Mutual fund-এ দুইভাবে বিনিয়োগের উপায় রয়েছে– এক হল lumpsum আর দ্বিতীয় হল SIP। আজকের দিনে lump sum-এর তুলনায় SIP-র জনপ্রিয়তা বেশি। মিউচ্যুয়াল ফান্ডে Systematic Investment Plan-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগের ডিসিপ্লিন তৈরি হয় এবং একইসাথে আর্থিক লক্ষ্য অনুযায়ী আপনি আলাদা আলাদা SIP-র মাধ্যমে তা পূরণ করতে পারেন। আজকে আমরা আলোচনা করব SIP কী, কীভাবে SIP করবেন এবং SIP-র তিনটি সুবিধা আপনাদের জানাব।
SIP কী?
নির্দিষ্ট সময় পর পর মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের একটি মাধ্যম হল SIP। প্রতি মাসে বা প্রতি ত্রৈমাসিকে বা ৬ মাসে একবার – এইভাবে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা যাবে SIP-র মাধ্যমে। সাধারণত প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা SIP-র মাধ্যমে ব্যাংক থেকে কেটে যায়। এইভাবে প্রতিমাসে স্বল্প পরিমাণ বিনিয়োগ আপনাকে নিজের আর্থিক লক্ষ্যে পৌঁছতে সাহায্য করবে।
কীভাবে কাজ করে SIP?
আপনি যখন মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের জন্য SIP মাধ্যম বেছে নেন তখন আপনার বিনিয়োগ একেবারে অর্থাৎ lumpsum-এ না হয়ে প্রতি মাসে হয়। এবার আপনাকে বুঝতে হবে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে কীভাবে কাজ হয়। যখনই আপনি মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করছেন, SIP বা lump sum, যেভাবেই হোক না কেন, আপনি ফান্ডের unit purchase করছেন। এই Unit-এর একটি NAV বা net asset value থাকে। আপনাকে current NAV-তে unit purchase করতে হবে। তারপর আপনার টাকাটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড একাধিক অ্যাসেট ক্লাসে বিনিয়োগ করে। এতে unit-এর দাম বাড়ে অর্থাৎ NAV বাড়ে এবং আপনি চাইলে unit sell করে টাকা redeem করতে পারেন। SIP করতে হলে আপনাকে প্রথমেই ফান্ড নির্বাচন করতে হবে যেখানে আপনি SIP করতে চান। নিজের আর্থিক লক্ষ্য, চাহিদা ও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বুঝে আপনি নির্বাচন করতে পারেন পছন্দমতো fund। তারপর কোন্ frequency-তে আপনি SIP করতে চান সেটি ঠিক করুন। সাধারণত monthly SIP বেশি জনপ্রিয়। কত টাকার SIP করতে চান সেটি নির্দিষ্ট করার পর ব্যাংকে একটি স্ট্যান্ডিং ইনস্ট্রাকশন দিতে পারেন যাতে প্রতি মাসের নির্দিষ্ট একটি দিনে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কেটে যায়। মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিশেষজ্ঞরা মনে করেন lump sum-এর বদলে SIP বেশি উপযোগী। কারণ দীর্ঘমেয়াদে একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা invest করলে maturity amount-এর পরিমাণ অনেকটাই বেশি হয়। পাশাপাশি যাঁরা চাকরি করেন তাঁরাও সহজেই নিয়মিত অল্প অল্প পরিমাণ SIP-র মাধ্যমে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন, এটা তাঁদের জন্য বেশি সুবিধাজনক, lumpsum-এর তুলনায়।
কী কী সুবিধা রয়েছে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে SIP-র মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে?
→ বাজারের ওঠানামা ইনভেস্টমেন্টে প্রভাব ফেলে না:
অর্থনীতি শেয়ার বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে অর্থনীতিতে যেমন ওঠানামা আছে, তেমনই শেয়ার বাজারও অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে বাজারে মন্দার সময়ে তা আপনার আর্থিক ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু SIP করলে আপনাকে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ভাবতে হবে না। কারণ এখানে প্রতি মাসে আপনি অল্প অল্প করে invest করছেন। ফলে যখন বাজার নিম্নমুখী থাকছে NAV কমে গেলেও আপনি বেশি unit কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। আবার market high থাকলে কম unit কেনা যাচ্ছে। ফলে সবশেষে প্রতিটি unit-এর গড় দাম আরও সস্তা হচ্ছে এবং rupee-cost-এর একটি ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে। সেই কারণে বাজার নিম্নমুখী বা ঊর্ধ্বমুখী যা-ই থাকুক না কেন, আপনার SIP investment-এ তার প্রভাব পড়বে না, আর তাই বাজার পরিস্থিতি দেখে কখনোই SIP skip বা বন্ধ করবেন না।
→ অল্প টাকায় বিরাট corpus তৈরির সুযোগ: SIP-র আরও একটি সুবিধা হল এখানে আপনি প্রতি মাসে ৫০০ টাকার মতো ন্যূনতম অর্থ invest করার সুযোগ পান। আবার কোনো কোনো স্কিমে ১০০ টাকা থেকেও বিনিয়োগ শুরু করা যায়। ফলে প্রতি মাসের অল্প অল্প বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে ভালো পরিমাণ অর্থ জমাতে সাহায্য করে। এর প্রধান কারণ হল compounding। মিউচ্যুয়াল ফান্ডে আপনি যে return পাচ্ছেন সেটা আবার invest হয়ে যাচ্ছে এবং আপনি return-এর উপর আবার রিটার্ন পাচ্ছেন। যার কারণে প্রতি মাসের সামান্য বিনিয়োগও পরবর্তীতে ভালো অর্থ তৈরি করতে সাহায্য করে। যেমন ধরুন আপনি ২৫ বছর বয়স থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কোনো ফান্ডে ১০০০ টাকা করে বিনিয়োগ করছেন। আমরা ধরে নিচ্ছি ফান্ডটি থেকে আপনি 12% রিটার্ন পাচ্ছেন। তাহলে ২৫ বছর পর অর্থাৎ আপনার বয়স যখন ৫০ বছর হবে আপনার টোটাল করপাস দাঁড়াবে প্রায় ২০ লাখ টাকার মতো, শুধু একটা SIPথেকেই। এবার যদি আপনি প্রতি বছর step up করেন অর্থাৎ প্রতি বছর 10% করে investment amount বাড়ান তাহলে maturity amount আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
→ বিনিয়োগে নিয়মানুবর্তিতা তৈরি: অনেকের মধ্যেই বিনিয়োগ নিয়ে নিয়মানুবর্তিতা থাকে না। কোনো মাসে তাঁরা বিনিয়োগ করেন আবার কখনও করেন না। SIP investment-এ যেহেতু প্রতি মাসে আপনাকে নিয়ম করে একটা টাকা জমা করতেই হচ্ছে রেকারিং ডিপোজিটের মতো তাই আপনার বিনিয়োগে সুন্দর শৃঙ্খল তৈরি হয়। আপনি নিয়ম করে অন্যান্য খরচের আগে যেহেতু SIP টাকা জমা করছেন সেই কারণে বিশেষ ভাবনাচিন্তা না করেই ভালোভাবে টাকা invested হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, SIP-র অ্যামাউন্ট আপনি আপনার সুবিধামতো বাড়াতে বা কমাতে পারেন, ফলে এটি আপনার পকেটে খুব বেশি চাপও ফেলে না।





