবে কর্পোরেট বন্ডে সামান্য ঝুঁকি থাকে। |
| রিটার্ন | প্রতিনিয়ত ট্রেডিংয়ের কারণে মূলধন বৃদ্ধিজনিত লাভ ও লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড থেকে রিটার্ন আসে। তবে মার্কেট অনেক বেশি অস্থির থাকায় রিটার্ন স্থির নয়। | বন্ড ইস্যুকারী সংস্থা যে সুদ প্রদান করে সেটিই ডেট মার্কেটের রিটার্ন। এবং সাধারণত ডেট মার্কেট অনেক বেশি স্থির। |
| বিনিয়োগকারীর ধরন | যেহেতু কোম্পানির মালিকানার একটি অংশ পাওয়া যায় তাই এই মার্কেটে বিনিয়োগকারীদের শেয়ারহোল্ডার বলা হয়। | ডেট মার্কেটে যাঁরা বিনিয়োগ করেন তাঁরা আসলে ঋণদাতা, এই বিনিয়োগকারীরা হয় কোম্পানি বা সরকারকে ঋণ দিয়ে থাকে। |
| নিয়ন্ত্রক | ইক্যুইটি বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হল Securities and Exchange Board of India। | RBI(Reserve Bank of India) এবং SEBI(Securities and Exchange Board of India) নিয়ন্ত্রণ করে ডেট মার্কেট। |
কীভাবে কাজ করে ইক্যুইটি বাজার?
স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলির শেয়ারের কেনাবেচাকেই ইক্যুইটি ট্রেডিং বলে। যখন আপনি কোনো কোম্পানির শেয়ার বা ইক্যুইটি কেনেন তখন আপনি সেই কোম্পানির মালিকানার একটি অংশ পান। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা যদি কোনো কোম্পানির 50% শেয়ার হোল্ড করে থাকে তাহলে সেই সংস্থা বা ব্যক্তি কোম্পানিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানার অধিকারী হয়।
ডেট মার্কেটের তুলনায় এই ইক্যুইটি মার্কেট অনেক বেশি ঝুঁকিসম্পন্ন। কোম্পানির শেয়ার প্রতিদিন মার্কেট চলাকালীন ট্রেড করা হয়। ফলে ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্টের রিটার্ন অনেক বেশি ভোলাটাইল। তবে ঝুঁকি বেশি থাকায় বেশি রিটার্নের সুযোগও রয়েছে এখানে।
শেয়ার বাজার বা ইক্যুইটি বাজারে বিনিয়োগের আগে যথেষ্ট পড়াশোনা এবং জ্ঞানের প্রয়োজন। যে-কোনো বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে জেনে বিনিয়োগ করতে হবে। কোম্পানির আর্থিক ফলাফল, ব্যালেন্স শিট, ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি দেখে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।
কারা বিনিয়োগ করবেন ইক্যুইটি মার্কেটে?
- বেশি ঝুঁকি নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন যে বিনিয়োগকারীরা তাঁরা ইক্যুইটি মার্কেটে বিনিয়োগের কথা ভাবতে পারেন। কোম্পানির ফলাফল, দেশের আর্থিক পরিস্থিতি, বাজারের মনোভাব ইত্যাদি একাধিক কারণে শেয়ারের দাম ওঠানামা করে। ফলে বিনিয়োগকারীকে সেই ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।
- শেয়ার মার্কেটে এমন অনেক সময় এসেছে যখন মার্কেট স্বল্পমেয়াদে প্রচুর ভোলাটাইল হয়েছে। এইরকম পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে হবে, তবেই ভালো রিটার্ন জেনারেট করা সম্ভব।
- কোম্পানি সম্পর্কে রিসার্চ প্রয়োজন। ব্যবসার ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিস করা, প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি সম্পর্কে জানা, ইন্ডাস্ট্রি ট্রেন্ড কোনদিকে সেই বিষয়ে বোঝা ইত্যাদি দরকার।
ডেট মার্কেট কীভাবে কাজ করে?
ইক্যুইটির একেবারে উল্টো হল ডেট, এটি নিজস্ব মূলধন নয় বরং ঋণ মূলধন বোঝায়। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার সরকারি সম্পদ অথবা বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। কোনো বিনিয়োগকারী যখন এই ধরনের বন্ড বা সরকারি সম্পদে বিনিয়োগ করে তখন তাঁরা সরকারকে অর্থ ঋণ দেয় এবং তার জন্য নিয়মিত ব্যবধানে সুদ পেয়ে থাকে। বন্ডের মেয়াদ শেষে আসল অর্থ অর্থাৎ principle money ফেরত পাওয়া যায়। সরকারের মতো বেসরকারি সংস্থাও কর্পোরেট বন্ড ইস্যু করে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে।
সরকারি বন্ডগুলি স্থায়ী ইন্টারেস্ট রেটের মাধ্যমে নিশ্চিত রিটার্ন প্রদান করে। ফলে সরকারি বন্ড ঝুঁকিবিহীন একটি বিনিয়োগ। আবার কর্পোরেট বন্ডের ক্ষেত্রে কোম্পানির ডিফল্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, ফলে কর্পোরেট বন্ডে কিছুটা ঝুঁকি থেকে যায়।
ডেট মার্কেটে বিনিয়োগে বিশেষ রিসার্চ বা গবেষণার সাধারণত প্রয়োজন পড়ে না। তবে কর্পোরেট বন্ডের ক্ষেত্রে বন্ড ইস্যুকারী কোম্পানির আর্থিক দিক আগে থেকে জেনে রাখা দরকার।
কারা বিনিয়োগ করবেন ডেট মার্কেটে?
- কম ঝুঁকি নিতে অভ্যস্ত বিনিয়োগকারীরা ডেট মার্কেটে বিনিয়োগ করতে পারেন।
- যে সমস্ত বিনিয়োগকারীরা চান নিজেদের বিনিয়োগ সময়ে সময়ে গ্রো করবে, তবে তাঁরা প্রত্যক্ষভাবে পরিচালনার পরিবর্তে পরোক্ষ পরিচালনা করতে চান তাঁরা ডেট মার্কেটে বিনিয়োগ করতে পারেন। কারণ ডেট মার্কেটে বিনিয়োগে বিশেষ গভীর রিসার্চ দরকার পড়ে না।
- কম ঝুঁকির সাথে সাথে স্থায়ী রিটার্ন আশা করলে ডেট মার্কেটে বিনিয়োগের কথা বিবেচনা করা যায়।
কীভাবে ইক্যুইটি মার্কেটে বিনিয়োগ করবেন?
→ সরাসরি বিনিয়োগ : স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে সরাসরি শেয়ার কিনে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এই জন্য কোম্পানির ব্যাপারে রিসার্চ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
→ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ : সরাসরি একটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ না করে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে একসঙ্গে একাধিক কোম্পানির ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সরাসরি বিনিয়োগের মতো বিশাল রিসার্চের দরকার পড়ে না এবং ঝুঁকিও অনেক কম। আপনার ফান্ডটি দেখাশোনার জন্য দক্ষ ফান্ড ম্যানেজার উপস্থিত থাকে। ফান্ড ম্যানেজার বিনিয়োগকারীর হয়ে শেয়ারের কেনাবেচা করেন এবং এই কাজের জন্য নির্ধারিত ফি বিনিয়োগকারীদের প্রদান করতে হয়।
কীভাবে ডেট মার্কেটে বিনিয়োগ করবেন?
→ সরাসরি বিনিয়োগ : কর্পোরেট বন্ডের ক্ষেত্রে ইস্যুকারী কোম্পানির প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে সরাসরি বিনিয়োগ করা যেতে পারে। RBI-এর দ্বারা পরিচালিত নিলামের মাধ্যমে সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
→ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ : ডেট মার্কেটে বিনিয়োগের পরোক্ষ একটি উপায় হল মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এখানেও ফান্ডের ম্যানেজার বিনিয়োগকারীর হয়ে ফান্ডের উদ্দেশ্য ও বাজার পরিস্থিতি দেখে সরকারি সম্পদে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। ডেট ফান্ড ও হাইব্রিড ফান্ড ইক্যুইটির পাশাপাশি ডেট মার্কেটে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়।
ইক্যুইটি ও ডেট মার্কেটে আপনি সরাসরি বিনিয়োগ করতে পারেন অথবা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে পারেন। আপনার ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা, বিনিয়োগ কৌশল ইত্যাদি বিবেচনা করে তবেই যে-কোনো একটি উপায়ে ডেট বা ইক্যুইটি বাজারে বিনিয়োগ করতে পারেন।






